শ্বসন ।। জীবজগতের খাদ্য জারণে শ্বসনের ভূমিকা

১। গ্লাাইকোলাইসিসঃ গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের কার্যকারীতায় এক অণু গ্লূকোজ ধাপে ধাপে ভেঙ্গে দুই অণু পাইরুভিক এসিডে পরিনত হয়। এই প্রক্রিয়ায় ৮টি ATP উৎপন্ন হয়। গ্লাইকোলাইসিসে যে ATP ও NADPH+H+ উৎপন্ন হয় তা মোট সুপ্তশক্তির ১৭%। এর মধ্যে মাত্র ৪% ব্যয় হয় এবং প্রায় ৮০% শক্তি পাইরুভিক এসিডের মধ্যে জমা থাকে।
২। অ্যাসিটাইল কো-এ তৈরীঃ এ ধাপে পাইরুভিক এসিড Co-A এর সাথে বিক্রিয়া করে অ্যাসিটাইল কো-এ তৈরী করে। এই প্রক্রিয়ায় ৬টি ATP উৎপন্ন হয়।
৩। ক্রেব্স চক্রঃ ক্রেব্স চক্রে অ্যাসিটাইল কো-এ থেকে অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড উৎপন্ন হয় । এই প্রক্রিয়ায় ২৪টি ATP উৎপন্ন হয়।
গ্লুকোজের কর্মক্ষমতাঃ শ^সন প্রক্রিয়ায় এক মোল গ্লুকোজ পোড়ালে ৬৮৬ কিলোক্যালরী শক্তি উৎপন্ন হয়। কিন্তু বায়োলজিক্যাল পদ্ধতিতে মাত্র ৩৬০ কিলোক্যালরী শক্তি পাওয়া যায়। বাকি শক্তি তাপ শক্তি হিসেবে নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিটি ATP হতে ১০ কিলোক্যালরী হিসেবে ৩৬টি ATP হতে ৩৬০ কিলোক্যালরী শক্তি পাওয়া যায়। ফলে গ্লুকোজের কার্যক্ষমতা = (360×100) ÷ 686 = 52.48%|
আধুনিক মতে উৎপাদিত ATP এর পরিমাণ
2 ATP + 2 NADPH2 + 2 NADPH2 + 2 ATP + 2 FADH2+ 6 NADPH2
= 2 ATP +2×2.5 ATP +2×2.5 ATP +2 ATP +2×1.5 ATP +6×2.5 ATP
= 32 ATP
ফলে গ্লুকোজের কার্যক্ষমতা = (320×100) ÷ 686 = 46.65%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *