যে স্থায়ী টিস্যুর কোষ গুলোর আকার, আকৃতি ও গঠন বৈশিষ্ট্য একই ধরনের তাকে সরল টিস্যু বলে। সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো–
১। প্যারেনকাইমা (Parenchyma)ঃ যে সব টিস্যুর কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা প্রায় একই রকম তাকে প্যারেনকাইমা বলে। কোষগুলো সমব্যাসীয় এবং গোলাকার, ডিম্বাকার, বহুভ‚জাকার বা লম্বাকার। আন্তঃকোষীয় ফাঁক বিদ্যমান। কান্ড ও মূলের ত্বক, কর্টেক্স, মজ্জা, মজ্জারশ্মি, পরিচক্র, পাতার মেসোফিল, ফলের শাঁস, সস্য ও ভ্রুণ প্রভৃতি প্যারেনকাইমা টিস্যু দ্বারা গঠিত।
প্যারেনকাইমা টিস্যুর কাজ
(i) ক্লোরোফিলযুক্ত প্যারেনকাইমা (ক্লোরেনকাইমা) সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করে।
(ii) জলজ উদ্ভিদের প্যারেনকাইমা বায়ু জমা (অ্যারেনকাইমা) রাখে এবং উদ্ভিদকে ভাসতে সাহায্য করে।
(iii) ভ‚নিম্নস্থ কান্ড, মূল, ফল ও বীজে শর্করা, প্রোটিন ওস্নেহজাতীয় খাদ্য জমা থাকে।
(iv) উদ্ভিদের ক্ষত নিরাময় এবং পুনরুৎপাদনে সাহায্য করে।
(v) পাতা ও কান্ডের দৃঢ়তা প্রদান করে।
(vi) রসস্ফীতিজনিত চাপের মাধ্যমে বীরুৎ উদ্ভিদকে সোজা করে রাখে।
(vii) অস্থানিক মূল ও মুকুল বংশবিস্তার করে।
(viii) জাইলেম ও ফ্লোয়েমযুক্ত টিস্যু পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে।
২। কোলেনকাইমা (Collenchyma)ঃ লিগনিনবিহীন, স্থুলপ্রাচীর বিশিষ্ট সজীব কোষ নিয়ে কোলেনকাইমা গঠিত। কোষগুলো বহুভ‚জাকার বা লম্বাকার। আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে না। কোষগুলো প্রসারণক্ষম।
কোলেনকাইমা টিস্যুর কাজ
(i) ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত (ক্লোরেনকাইমা) কোলেনকাইমা খাদ্য তৈরী করে।
(ii) উদ্ভিদের বর্ধনশীল ও নরম অঙ্গগুলোকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান করে।
(iii) স্থিতিস্থাপক ও প্রসারণ গুণ থাকায় উদ্ভিদকে বেঁকে যেতে সাহায্য করে।
(iv) ইহা স্থিতিস্থাপক হওয়ায় উদ্ভিদ অঙ্গ সহজে ভাঙ্গে না।
৩। স্কে¬রেনকাইমা (Sclerenchyma)ঃ লিগনিনযুক্ত, স্থুলপ্রাচীর বিশিষ্ট কোষ নিয়ে স্কে¬রেনকাইমা গঠিত। পরিনত কোষগুলো মৃত এবং প্রোটোপ্লাজম থাকে না। আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে না। কোষগুলো কঠিন এবং স্থিতিস্থাপক। কোষগুলো প্রস্থের তুলনায় অধিক দীর্ঘ।
স্কে¬রেনকাইমা টিস্যুর কাজ