পিঞ্জরাস্থি বা পর্শুকা থোরাসিক কশেরুকা ও স্টার্ণামের সাথে যুক্ত হয়ে যে পিঞ্জর বা খাঁচা গঠন করে তাকে বক্ষ পিঞ্জর বলে। ইহা দেখতে ব্যারেল আকৃতির। এতে ১২টি থোরাসিক কশেরুকা, ১২ জোড়া পিঞ্জরাস্থি ও একটি স্টার্ণাম থাকে।
১। পিঞ্জরাস্থি (Rib)ঃ বক্ষ পিঞ্জরে যে সরু, লম্বা, চাপা ও বাঁকা অস্থি থাকে তাকে পর্শুকা বা রিব বলে। এদের সংখ্যা ২৪টি। প্রতিটি পর্শুকা তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। গ্রীবা, টিউবারকল ও দেহ। পর্শুকা গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা– আসল পর্শুকা ও নকল পর্শুকা।
(i) আসল বা প্রকৃত পর্শুকাঃ যে সব পর্শুকার এক প্রান্ত থোরাসিক কশেরুকার সাথে এবং অপর প্রান্ত স্টার্ণামের সাথে যুক্ত থাকে তাকে আসল পর্শুকা বলে। প্রথম ৭ জোড়া পর্শুকা হলো আসল পর্শুকা।
(ii) নকল বা অপ্রকৃত পর্শুকাঃ যে সব পর্শুকার এক প্রান্ত থোরাসিক কশেরুকার সাথে যুক্ত থাকে, কিন্তু অপর প্রান্ত স্টার্ণামের সাথে যুক্ত থাকে না তাকে নকল পর্শুকা বলে। ৮ম–১২ তম জোড়া পর্শুকা হলো নকল পর্শুকা। এদের মধ্যে ৮ম, ৯ম ও ১০ম কশেরুকা মিলিত হয়ে কোস্টাল আর্চ গঠন করে। ১১ও ১২ তম কশেরুকার শেষ প্রান্ত মুক্ত বা ভাসমান থাকে। এদেরকে ভাসমান কশেরুকা বলে। প্রতি দুই কশেরুকার মাঝে বহিঃ ও অন্তঃ ইন্টারকোস্টাল পেশী থাকে। কোস্টাল তরুণাস্থির মাঝে যে ফাঁকা স্থান থাকে তাকে ইন্টারকোস্টাল স্পেস বলে।
২। স্টার্ণাম (Sternum)ঃ বুকের কেন্দ্রে অবস্থিত চাপা অস্থিটিকে স্টার্ণাম বলে। এর দৈর্ঘ্য ১৫–১৭ সেমি। ইহা একটি জটিল অস্থি। এতে একটি জুগুলার নচ্, একটি ক্ল্যাভিকল ও ৭ জোড়া পর্শুকার খাঁজ থাকে। ইহা তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা– ম্যানুব্রিয়াম, বডি ও জিফয়েড প্রসেস।
বক্ষপিঞ্জরের গুরুত্ব
১। ইহা হৃৎপিন্ড ও ফুসফুসকে বাইরের আঘাত রক্ষা করে,
২। ইহা সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমে বহিঃশ্বসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়,
৩। সংকোচন–প্রসারণের মাধ্যমে দেহ গহŸরের আয়তন কম বেশী করে