(i) নিষ্ক্রিয় এনজাইম ঃ পাকস্থলী থেকে নিঃসৃ প্রোটিয়েজ এনজাইম নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। নিষ্ক্রিয় এনজাইম কখনো বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না। তাই পাকস্থলীর এনজাইম কোন ক্ষতি করতে পারে না।
(ii) মিউকাস পর্দা ঃ পাকস্থলী মিউকাস আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। এ কারণে এনজাইম পাকস্থলীর প্রাচীরের সংস্পর্শে আসতে পারে না। তাই পাকস্থলীর কোন ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
(iii) অ্যান্টি-এনজাইম ঃ কোষ থেকে অ্যান্টি-এনজাইম নিঃসৃত হয়। অ্যান্টি-এনজাইম বিভিন্ন এনজাইমের ক্রিয়ায় বাঁধা দেয়। তাই পাকস্থলীর প্রাচীরের কোন ক্ষতি হয় না।
(iv) HCl ঃ পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত HCl খাদ্যকে অর্ধ-কঠিন তরল পদার্থে রুপান্তরিত করে। পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। ক্ষতিকারক টক্সিন বা বিষ শোষণ করে। পাকস্থলীর প্রধান আচ্ছাদন হিসেবে কাজ করে। গ্যাস্ট্রিক রসকে পেপসিন ও রেনিনে পরিনত করে।
(v) পেরিস্ট্যালসিস চলন ঃ পাকস্থলীর তিন স্তরবিশিষ্ট প্রাচীর খাদ্য পরিপাকের সময় সঞ্চালন মাত্রা বৃদ্ধি করে। এনজাইম খাদ্যের সাথে মিশে যায়। এর ভিতরে খাদ্য পেরিস্ট্যালসিস প্রক্রিয়ায় চলাচল করে। তাই পাকস্থলীর প্রাচীরের কোন ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
(vi) আঁটসাঁট সংযুক্তি ঃ পাকস্থলীর এপিথেলিয়াল কোষগুলো আঁটসাঁট ভাবে অবস্থান করে। তাই HCl এবং পরিপাক এনজাইম পাকস্থলীর কোন ক্ষতি করতে পারে না।
(vii) কোষের প্রতিস্থাপন ঃ পাকস্থলীর এপিথেলিয়াল কোষগুলো ৩-৬ দিন পর পর মারা যায়। এরপর নতুন কোষ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। এতে পাকস্থলীর সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
(viii) বাইকার্বনেট নিঃসরণ ঃ পাকস্থলীর অন্তঃগাত্রী থেকে বাইকার্বনেট নিঃসৃত হয়। বাইকার্বনেট দ্রবণ HCl কে প্রশমিত করে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, পাকস্থলী বিভিন্ন ধরনের খাদ্য পরিপাক করে, কিন্তু নিজে পরিপাক হয় না।