১। মানুষের রোগ (Human diseases)ঃ ছত্রাকঘটিত রোগগুলোকে একত্রে মাইকোসিস এবং অ্যাস্পারজিলোসিস বলা হয়।
(i) Trichoderma Candida ছত্রাক মানুষের পুরুষাঙ্গে রোগ সৃষ্টি করে।
(ii) Aspergillus flavus ও Blastomyces dermatitidis ছত্রাক ফুসফুসের কক্সিডিওমাইকোসিস রোগ সৃষ্টি করে। এই রোগটি ক্যালিফোর্নিয়া জ¦র নামে পরিচিত।
(iii) Candida albicans ছত্রাক নাক, মুখ ও গলায় ক্যানডিডিয়াসিস সৃষ্টি করে।
(iv) Microsporium ছত্রাকের আক্রমণে মাথার চুল পড়ে টাক হয়।
(v) ছত্রাকজনিত চর্মরোগকে ডার্মাটোমাইকোসিস বলে। Trichophyton rubrum নামক ছত্রাক মানুষের দাদরোগ সৃষ্টি করে।
(vi) Absidia corymbifera ছত্রাকের আক্রমণে মানুষের ব্রঙ্কোমাইকোসিস রোগ হয়।
(vii) Mucor ও Rhizopus ছত্রাক মানুষের মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও খাদ্য নালিতে জাইগোমাইকোসিস রোগ সৃষ্ট করে।
(viii) Alternaria, Aspergillus, Fusarium ও Hormodendrum ছত্রাক মানুষের এলার্জি সৃষ্টি করে।
২। উদ্ভিদের রোগ (Plant diseases)ঃ ফসলী উদ্ভিদের ব্লাইট, ব্লাস্ট, রট, মিলডিউ প্রভৃতি রোগ ছত্রাক সৃষ্টি করে।
(i) Helminthosporium oryzae ছত্রাক ধানের ব্লাইট বা বাদামী দাগ রোগ সৃষ্টি করে। এই রোগটির কারণে ১৯৪২ সালে তৎকালিন বাংলায় দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। Pyricularia oryzae ছত্রাক ধানের ব্লাস্ট রোগ সৃষ্টি করে।
(ii) Phytophthora infestans ছত্রাক আলুর লেট ব্লাইট বা বিলম্বিত ধ্বসা রোগ সৃষ্টি করে। এই রোগটির কারণে ১৮৪৩-৪৭ সালে আয়ারল্যান্ডে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং দশ লক্ষ লোক মারা যায়। Alternaria solani ছত্রাক আলুর আরলি ব্লাইট রোগ সৃষ্টি করে।
(iii) Puccinia graminis tritici ছত্রাক দ্বারা গমের মরিচা রোগ সৃষ্টি হয়। Erysiphe graminis tritici ছত্রাক গমের পাউডারী মিলডিউ রোগ সৃষ্টি করে।
(iv) ১৭২২ সালে পিটার দ্যা গ্রেট তুরস্ক দখল করতে যায়। সেখানে আরগোট আক্রান্ত রাই খেয়ে তার শতাধিক ঘোড়া পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং বহু লোক মারা যায়।
(v) Colletotrichum falcatum ছত্রাক দ্বারা আখের লাল পচা রোগ সৃষ্টি হয়।
(vi) ) Exobasidium vexans ছত্রাক চা এর বিস্টার ব্লাইট রোগ সৃষ্টি করে।
৩। গৃহপালিত পশুপাখির রোগ (Animal diseases)ঃ Mucor, Rhizopus, Cercospora প্রভৃতি ছত্রাকের আক্রমণে গৃহপালিত পশুপাখির বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। Aspergillus funigatus হাঁস-মুরগী ও পাখির গর্ভপাত ঘটায়। Microsporium canis কুকুর ও ঘোড়ার দাদ বা চর্মরোগ সৃষ্টি করে। ১৭২২ সালে পিটার দ্যা গ্রেট এর শতাধিক ঘোড়া আরগোট রোগ আক্রান্ত রাই উদ্ভিদ খেয়ে মারা যায়।
৪। মাছের রোগ (Fish diseases)ঃ Saprolegnia parasitica ছত্রাক কার্পজাতীয় মাছের স্যামন রোগ সৃষ্টি করে উৎপাদন হ্রাস করে।
৫। খাদ্যদ্রব্যে বিষক্রিয়া (Taxin of food)ঃ Aspergillus, Rhizopus, Mucor ও Penicillium ছত্রাক আচার, চাটনী, জ্যাম, জেলি প্রভৃতি নষ্ট করে। Aspergillus flavus খাদ্যে মাইকোটক্সিন সৃষ্টি করে। বিষক্রিয় খাদ্য যকৃত, ফুসফুস ও বৃক্কের ক্ষতি করে।
৬। বিষাক্ততা (Taxicity)ঃ Amanita ও Agaricus এর কয়েকটি প্রজাতি খুব বিষাক্ত। এসব ছত্রাক খেলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
৭। নিত্য ব্যবহার্য জিনিস বিনষ্টকরণ
(i) Penicillium, Fusarium, Alternaria প্রভৃতি ছত্রাক বই-কাগজ বিনষ্ট করে।
(ii) ক্যামেরা, মাইক্রোস্কোপ, চশমার লেন্স, রেডিও, টেলিভিশন প্রভৃতি ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়।
(iii) কাঠ এবং কাঠের তৈরী আসবাবপত্র ছত্রাক দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৮। চামড়ার ক্ষতি (Ledar demase)ঃ Aspergillus ছত্রাক চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যের ক্ষতি করে।
৯। কাঠের ক্ষতি (Wood demase)ঃ Polyporus, Poria, Serpula প্রভৃতি ছত্রাক কাঠের ক্ষতি করে।
১০। আবাদ মাধ্যম নষ্টকরণ (Culture media distructed)ঃ গবেষণাগারে ব্যাকটেরিয়ার কালচার মাধ্যমে Penicillium জন্মে নষ্ট করে দেয়।