১। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস
(i) অতিরিক্ত চর্বি ও ক্যালরীযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে মানুষ স্থুল হয়।
(ii) স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে খাবার গ্রহণ করলে স্থুল হয়।
(iii) অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড খাওয়া স্থুলতার জন্য দায়ি।
(iv) অতিমাত্রয় তরল পানীয় পান করলে স্থুলতা বাড়ে।
(v) মিষ্টি জাতীয় খাবার (কার্বোহাইড্রেট), চিনিযুক্ত ডেসার্ট, মদ্যপান, দ্রæত খাবার খাওয়া প্রভৃতি কারণে স্থুলতা হয়।
২। জীবন যাত্রা রীতি
(i) আয়েসী জীবন যাপন এবং অলস সময় কাটানো।
(ii) অতিরিক্ত বাইরের খাবার গ্রহণ।
(iii) শারীরিক পরিশ্রম কম করা। নিয়মিত ব্যায়াম না করা।
(iv) দীর্ঘ সময় ধরে টিভি দেখা, কম্পিউটারে কাজ করা এবং ইন্টারনেট ব্রাউজ করা।
(v) কায়িক পরিশ্রম নেই এমন চাকুরী করা। হেঁটে না গিয়ে গাড়িতে যাওয়া।
৩। জিনগত কারণঃ একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বংশ পরস্পরায় স্থুলতা দেখা যায়। যমজ ভাইবোনদের ক্ষেত্রেও ইহা লক্ষ্য করা যায়। বংর শগত কারণে দেহে ফ্যাট কোষের সংখ্যা বেশি থাকে। কারণ এদের মধ্যে সাদৃশ্যতা নিয়ন্ত্রণ করে জিন। জিনের বহুপ্রস্থতা বা জিন গুচ্ছ (Polymorphism) মানুষের ক্ষুধা ও বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে স্থুলতা বাড়িয়ে দেয়। যে সব লোকের FMO (Fat Mass and Obesity Associated) জিন থাকে তাদের ওজন বেশি হয়। আবার, জিনগত ত্রæটির কারণেও স্থুলতা হয়। মেলানোকটিন ও লেপ্টিন জিনের মিউটেশন ঘটলে স্থুলতা হয়।
৪। সামাজিক অভিরুচিঃ পৃথিবীর অনেক সমাজে মোটা বা স্থুলতাকে আভিজাত্য ও গর্বের বিষয় মনে করে। শারীরিক স্থুলতাকে তারা সুস্বাস্থ্য ও সুখের প্রতীক মনে করে। তাই তারা অধিক খাদ্য গ্রহণ করে মোটা হতে চায়। তবে আধুনিক সমাজ এ ভূল ধারণা পোষন করে না।
৫। ধুমপানের প্রভাবঃ অতি স্থুলতায় ধুমপানের প্রভাব খুবই নগন্য। তবে যারা ধুমপান ছেড়ে দেয় ১০ বছর সময়ের ব্যবধানে পরুষদের গড়ে ৪.৪০ কেজি (৯.৭ পাউন্ড) এবং মেয়েদের ৫ কেজি (১১ পাউন্ড) ওজন বাড়ে।
৬। গর্ভাবস্থাঃ প্রতিবার গর্ভধারণের সময় অধিকাংশ মহিলার ওজন ৫-৬ পাউন্ড বেড়ে যায়। বেশি বয়সে গর্ভ ধারণ করলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। সন্তান প্রসাবের পর অনেক মহিলার সেই ওজন কমে না। ফলে স্থুলতা বাড়ে।
৭। আবেগঃ বিষন্নতা, আশাহীনতা, ক্রোধ, একঘেঁয়েমি, বিরক্তি, নিজেকে ছোট ভাবা প্রভৃতি কারণে স্থুলতা বাড়ে।
৮। তাপমাত্রাঃ পরিবেশের তাপমাত্রার তারতম্য কমে গেলে মানুষ মোটা হতে পারে।
৯। লিঙ্গভেদঃ নারীর চেয়ে পুরুষের দেহে বেশি পেশি থাকে। পেশির টিস্যু বেশি ক্যালরী ব্যবহার করে। একারণে সমপরিমাণ আহার করলেও পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি মেদ জমে ও ওজন বাড়ে। মেদের কারণে ৬৪% পুরুষ এবং ৭৭% মহিলা ডায়াবেটিস রোগে ভোগে।
১০। অসুখঃ পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, কুসিং সিনড্রোম, হাইপোথাইরয়েডিজম, প্রাডার উইলি সিনড্রোম প্রভৃতি রোগের কারণে হয়।
১১। নিদ্রাহীনতাঃ রাতে সাত ঘন্টার কম ঘুমালে হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে। ক্ষুধা বেড়ে যায়। অধিক পরিমাণে আহার গ্রহণের কারণে দেহের ওজন বেড়ে যায়।
১২। ওষুধ সেবনঃ নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের কারণে দেহের ওজন বাড়তে পারে অথবা শারীরিক গঠনে পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর মধ্যে ইনসুলিন, স্টেরয়েড, সালফোনাইল্যুরিয়াস, থিয়াজোলিডাইনেডিয়োনেস, জন্মনিরোধ বড়ি অন্যতম।
১৩। শিক্ষার অভাবঃ স্থুলতার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অনেকের অজানা রয়েছে। সুষম খাদ্য ও সুস্বাস্থ্য সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা, স্থুলতার কারণ ও সমস্যা সম্পর্কে ধারণা না থাকা, বাচ্চাদের অতিরিক্ত খাওয়ানো প্রভৃতির কারণে ইহা ঘটছে।