দৈহিক গঠনের কারণে জীবজগতে সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্যতা দেখা যায় শৈবালে। শৈবাল ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক (Micromonas) হতে বৃহৎ (৩০-৬০ মিটার) কেল্প হতে পারে।
১। সচল এককোষী (Motile unicellular)ঃ শৈবালের দেহ একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত এবং গোলাকার বা ডিম্বাকার বা উপবৃত্তাকার হয়। কোষে একটি নিউক্লিয়াস ও একটি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। কোষের সামনে ১-২টি ফ্ল্যাজেলা থাকায় সচল হয়। যেমন- Chlamydomonas, Euglena, Phacus, Navicula প্রভৃতি।
২। নিশ্চল এককোষী (Non-motile unicellular)ঃ শৈবালের দেহ একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত এবং গোলাকার বা ডিম্বাকার হয়। কোষে ফ্ল্যাজেলা বা সিলিয়া না থাকায় নিশ্চল হয়। যেমন- Chlorococcum, Chlorella, Chamaesiphon, Gloeocapsa প্রভৃতি।
৩। সচল আবৃত কলোনী (Motile enveloped colony)ঃ বহুসংখ্যক এককোষী ফ্ল্যাজেলাযুক্ত শৈবাল জিলাটিনের আবরণী দ্বারা আবৃত হয়ে কলোনী গঠন করলে তাকে সচল আবৃত কলোনী বলে। যে কলোনীতে নির্দিষ্ট সংখ্যক সচল কোষ নির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত থাকে তাকে সিনোবিয়াম বলে। সিনোবিয়ামের শৈবালগুলো পরস্পরযুক্ত থাকে এবং এদের ফ্ল্যাজেলা বাইরের দিকে অবস্থান করে। প্রতিটি সিনোবিয়ামে ৪-৫০,০০০ শৈবাল থাকতে পারে। যেমন- Eudorina, Pleodorina, Pandorina, Volvox প্রভৃতি।
৪। সচল অনাবৃত কলোনী (Motile free colony) ঃ বহুসংখ্যক এককোষী ফ্ল্যাজেলাযুক্ত শৈবাল একত্রে সচল অনাবৃত কলোনী গঠন করে। কলোনীর বাইরে মিউসিলেজ জাতীয় পদার্থের আবরণী থাকে না।। যেমন- Pyrobotrys.
৫। নিশ্চল আবৃত কলোনী (Non-motile enveloped colony)ঃ কতিপয় ফ্ল্যাজেলাবিহীন নিশ্চল এককোষী শৈবাল জিলাটিনের আবরণী দ্বারা আবৃত হয়ে কলোনী গঠন করে। একে নিশ্চল আবৃত কলোনী বলে। যেমন- Microcystis, Eucapsis প্রভৃতি।
৬। নিশ্চল অনাবৃত কলোনী (Non-motile free colony)ঃ কিছু সংখ্যক ফ্ল্যাজেলাবিহীন নিশ্চল এককোষী শৈবাল পাশাপাশি যুক্ত হয়ে পেন্টাগোনাল বা হেক্সাগোনাল কলোনী গঠন করে। একে নিশ্চল অনাবৃত কলোনী বলে। ইহা জিলাটিনের আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে না। যেমন- Pediastrum, Hydrodictyon, Scenedesmu প্রভৃতি।
৭। অ্যামিবয়েড (Amoeboid)ঃ যে সব শৈবাল কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে রাইজোপড বা সিইডোপড নামক ক্ষণপদ সৃষ্টি করে চলাচল করে তাদেরকে অ্যামিবয়েড বলে। যেমন- Heterochloris, Chromulina প্রভৃতি।
৮। পামেলয়েড (Pamelloid)ঃ প্রতিকূল পরিবেশে সচল শৈবাল ফ্ল্যাজেলা হারিয়ে মিউসিলেজ আবরণী দ্বারা আবদ্ধ হয় এবং প্রতিকূল পরিবেশ অতিবাহিত করে। এই অবস্থাকে পামেলা দশা বলে। যেমন- Chlamydomonas, Ulothrix, Sargassum, Fucus, Tetraspora, Aphanothece, Gonium প্রভৃতি।
৯। সূত্রাকার (Filamentous)ঃ শৈবালের কোষ গুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে সরু, সূত্রাকার, শাখা-প্রশাখাবিহীন গঠন সৃষ্টি করলে তাকে ফিলামেন্টাস বলে। যেমন- Oedogonium, Ulothrix, Scytonema, Tolypothrix, Cladophora, Pithophora, Spirogyra প্রভৃতি।
১০। ডেনড্রয়েড (Dendroid)ঃ Dendroid অর্থ বৃক্ষসদৃশ। শৈবালের প্রতিটি কোষের নিম্নাংশ মিউসিলেজ দ্বারা আবৃত থাকে এবং পরস্পর যুক্ত হয়ে কলোনী গঠন করে। এ ধরনের গঠনকে ডেনড্রয়েড বলে। যেমন- Prasinocladus.
১১। থ্যালয়েড বা পত্রবৎ (Thaloid & Leaflike)ঃ শৈবালের কোষ বিভাজিত হয়ে পাতলা ও চ্যাপ্টা পাতার মতো থ্যালাস গঠন করলে তাকে থ্যালয়েড বলে। যেমন- Enteromorpha, Porphyra, Ulva প্রভৃতি।
১২। জাল সদৃশ (Web like)ঃ এরা জালের মতো গঠন তৈরী করে। যেমন- Hydrodictyon.
১৩। হেটেরোট্রিকাস (Heterotricus)ঃ শৈবালের থ্যালাস দু’টি অংশ নিয়ে গঠিত। শায়িত অংশ এবং বায়বীয় অংশ। এরুপ বৈশিষ্ট্য যুক্ত থ্যালাসকে হেটেরোট্রিকাস বলে। যেমন- Coleochaete, Fritschiella, Stigeoclonium, Trentepohlia প্রভৃতি।
১৪। সাইফনীয় (Siphonus)ঃ ফাঁপা নলাকার দেহবিশিষ্ট শৈবালকে সাইফন শৈবাল বলে। এই ফাঁপা নল গুলোকে সিনোসাইট বলে। যেমন- Vaucheria, Botrydium, Protosiphonia প্রভৃতি।
১৫। পলিসাইফনীয় (Polysiphonus)ঃ অনেকগুলো সাইফন বা ফাঁপা নলাকার অংশ নিয়ে পলিসাইফন শৈবালের দেহ গঠিত। এর কেন্দ্রের সিনোসাইটকে সেন্ট্রাল সাইফন এবং চারপাশের সিনোসাইটকে পেরিসেন্ট্রাল সাইফন বলে। যেমন- Codium, Polysiphonia.
১৬। নোডাস (Nodas)ঃ এদের দেহ পর্ব ও পর্বমধ্য নিয়ে গঠিত। পর্ব থেকে পার্শ্বীয় শাখা উৎপন্ন হয়। যেমন- Chara, Nitella প্রভৃতি।
১৭। জটিল শৈবাল দেহঃ কোন কোন শৈবালের দেহ তিনটি অংশ দ্বারা গঠিত। হোল্ড ফাস্ট, স্টাইপ ও ফ্রন্ড। ফ্রন্ড দেখতে পাতার ন্যায় চ্যাপ্টা। এরুপ গঠনকে জটিল দেহ বলে। যেমন- Fucus, Laminaria, Sargassum.