মশকীর দেহে ম্যালেরিয়া পরজীবীর যৌনজনন চক্র ।। Sexual Reproduction of Malaria parasite

ম্যালেরিয়া রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে Anopheles মশকী দংশন করলে মশকীর লালারসে গ্যামিটোসাইট চলে আসে। মশকীর দেহে ম্যালেরিয়া পরজীবীর যৌনচক্র দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়।  ১। গ্যামিটোগনি ২। স্পোরোগনি।

 

১। গ্যামিটোগনি (Gametogony) গ্যামিট সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে গ্যামিটোগনি বলে। গ্যামিটোগনির পর্যায় গুলো হলো

(i) পুংগ্যামিট সৃষ্টিঃ পুংগ্যামিট বা শুক্রাণু সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে স্পার্মাটোজেনেসিস বলে। এক্সফ্ল্যাজেলেশন প্রক্রিয়ায় প্রতিটি মাইক্রোগ্যামিটোসাইটের নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে ৮টি নিউক্লিয়াস উৎপন্ন হয়। সময় সাইটোপ্লাজমে ৮টি অভিক্ষেপ সৃষ্টি হয়। একে সাইটোপ্লাজমীয় অভিক্ষেপ বলে। প্রতিটি অভিক্ষেপে একটি করে  নিউক্লিয়াস প্রবেশ করে। নিউক্লিয়াসসহ প্রতিটি অভিক্ষেপ পুংগ্যামিট বা মাইক্রোগ্যামিটে পরিনত হয়। পুংগ্যামিটগুলো নিষেকের জন্য সাঁতার কাটতে থাকে।

(ii) স্ত্রীগ্যামিট সৃষ্টিঃ স্ত্রীগ্যামিট বা ডিম্বাণু সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে উওজেনেসিস বলে। প্রতিটি ম্যাক্রোগ্যামিটোসাইট হতে একটি করে স্ত্রীগ্যামিট বা ম্যাক্রোগ্যামিট সৃষ্টি হয়। ম্যাক্রোগ্যামিটের এক প্রান্ত স্ফীত হয়ে নিষেক কোণ্ গঠন করে। কোণ্ অঞ্চলকে নিষেক শঙ্কু বা অভ্যর্থনা শঙ্কু বলে। ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াস শঙ্কুর নিকট অবস্থান করে।

(iii) নিষেকঃ পুংগ্যামিটগুলো পৃথক পৃথক ভাবে ডিম্বাণুর নিষেক শঙ্কুর দিকে অগ্রসর হয়। প্রতিটি ডিম্বাণুতে একটি করে শুক্রাণু প্রবেশ করে। পরে এদের নিউক্লিয়াস মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। প্রক্রিয়াকে নিষেক বলে। ২০২২ ঘন্টার মধ্যে নিষেক সম্পন্ন হয়।

(iv) উওকিনেট/ভার্মিকিউলঃ ১২১৪ ঘন্টা পর নিশ্চল গোলাকার জাইগোটটি লম্বা সচল হয়। একে উওকিনেট বা ভারমিকিউল বলা হয়। উওকিনেটের দৈর্ঘ্য ১৮২৪ মাইক্রন এবং প্রস্থ মাইক্রন।

(v) উওসিস্টঃ ২৪ ঘন্টার মধ্যে উওকিনেট গুলো মশকীর ক্রপের প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং গোলাকৃতি ধারণ করে। এরপর ৪০ ঘন্টার মধ্যে উহা পাতলা আবরণী দ্বারা আবৃত হয়। একে উওসিস্ট বলে। উওসিস্টের নিউক্লিয়াসটি প্রথমে মায়োসিস এবং পরে মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়। উওসিস্টের মায়োসিসকে পোস্ট জাইগোটিক মায়োসিস বলে। মশকীর ক্রপে ৫০৫০০টি উওসিস্ট থাকতে পারে। পরিনত উওসিস্ট স্পঞ্জের মতো দেখায় এবং আকারে ৫গুণ বড় হয় (৫০৬০ µ)

২। স্পোরোগনি (Sporogony)

স্পোরোজয়েট সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে স্পোরোগনি বলে। উওসিস্ট খাদ্য গ্রহণ করে  বৃদ্ধি পায়। এর নিউক্লিয়াস প্রথমে মাইটোসিস এবং পরে মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বার বার বিভাজিত হয়ে অনেক গুলো হ্যাপ্লয়েড নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। প্রতিটি নিউক্লিয়াসের চারিদিকে সাইটোপ্লাজম জমা হয়ে গোলাকার কোষে পরিনত হয়। পরে গোলাকার কোষ গুলো কাস্তে বা মাকু আকৃতির স্পোরোজয়েটে পরিনত হয়। প্রতিটি উওসিস্ট থেকে প্রায় ১০,০০০ স্পোরোজয়েট সৃষ্টি হয়। স্পোরোজয়েট গুলো মশকীর হিমোসিলে অবস্থান করে। সময় মশকী সুস্থ মানুষকে দংশন করলে ব্যক্তির দেহে স্পোরোজয়েট প্রবেশ করে। একবার দংশনের সময় প্রায় ১০% স্পোরোজয়েট মানুষের দেহে প্রবেশ করে। মশকীর লালাগ্রন্থিতে ,২৬,০০০ স্পোরোজয়েট থাকতে পারে। মশকীর লালাগ্রন্থিতে স্পোরোজয়েটগুলো প্রায় ৬০ দিন অবস্থান করে। দংশনকাল থেকে স্পোরোজয়েট সৃষ্টিতে সময় লাগে প্রায় ১০২০ দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *