ম্যালেরিয়া পরজীবীর জনুঃক্রম ।। Alternation of generation

কোনো জীবের জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড দশার পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুঃক্রম বলে। ম্যালেরিয়া পরজীবীর জনুঃক্রম আলোচনা করা হলো।

১। হ্যাপ্লয়েড দশা

(i) স্পোরোজয়েটঃ ম্যালেরিয়া জীবাণু বহনকারী কোন Anopheles মশকী সুস্থ মানুষকে দংশন করলে মশকীর লালারসের মাধ্যমে স্পোরোজয়েট মানুষের দেহে প্রবেশ করে। স্পোরোজয়েট গুলো সঞ্চালনক্ষম, সামান্য বাঁকানো এবং দেহের উভয় প্রান্ত সুচালো। স্পোরোজয়েট গুলো ৩০-৪৫ মিনিটের মধ্যে মানুষের যকৃত কোষে প্রবেশ করে  এবং বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়।

(ii) মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েটঃ স্পোরোজয়েট থেকে পর্যায়ক্রমে মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট সৃষ্টি হয়। মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো দুই ধরনের। মাইক্রোমেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট এবং ম্যাক্রোমেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট। মাইক্রোমেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো আকারে ছোট এবং নিউক্লিয়াস বড়। ম্যাক্রোমেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো আকারে বড় এবং নিউক্লিয়াস ছোট। ম্যাক্রোমেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো নতুন যকৃত কোষকে আক্রমণ করে। মাইক্রোমেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো রক্তস্রোতে চলে আসে এবং লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে।

(iii) মেরোজয়েটঃ জীবাণুর সাইটোপ্লাজমে ১২-১৮টি ক্ষুদ্র অংশ দেখা যায়। প্রতিটি অংশে একটি করে নিউক্লিয়াস প্রবেশ করে। এ গুলো পাপড়ির মতো দু’টি স্তরে সাজানো থাকে। এই অবস্থাকে রোজেট বলে। নিউক্লিয়াসসহ প্রতিটি অংশ এক একটি মেরোজয়েটে পরিনত হয়।

(iv) গ্যামিটোসাইটঃ কিছু মেরোজয়েট গ্যামিটোসাইটে পরিনত হয়। গ্যামিটোসাইট গুলো দুই ধরনের। মাইক্রোগ্যামিটোসাইট এবং ম্যাক্রোগ্যামিটোসাইট। মাইক্রোগ্যামিটোসাইট গুলো আকারে ছোট এবং এর নিউক্লিয়াস বড়। ম্যাক্রোগ্যামিটোসাইট গুলো আকারে বড় এবং এর নিউক্লিয়াস ছোট।

(v) গ্যামিটঃ এক্সফ্ল্যাজেলেশন প্রক্রিয়ায় প্রতিটি মাইক্রোগ্যামিটোসাইটের নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে ৪-৮টি পুংগ্যামিট বা মাইক্রোগ্যামিটে পরিনত হয়। প্রতিটি ম্যাক্রোগ্যামিটোসাইট হতে একটি করে স্ত্রীগ্যামিট বা ম্যাক্রোগ্যামিট সৃষ্টি হয়।

২। ডিপ্লয়েড দশা

(i) জাইগোটঃ মাইক্রোগ্যামিটটি নিষেক কোণের মধ্য দিয়ে ম্যাক্রোগ্যামিটোসাইটে প্রবেশ করে। পরে এদের নিউক্লিয়াস মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে।

(ii) উওকিনেটঃ ১২-১৪ ঘন্টা পর নিশ্চল গোলাকার জাইগোটটি লম্বা ও সচল হয়। একে উওকিনেট বা ভারমিকিউল বলা হয়। উওকিনেটের দৈর্ঘ্য ১৮-২৮ মাইক্রন এবং প্রস্থ ৩-৫ মাইক্রন।

(iii) উওসিস্টঃ ২৪ ঘন্টার মধ্যে উওকিনেট গুলো মশকীর ক্রপের প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং গোলাকার ধারণ করে। এরপর পাতলা আবরণী দ্বারা আবৃত হয়। একে উওসিস্ট বলে। উওসিস্ট পরে স্পোরোজয়েটে পরিনত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *