ICBN বা ICZN-এর নীতিমালা অনুযায়ী গণ নামের শেষে প্রজাতিক নাম যুক্ত করে দুইটি পদ বা শব্দ দ্বারা একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নাম প্রদান করাকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। গ্যাসপার্ড বাউহিন সর্বপ্রথম Pinax নামক গ্রন্থে কিছু উদ্ভিদের দ্বিপদ নাম ব্যবহার করেছিলেন। ১৭৫৩ সালে সুইডিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস জীবের দ্বিপদ নামকরণের প্রক্রিয়া প্রবর্তন করেন। তিনি Species Plantarum নামক গ্রন্থে দ্বিপদ নামকরণ প্রবর্তন করেন। দ্বিপদ নামকরণের নিয়মাবলী উল্লেখ করা হলো।
১। একপদঃ জীবের প্রজাতির উপরের ছয়টি স্তরের নাম হবে একপদী। যেমন- Division.
২। দ্বিপদ নামঃ জীবের প্রজাতি নাম হবে দ্বিপদী। প্রথমটি গণ নাম এবং দ্বিতীয়টি ঐ গণের প্রজাতিক নাম। জীবের প্রজাতিক নামের অংশটুকু ব্যক্তির নাম, অঞ্চল বা স্থানের নাম, উদ্ভিদের কোন বৈশিষ্ট্য প্রভৃতি থেকে নেওয়া হয়। যেমন- Mangifera indica.
৩। বহুপদী নামঃ জীবের প্রজাতির নিচের স্তরের নামটি হবে বহুপদী। যেমন- Brassica oleracea var. botrytis.
৪। নামের ভাষাঃ জীবের বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন অথবা রুপান্তরিত ল্যাটিন বা latinized ভাষায় হতে হবে।
৫। আদ্যক্ষরঃ জীবের গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হরফে এবং প্রজাতিক নামের প্রথম অক্ষরসহ সকল অক্ষর ছোট হরফে (small letter) লিখতে হবে। যেমন- Oryza sativa.
৬। ছাপানো অবস্থাঃ জীবের বৈজ্ঞানিক নাম ছাপানোর সময় অবশ্যই ইটালিক বা রোমান বা মোটা অক্ষরে ছাপাতে হবে।
৭। হাতে লেখাঃ জীবের বৈজ্ঞানিক নাম হাতে লিখলে অবশ্যই ইংরেজি অক্ষর ব্যবহার করতে হবে এবং গণ ও প্রজাতিক অংশের নিচে আলাদা আলাদা ভাবে দাগ টানতে হবে। যেমন- Mangifera indica.
৮। বৈধক্রমঃ প্রতিটি প্রজাতির একটি বৈধ নাম থাকবে। উহা বৈধ ভাবে প্রকাশিত হতে হবে।
৯। প্রবর্তকের নামঃ যে বিজ্ঞানী কোন উদ্ভিদ বা প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম প্রদান করবেন সেই বিজ্ঞানীর নাম ঐ উদ্ভিদ বা প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামের শেষে সংক্ষেপে সংযুক্ত করতে হবে। যেমন- Oryza sativa L.
১০। টটোনিমঃ কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নামের গণ ও প্রজাতি অংশের একই হতে পারে। যেমন- Catla catla.
১১। টাইপ স্পেসিমেনঃ বৈজ্ঞানিক নামকরণের সময় নমুনা হিসেবে ব্যবহৃত উদ্ভিদ বা প্রাণীকে গবেষণাগারে সংরক্ষণ করতে হবে।
১২। বহু প্রবর্তকের নামঃ If it happens, scientific name of a species is given many in the same or different countries, according to the principles or priority, the first scientist who submits the documents to the ICBN first will be accepted.