জীবপ্রযুক্তি ।। জীবপ্রযুক্তি বা ট্রান্সজেনিক জীবের ক্ষতিকর দিক বা স্বাস্থ্য ঝুঁকি

১। বিষক্রিয়াঃ জীব দেহে নতুন জীন সংযুক্ত করার কারণে বিষাক্ত প্রোটিন বা টক্সিন সৃষ্টি হয়। ফলে জীবদেহে বিষক্রিয়া দেখা দেয়।

২। এলার্জিঃ জীব দেহে নতুন জীন সংযুক্ত করার কারণে অপ্রত্যাশিত ভাবে প্রোটিন সৃষ্টি হয়। এই অপ্রত্যাশিত প্রোটিন এলার্জি সৃষ্টি করে। শিশুদের মারাত্বক এলার্জির জন্য ট্রান্সজেনিক বাদাম ও GM Food-কে দায়ি করা হয়েছে। ট্রান্সজেনিক সয়াবিনের কারণেও এলার্জি হয়। GM সয়া খেলে কিছু মানুষের অ্যালার্জি দেখা দেয়, কিন্তু প্রাকৃতিক সয়া খেলে অ্যালার্জি হয় না। বিটি জিন সমৃদ্ধ খাদ্য অ্যালার্জি সৃষ্টি করে।

৩। পুষ্টির ভারসাম্যহীনতাঃ নতুন জিন সংযুক্ত করায় GM Food এ প্রাকৃতিক পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে না। তাই বিভিন্ন ফল ও ফসলে পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়।

৪। খাদ্য বৈচিত্র্য হ্রাসঃ GM Food-এর স্বাদ, গন্ধ, বর্ণ, আকার, সৌন্দর্য প্রভৃতি প্রাকৃতিক খাদ্যের মতো হয় না। এ কারণে জীব বৈচিত্র্য হ্রাস পায়।

৫। উপকারী কীটপতঙ্গ ধ্বংসঃ ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমনের জন্য পতঙ্গরোধী উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয়। এসব উদ্ভিদ ভক্ষণ করে অনেক উপকারী কীটপতঙ্গ মারা যায়। এতে প্রকৃতির ভারসাম্য বিঘিœত হয়।

৬। স্বাস্থ্যহানীঃ GM Food মানুষসহ বিভিন্ন ধরনের স্তন্যপায়ী প্রাণীর স্বাস্থ্যহানী ঘটায়। ইহা শিশুদের ইস্ট্রোজেন লেভেল বৃদ্ধি করে স্বাস্থ্য ঝুকি সৃষ্টি করছে।

৭। জীবননাশঃ পরীক্ষায় দেখা গেছে কিছু ইঁদুর Tomato খেয়ে দুই মাসের মধ্যে মারা গেছে। ভারতে বিটি তুলার পাতা খেয়ে কয়েক হাজার ছাগল, ভেড়া ও মহিষ মারা গিয়েছে। কিছু প্রাণী দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী কিংবা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

৮। অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুঃ জীব প্রযুক্তিতে গবেষণাগারে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর প্রকরণ সৃষ্টি হয়। জীবাণু বাইরে ছড়িয়ে পড়লে জীবনিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হবে। আবার GM খাদ্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক সুপার ডিজিস সৃষ্টি করে।

৯। পেস্টিসাইড প্রতিরোধী পতঙ্গঃ  পতঙ্গ প্রতিরোধী ফসল খেয়ে কীট-পতঙ্গরা পেস্টিসাইড প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। তখন পেস্টিসাইড দিয়ে এদের নিধন করা যায় না।

১০। জীনগত দূষণঃ  GM উদ্ভিদে যে ট্রান্সজিন প্রবেশ করানো হয় তা খাদ্য ও খাদকের মাধ্যমে বিভিন্ন জীবদেহে বিস্তার লাভ করে। এতে জিনগত ভারসাম্য বিঘিœত  হচ্ছে এবং জিনগত দূষণ দেখা যাচ্ছে।

১১। যকৃতের সমস্যাঃ  GM আলু খাওয়ানো ইঁদুরের যকৃত আকারে ছোট এবং অপুষ্ট হয়। আবার GM ক্যানোলা খাওয়ানো ইঁদুরের যকৃত স্বাভাবিকের চেয়ে ১২-১৬% বড় হয়।

১২। প্রজননে সমস্যাঃ  গবেষণাগারে যে সব মা ইঁদুরকে GM খাদ্য খাওয়ানো হয় তাদের অর্ধেক বাচ্চা তিন সপ্তাহের মধ্যে মারা যায়। GM সয়া খাওয়ানো পুরুষ ইঁদুরের শুক্রাশয়ে অনেক পরিবর্তন ঘটে।

 

বইটি আকর্ষণীয়, তথ্যবহুল এবং শিরোনাম যুক্ত। পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮০০ ।

লেখকঃ ড. মোঃ আবু বকর সিদ্দিক

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ (পূর্বনাম-বাংলাদেশ রাইফেলস্ কলেজ)

জিবি সদর দপ্তর, পিলখানা, ঢাকা।  যোগাযোগ-01511483701

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *