১৯৭৪ সালে বিজ্ঞানী Lavitt পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া সম্পর্কে আধুনিক মতবাদটি প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে Raschke, (1975), Noggle, Fritz (1976) প্রমুখ বিজ্ঞানীগণ এই মতবাদটি সমর্থন করেন। এটি সর্বজন গ্রাহ্য মতবাদ।
পত্ররন্ধ্র খোলার কৌশল
(i) দিনের বেলায় রক্ষীকোষে নীল (৪৩০-৪৬০ nm) আলো প্রবেশ করে। নীল আলোর প্রভাবে রক্ষীকোষের শে^তসার ফসফোইনোল পাইরুভিক এসিডে পরিনত হয়।
(ii) ফসফোইনোল পাইরুভিক কার্বক্সিলেজ এনজাইমের প্রভাবে ফসফোইনোল পাইরুভিক এসিড ও CO2 বিক্রিয়া করে অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড উৎপন্ন করে।
(iii) ম্যালিক ডিহাইড্রোজিনেজ এনজাইমের প্রভাবে অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড ম্যালিক এসিডে পরিনত হয়।
(iv) ম্যালিক এসিড বিশ্লিষ্ট হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ম্যালেট আয়ন [R(COO–)2] সৃষ্টি করে।
(v) রক্ষীকোষ থেকে H+ সহকারী কোষে এবং সহকারী কোষ থেকে K+ রক্ষীকোষে প্রবেশ করে।
(vi) রক্ষীকোষে K+ ও ম্যালেট আয়ন বিক্রিয়া করে পটাশিয়াম ম্যালেট গঠন করে।
(vii) পটাশিয়াম ম্যালেটের কারণে রক্ষীকোষের অভিস্রবণিক চাপ বেড়ে যায় এবং অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় রক্ষীকোষে পানি প্রবেশ করে। এতে রক্ষীকোষের রসস্ফীতি ঘটে এবং পত্ররন্ধ্র খুলে যায়।
পত্ররন্ধ্র বন্ধ হওয়ার কৌশল
(i) রাতের বেলা রক্ষীকোষের পটাশিয়াম ম্যালেট ভেঙ্গে K+ ও ম্যালেট আয়ন উৎপন্ন হয়।
(ii) রক্ষীকোষ থেকে K+ সহকারী কোষে এবং সহকারী কোষ থেকে H+ রক্ষীকোষে প্রবেশ করে।
(iii) রক্ষীকোষে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ম্যালেট আয়ন [R(COO–)2] বিক্রিয়া করে ম্যালিক এসিড গঠন করে।
(iv) রক্ষীকোষ থেকে K+ বেরিয়ে যাওয়ায় রক্ষীকোষের অভি¯্রবণিক চাপ কমে যায় এবং বহিঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি বেরিয়ে যায়।
(v) রক্ষীকোষ পানি হারিয়ে চুপসে যায় এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়।