কোষবিদ্যার সংজ্ঞা (Definition of Cytology)
দুইটি গ্রীক শব্দ Kytos অর্থ কোষ এবং logos অর্থ আলোচনা নিয়ে Cytology শব্দটি গঠিত। Cytology এর অর্থ কোষ নিয়ে আলোচনা। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় কোষের আকার, আকৃতি, গঠন, বৃদ্ধি, বিকাশ ও কার্যাবলী নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে কোষবিদ্যা বা Cytology বলে। সাইটোলজির জনক হলো Robert Hooke (১৬৩৫–১৭০৩)। তবে আধুনিক সাইটোলজির জনক হলো Carl P. Swanson (১৯১১–১৯৯৬)।
কোষের আকৃতি (Shape of Cell)
বিভিন্ন কোষের আকৃতি বিভিন্ন রকম হয়। এরা গোলাকার, ডিম্বাকার, আয়তাকার, বৃত্তাকার, লম্বাকার, চ্যাপ্টা, সূঁচালো, মাকু আকৃতির, বহুভূজাকার প্রভৃতি হতে পারে।
কোষের আয়তন (Size of Cell)
অধিকাংশ কোষই আণুবীক্ষণিক এবং ২০–৩০ মাইক্রোমিটার হয়ে থাকে। সবচেয়ে ছোট কোষ হলো Mycoplasma (PPLO-Pleuro Pneumonia Like Organism ) যার ব্যাস ০.১ মাইক্রোমিটার। সবচেয়ে বড় কোষ হলো উট পাখির ডিম হলো (১৭ х ১২.৫ সেমি)। মানব দেহের সবচেয়ে ছোট কোষ শুক্রাণু এবং সবচেয়ে বড় কোষ ডিম্বাণু (ব্যাস ০.১ মিমি)। মানুষের মটর নিউরন কোষ ১.৩৭ মিটার লম্বা (স্পাইনাল কর্ডের গোড়া থেকে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল পর্যন্ত) । উদ্ভিদ জগতের সবচেয়ে বড় কোষ Acetabularia (শৈবাল) (০.৫–১০ সেমি) এবং সবচেয়ে লম্বা কোষ রেমি উদ্ভিদের (Bochmeria nivela) তন্তু (৫৫ মিটার)। তুলা, পাট, তালগাছ প্রভৃতির কোষ বেশ লম্বা।
কোষের সংখ্যা (Number of cell)
কোন কোন জীব একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত (Amoeba, Paramecium)। অনেক কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বহুকোষী জীব বলে। মানব দেহে ১০০ ট্রিলিয়ান কোষ থাকে।
পরিমাপের একক (Units of measurement)
কোষ পরিমাপের একক হলো মিটার (M), ডেসিমিটার (dm), সেন্টিমিটার (cm), মিলিমিটার (mm), মাইক্রোমিটার বা মাইক্রন (µ), ন্যানোমিটার (nm) এবং অ্যাংস্ট্রম (Å)।
১ মিটার = ১,০০০,০০০,০০০ ন্যানোমিটার = ১,০০০,০০০ মাইক্রোমিটার = ১০০০ মিমি = ১০০ সেমি
১ সেমি = ১০ মিমি = ১/১০০ মিটার
১ মিমি = ১/১০ সেমি = ১/১০০০ মিটার
১ মাইক্রোমিটার = ১/১০,০০০ সেমি = ১/১,০০০,০০০ মিটার
১ ন্যানোমিটার = ১/১০, ০০০,০০০ সেমি = ১/১,০০০,০০০,০০০ মিটার
১ nm = ০.০০১ μm = ১০ Å