জীবপ্রযুক্তি।। বাংলাদেশের পেক্ষাপটে জীবপ্রযুক্তি

১। ১৯৭০ দশকে ঢাকা বিশ্বববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে প্রথম পাটের টিস্যু কালচার করা হয়। এরপর বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান টিস্যু কালচার শুরু করে।
২। ঢাকা বিশ্বববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীগণ মলিকিউলার মার্কার ব্যবহার করে লবণ সহিঞ্চু ধান, ঠান্ডা সহিঞ্চু পাট এবং পতঙ্গ প্রতিরোধী ডালের জাত উদ্ভাবন করেছেন।
৩। ICDDR, B জীবপ্রযুক্তির মাধ্যমে সিগেলা ভ্যাক্সিন উৎপাদন করেছে।
৪। বাংলাদেশ প্রাণীসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট ছাগলের প্লেগ ও বসন্ত রোগ এবং গরু ও হাঁস-মুরগীর কয়েকটি ভ্যাক্সিন উদ্ভাবন করেছে।
৫। মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় গরুর ফুট এন্ড মাউথ রোগ ও অ্যানথ্রাক্স, মুরগীর কলেরা এবং সালমোনেলা নিউক্যাসল রোগের ভ্যাক্সিন উৎপাদন করেছে।
৬। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট বিপন্ন প্রজাতির মাছের রেণু উৎপাদন, কার্প, ক্যাটফিস, তেলাপিয়া, মাগুর, পুঁটি ও GIFT মাছের জাত উদ্ভাবন করেছে।
৭। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্বববিদ্যালয়, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট ফিঙ্গার প্রিন্ট ও মাইক্রোস্যাটেলাইট জিনোটাইপিং পদ্ধতির উপর গবেষণা করছে। এতে দেশী জাতের ছাগল, ভেড়া, গরু ও মহিষের বংশ পরিচয় যাচাই করা হয়।
৮। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন নিম্ন মাত্রার গামা রেডিয়েশন ব্যবহার করে রেশম উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ফলের মাছি ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের কৌশল উদ্ভাবন করেছে। হরমোন ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে IPM ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেছে।
৯। ঢাকা বিশ্বববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগ মথ জাতীয় বালাই নিয়ন্ত্রণের কৌশল উদ্ভাবন করেছে।
১০। বাংলাদেশ জাতীয় বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ আধুনিক আণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ফসলী, ফলজ, বনজ ওষুধী উদ্ভিদের রোগ শনাক্তকরণের কৌশল উদ্ভাবন করেছে।
১১। ২০১০ সালে ড. মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে বাংলাদেশী বিজ্ঞানীগণ পাটের জিনোমিক সিকুয়েন্স আবিষ্কার করেছেন। এর ফলে মিহি আঁশের পাট, তুলার মতো শক্ত আঁশের পাট, শীতকালীন পাট, ঔষধী পাট, সহজে পচনযোগ্য পাট, কীট-পতঙ্গ প্রতিরোধক পাট প্রভৃতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।
১২। ২০১৮ সালে আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশী বিজ্ঞানীগণ ইলিশ মাছের জিনোমিক সিকুয়েন্স আবিষ্কার করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *