ভাস্কুলার বান্ডল । ভাস্কুলার বান্ডল আলোচনা ।। Vascular tissue system । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ভাস্কুলার বান্ডল আলোচনা (Vascular tissue system)
জাইলেম ও ফ্লোয়েম একত্রে যে টিস্যুতন্ত্র গঠন করে তাকে ভাস্কুলার বান্ডল বলে। যে টিস্যু উদ্ভিদ দেহে পানি, খনিজ লবণ এবং খাদ্য পরিবহন করে তাকে ভাস্কুলার বান্ডল বা পরিবহন টিস্যুতন্ত্র বলে। মূল ও কান্ডের যে অঞ্চলে ভাস্কুলার বান্ডল থাকে সে অঞ্চলকে স্টিলি (Stele) বলে। ভাস্কুলার টিস্যুতন্ত্র তিন প্রকার। ১। সংযুক্ত, ২। অরীয় এবং ৩। কেন্দ্রিক
১। সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডল ঃ যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে যুক্ত ভাবে অবস্থান করে তাকে সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডল বলে। সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সমপার্শ্বীয় এবং সমদ্বিপার্শ্বীয়।
(i) সমপার্শ্বীয় (Collateral)ঃ যে ভাস্কুলার বান্ডলে এক খন্ড জাইলেম এবং এক খন্ড ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধের উপর পাশাপাশি অবস্থান করে তাকে সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। উদ্ভিদের কান্ডে ফ্লোয়েম উপরের দিকে এবং জাইলেম নিচের দিকে থাকে। কিন্তু পাতায় জাইলেম উপরের দিকে এবং ফ্লোয়েম নিচের দিকে থাকে। ক্যাম্বিয়ামের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ভিত্তিতে সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মুক্ত সমপার্শ্বীয় ও বদ্ধ সমপার্শ্বীয়।
মুক্ত সমপার্শ্বীয় (Open Collateral)ঃ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডলের জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম নামক ভাজক টিস্যু থাকলে তাকে মুক্ত সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ (কুমড়া ব্যতীত) এবং নগ্নবীজী উদ্ভিদের কান্ডে ইহা উপস্থিত। ইহা সাইকাস, নিটাম, সূর্যমুখী, শ্বেতদ্রোণ, রক্তদ্রোণ প্রভৃতি উদ্ভিদে বিদ্যমান।
বদ্ধ সমপার্শ্বীয় (Closed Collateral)ঃ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডলের জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম নামক ভাজক টিস্যু না থাকলে তাকে বদ্ধ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। যেমন- একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ড (ভূট্রা, কচু)।
(ii) সমদ্বিপার্শ্বীয় (Bicollateral)ঃ যে সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডলের মাঝখানে জাইলেম এবং তার উভয় পাশে ফ্লোয়েম থাকে তাকে সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। এই ভাস্কুলার বান্ডলের মাঝখানে জাইলেম এবং তার বাইরের দিকে বহিঃক্যাম্বিয়াম ও ভিতরের দিকে অন্তঃক্যাম্বিয়াম থাকে। অনুরুপভাবে, বহিঃক্যাম্বিয়ামের বাইরে বহিঃফ্লোয়েম এবং অন্তঃক্যাম্বিয়ামের ভিতরে অন্তঃফ্লোয়েম থাকে। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে সমদ্বিপাশর্^ীয় ভাস্কুলার বান্ডল থাকে। যেমন- লাউ, কুমড়া, শশা প্রভৃতি।
২। অরীয় (Radial)ঃ যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম একসাথে অবস্থান না করে পৃথক পৃথক ভাবে ভিন্ন ভিন্ন বান্ডল গঠন করে তাকে অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। উদ্ভিদের মূলে অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল থাকে। জাইলেম অথবা ফ্লোয়েম বান্ডলের সংখ্যা একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে পাঁচ এর বেশি থাকে এবং দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে পাঁচ এর কম থাকে।
৩। কেন্দ্রিক (Centric) ঃ যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং ফ্লোয়েম তাকে বেষ্টন করে রাখে অথবা ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকে এবং জাইলেম তাকে বেষ্টন করে রাখে তাকে কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বান্ডল বলে। ইহা দুই ধরনের।
(i) জাইলেম কেন্দ্রিক (Hadrocentric)ঃ যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং ফ্লোয়েম তাকে বেষ্টন করে রাখে তাকে হ্যাড্রোসেন্ট্রিক বা অ্যাম্ফিক্রিবাল বলে। যেমন- Lycopodium, Selaginella, Pteris, Psilotum প্রভৃতি।
(ii) ফ্লোয়েম কেন্দ্রিক (Leptocentric)ঃ যে ভাস্কুলার বান্ডলে ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকে এবং জাইলেম তাকে বেষ্টন করে রাখে তাকে লেপ্টোসেন্ট্রিক বা অ্যাম্ফিভেসাল বলে। যেমন- ড্রাসিনা (Dracaena), Yucca প্রভৃতি।
কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বান্ডলের কাজঃ জাইলেম পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে। ফ্লোয়েম খাদ্য পরিবহন করে। ইহা উদ্ভিদকে দৃঢ়তা দান করে। উদ্ভিদকে যান্ত্রিক শক্তি প্রদান করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *