রুই মাছের ধমনীতন্ত্র তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
১। অন্তর্বাহী বা অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী
২। বহির্বাহী বা ইফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী
৩। মহাধমনী বা ডর্সাল অ্যাওর্টা
১। অন্তর্বাহী বা অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী
যে সব ধমনী হৃৎপিন্ড থেকে CO2 যুক্ত রক্ত ফুলকাতে নিয়ে যায় তাদেরকে অন্তর্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী বলে। বাল্বাস অ্যাওর্টা থেকে ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টা উৎপন্ন হয় এবং হাইওয়েড ধমনী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টা থেকে চার জোড়া অন্তর্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী উৎপন্ন হয়ে।
(i) প্রথম অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনীঃ ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার অগ্রভাগ হতে প্রথম জোড়া অন্তর্বাহী ধমনী উৎপন্ন হয়। এরা প্রথম ফুলকায় প্রবেশ করে।
(ii) দ্বিতীয় অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনীঃ ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার মধ্যভাগ হতে দ্বিতীয় জোড়া অন্তর্বাহী ধমনী উৎপন্ন হয়। এরা দ্বিতীয় ফুলকায় প্রবেশ করে।
(iii) তৃতীয় অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনীঃ ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার মধ্যভাগ হতে তৃতীয় জোড়া অন্তর্বাহী ধমনী উৎপন্ন হয়। এরা তৃতীয় ফুলকায় প্রবেশ করে।
(রা) চতুর্থ অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনীঃ ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার গোড়া হতে চতুর্থ জোড়া অন্তর্বাহী ধমনী উৎপন্ন হয়। এরা চতুর্থ ফুলকায় প্রবেশ করে।
প্রতিটি অন্তর্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী হতে শাখা ধমনী বের হয়। শাখা ধমনী প্রতিটি ফুলকার ল্যামিলায় রক্ত সরবরাহ করে।
২। বহির্বাহী বা ইফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী (Efferent branchial artery)
যে সব ধমনী ফুলকা থেকে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছে দেয় তাদেরকে বহির্বাহী ধমনী বলে। চার জোড়া ফুলকা হতে ৪ জোড়া বহির্বাহী ধমনী উৎপন্ন হয়। প্রথম বহির্বাহী ধমনী সিউডোব্রাঙ্কে রক্ত পরিবহন করে। সিউডোব্রাঙ্ক হতে অপথ্যালমিক ধমনী দিয়ে রক্ত চোখে পৌছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বহির্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী মিলিত হয়ে পার্শ্বীয় ধমনী গঠন করে। পার্শ্বীয় ধমনীর অগ্রভাগ হতে ক্যারোটিড ধমনী সৃষ্টি হয়। ক্যারোটিড ধমনী মস্তিস্কে রক্ত প্রদান করে। তৃতীয় ও চতুর্থ ফুলকা হতে উৎপন্ন বহির্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী প্রথমে একত্রে মিলিত হয় এবং পরে পার্শ্বীয় ধমনীর সাথে যুক্ত হয়। দুই দিকের পার্শ্বীয় ধমনী মিলিত হয়ে ডিম্বাকার ধমনী বলয় সৃষ্টি করে। একে সারকিউলাস সেফালিকাস বলে।
৩। ডর্সাল অ্যাওর্টা (Dorsal aorta)
পার্শ্বীয় ধমনী দুইটি পিছনের দিকে মিলিত হয়ে ডর্সাল অ্যাওর্টা গঠন করে। ডর্সাল অ্যাওর্টার শাখা গুলো হলো-
(i) সিলিয়াকো-মেসেন্টারিক ধমনীঃ ইহা বায়ুথলী, পাকস্থলী, অন্ত্র, যকৃত,অগ্ন্যাশয়, মলাশয় ও প্লিহায় রক্ত প্রদান করে।
(ii) সাব ক্ল্যাভিয়ান ধমনীঃ ইহা বক্ষচক্র এবং বক্ষ পাখনায় রক্ত সরবরাহ করে।
(iii) প্যারাইটাল ধমনীঃ ইহা দেহ প্রাচীরে রক্ত প্রদান করে।
(iv) পেলভিক/ইলিয়াক ধমনীঃ ইহা শ্রোণী পাখনায় রক্ত দান করে।
(v) রেনাল ধমনীঃ ইহা বৃক্কে রক্ত পরিবহন করে।
(vi) কড্যাল ধমনীঃ ইহা পুচ্ছে রক্ত প্রদান করে।