রুই মাছ সংরক্ষনের উপায় । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। মৎস্য অভয়াশ্রম তৈরীঃ রুই জাতীয় মাছ সংরক্ষনের জন্য সরকারী ভাবে বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিল ও হাওড়- বাওড় বা তার অংশ বিশেষকে মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা দরকার।

২। দুষণরোধঃ বিভিন্ন ধরনের ময়লা আবর্জনা, রাসায়নিক সার, ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক যেন পানিকে দুষিত করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৩। লবণাক্ততা কমানোঃ রুই হলো স্বাদু পানির মাছ। তাই পানির লবনাক্ততা যত দুর সম্ভব কমাতে হবে।

৪। মা মাছ আহরণ বন্ধঃ মা মাছ শিকার বন্ধ করতে হবে। রুই মাছের প্রজনন ঋতুতে মাছ ধরা নিষেধ করতে হবে।

৫। মৎস্যজীবীদের উদ্বুদ্ধকরণঃ  মাছ চাষ ও মাছের গুরুত্ব সম্পর্কে মৎস্যজীবীদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

৬। নদী দখল বন্ধ করাঃ নদী দখল সম্পুর্ণ বন্ধ করতে হবে। মাছের প্রজনন ক্ষেত্র গুলো সব সময় নিরাপদ রাখতে হবে।

৭। নদী কমিশন গঠনঃ নদী কমিশন গঠন করতে হবে। নদী সংস্কার ও রক্ষাকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৮। নদীর গতিপথ পরিবর্তন রোধঃ নদীর গতিপথ পরিবর্তন হলে মাছের আবাসস্থল ও প্রজনন ক্ষেত্র পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই নদীর গতিপথ পরিবর্তন রোধ করতে হবে।

৯। পোনা মজুদঃ সরকারী, বেসরকারী ও ব্যক্তিগত ভাবে রুই মাছের পোনা মজুদ রাখতে হবে।

১০। জাল যার জলা তারঃ যে কোন ব্যক্তি কর্তৃক জলাশয় শাসন না করে মৎস্যজীবী দ্বারা জলাশয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

১১। হালদা নদী সংরক্ষণঃ হালদা নদী হলো বাংলাদেশের একমাত্র রুই প্রজনন ভুমি। হালদা নদীকে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর মৎস্য খনী বলা হয়। প্রাকৃতিক এই প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ করতে হবে।

১২। বিষ প্রয়োগ বন্ধ করাঃ বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করতে হবে।

১৩। জনসচেতনতাঃ বিভিন্ন উপায়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

১৪। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বনঃ মাছ ও মাছের ডিম ধরা ও সংরক্ষণ বৈজ্ঞানিক ভাবে করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *