উদ্ভিদের ভ্রুণথলী, ডিম্বাণু, সহকারী নিউক্লিয়াস, প্রতিপাদ কোষ ও সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াসকে একত্রে স্ত্রীগ্যামিটোফাইট বলে।
উদ্ভিদের স্ত্রী ফুলের গর্ভাশয়ের ভিতরে স্পোরোজেনাস কোষ থাকে। স্পোরোজেনাস কোষ বিভাজিত হয়ে অথবা সরাসরি স্ত্রীরেণু মাতৃকোষে পরিনত হয়। স্ত্রীরেণু মাতৃকোষ ডিপ্লয়েড এবং উহা মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড ম্যাক্রোস্পোর বা স্ত্রীরেণু উৎপন্ন করে। স্ত্রীরেণু হলো স্ত্রীগ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ। চারটি স্ত্রীরেণুর মধ্যে উপরের তিনটি নষ্ট হয়ে যায় এবং নিচেরটি কার্যকরী থাকে। কার্যকরী স্ত্রীরেণুর নিউক্লিয়াসটি আকারে বড় হয় এবং মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুইটি নিউক্লিয়াসে পরিনত হয়। নিউক্লিয়াস দুটি কোষের দুই মেরুতে অবস্থান করে। প্রতিটি নিউক্লিয়াস অল্প সাইটোপ্লাজম এবং পাতলা প্রাচীর দ্বারা আবৃত থাকে। এসময় স্ত্রীরেণু কোষটি দুই মেরু বিশিষ্ট একটি থলীর ন্যায় অঙ্গে পরিনত হয়। উভয় মেরুর নিউক্লিয়াস পর পর দুই বার বিভাজিত হয়ে চারটি করে মোট আটটি নিউক্লিয়াস গঠন করে। এ অবস্থায় উভয় মেরু হতে একটি করে নিউক্লিয়াস কোষের মাঝখানে আসে এবং মিলিত হয়। একে ফিউশন নিউক্লিয়াস বা গৌণ নিউক্লিয়াস বা নির্ণীত নিউক্লিয়াস (secondary nucleus) বলে।
উপরের দিকের নিউক্লিয়াস তিনটিকে একত্রে ডিম্বাণু যন্ত্র বা গর্ভযন্ত্র (egg apparatus) বলে। ডিম্বাণু যন্ত্রের মাঝখানের বড় নিউক্লিয়াসটিকে ডিম্বাণু (ovum) এবং দুই পাশের ছোট নিউক্লিয়াস দু’টিকে সহকারী নিউক্লিয়াস বা সাহায্যকারী নিউক্লিয়াস (synergids) বলে। নিচের দিকের নিউক্লিয়াস তিনটিকে প্রতিপাদ নিউক্লিয়াস বা প্রতিপাদ কোষ (antipodal cells) বলে।