কোষ বিভাজন । Cell division। মায়োসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব

১। জননকোষ সৃষ্টিঃ মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় পুংজনন মাতৃকোষ থেকে শুক্রাণু এবং স্ত্রীজনন মাতৃকোষ থেকে ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। তাই যৌন জননক্ষম জীবে মিয়োসিস আবশ্যক।

২। ভ্রুণ সৃষ্টিঃ মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট বার বার বিভাজিত হয়ে বহুকোষী ভ্রুণ সৃষ্টি করে। ভ্রুণ থেকে নতুন জীব সৃষ্টি হয়।

৩। ক্রোমোসোমের সংখ্যা ধ্রুব রাখাঃ মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে ডিপ্লয়েড জাইগোট সৃষ্টি হয়। ফলে জীবজগতে ক্রোমোসোমের সংখ্যা ধ্রুব থাকে।

৪। প্রজাতির স্বকীয়তা বজায় রাখাঃ ক্রোমোসোম সংখ্যা সঠিক রাখার মাধ্যমে প্রতিটি প্রজাতির স্বকীয়তা রক্ষিত হয়। তাই একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির সকল সদস্য দৈহিক ভাবে সর্বাধিক মিল সম্পন্ন হয়।

৫। জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষাঃ মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জীবের জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষা পায়।

৬। বৈচিত্র্য সৃষ্টিঃ মিয়োসিসের মাধ্যমে ক্রসিংওভার ঘটে। তাই জীববৈচিত্র্যতা সৃষ্টি হয়। জীববৈচিত্র্যতাকে বিবর্তনের নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৭। জিনগত পার্থক্য সৃষ্টিঃ মিয়োসিসের মাধ্যমে জননকোষে জিনগত পার্থক্য সৃষ্টি হয়। তাই জীবে নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয় এবং জীবজগতে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

৮। জীবগোষ্ঠির সম্পর্ক নির্ণয়ঃ মিয়োসিসের মাধ্যমে জীবগোষ্ঠির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয় করা যায়।

৯। প্রকরণ সৃষ্টিঃ হোমোলোগাস ক্রোমোসোমে ক্রসিংওভারের সময় জিনের নতুন বিন্যাস ঘটে। ফলে পরবর্তী বংশধরে নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয়।

১০। জনুঃক্রমঃ জীবনচক্রে গ্যামিটোফাইটিক দশা এবং স্পোরোফাইটিক দশার পর্যায়ক্রমিক আবির্ভাবকে জনুঃক্রম বলে। উদ্ভিদের জনুক্রমে মিয়োসিস প্রত্যক্ষ  ভূমিকা পালন করে।

১১। মেন্ডেলিজমঃ বংশগতিবিদ্যার জনক গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের বংশগতি বিষয়ক সূত্র দু’টিকে মেন্ডেলিজম বলে। মিয়োসিস ছাড়া মেন্ডেলিজম ব্যাখ্যা করা যায় না।

১২। অভিব্যক্তিঃ মিয়োসিস আনে জীববৈচিত্র্যতা। আর জীববৈচিত্র্যতা আনে অভিব্যক্তির ধারা ও প্রবাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq