(i) সালোকসংশ্লেষণঃ যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি ও কার্বন ডাই অক্সাইডের রাসায়নিক মিলন ঘটিয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপন্ন করে এবং উপজাত পদার্থ হিসেবে অক্সিজেন ত্যাগ করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কার্বন ডাই অক্সাইড পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষে প্রবেশ করে। কার্বন ডাই অক্সাইড পানির সাথে বিক্রিয়া করে শর্করা উৎপন্ন করে এবং উপজাত পদার্থ হিসেবে অক্সিজেন ত্যাগ করে। অক্সিজেন পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষের বাইরে নির্গত হয়। তাই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য পত্ররন্ধ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(ii) শ^সনঃ যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মুক্ত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে শ্বসনিক বস্তু সম্পুর্ণরুপে জারিত হয়ে পানি, CO2 ও শক্তি উৎপন্ন করে তাকে শ্বসন বলে। উদ্ভিদের শ^সন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষে প্রবেশ করে। অক্সিজেন শ^সনিক বস্তুর সাথে বিক্রিয়া করে পানি, CO2 ও শক্তি উৎপন্ন করে। উৎপন্ন কার্বন ডাই অক্সাইড পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষের বাইরে নির্গত হয়। তাই শ^সন প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য পত্ররন্ধ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(iii) প্রস্বেদনঃ যে প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের মূল দ্বারা শোষিত প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে বাষ্পাকারে নির্গত হয় তাকে পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন বলে। সবুজ উদ্ভিদ মূল দ্বারা যে পরিমাণ পানি পরিশোষণ করে তার মাত্র ১-২% কাজে লাগে। অবশিষ্ট ৯৮-৯৯% পানি কোন কাজে লাগে না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে বাষ্পাকারে নির্গত হয়। তাই প্রস্বেদন প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য পত্ররন্ধ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(iv) তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণঃ উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের জৈবিক ক্রিয়ার ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। প্রস্বেদনের সময় পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে তাপমাত্রা বাইরে নির্গত হয়। তাপ বাইরে নির্গত না হলে উদ্ভিদ পুড়ে মারা যেত।
(v) গ্যাসীয় বিনিময়ঃ ইহা গ্যাসীয় পদার্থ বা O2 ও CO2 এর বিনিময় ঘটায়।
(vi) পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়াঃ রক্ষীকোষ পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
(vii) জৈব খাদ্য সংশ্লেষ ও সঞ্চয়ঃ রক্ষীকোষে গ্লুকোজ সংশ্লেষিত হয় এবং শে^তসার হিসেবে সাময়িক ভাবে জমা থাকে।