যে প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি হয় তাকে যৌনজনন বলে। হাইড্রার যৌনজনন দু’টি ধাপে সম্পন্ন হয়। গ্যামিটোজেনেসিস ও নিষেক।
১। গ্যামিটোজেনেসিস বা জননকোষ সৃষ্টি (Gametogenesis)ঃ যে প্রক্রিয়ায় গ্যামিট তথা শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপন্ন হয় তাকে গ্যামিটোজেনেসিস বলে। ইহা দুই প্রকার। স্পার্মাটোজেনেসিস ও উওজেনেসিস।
(i) স্পার্মাটোজেনেসিস (Spermatogenesis)ঃ যে প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু উৎপন্ন হয় তাকে স্পার্মাটোজেনেসিস বলে। হাইড্রার দেহের উপরের দিকে শুক্রাশয় গঠিত হয়। শুক্রাশয়ের ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বার বার বিভাজিত হয়ে স্পার্মাটোগোনিয়া সৃষ্টি করে। প্রতিটি স্পার্মাটোগোনিয়া খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয় এবং স্পার্মাটোসাইটে পরিনত হয়। প্রতিটি স্পার্মাটোসাইট মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে ৪ টি করে স্পার্মাটিড উৎপন্ন করে। প্রতিটি স্পার্মাটিড স্পার্মিওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় শুক্রাণুতে রুপান্তরিত হয়।
(ii) উওজেনেসিস (Oogenesis)ঃ যে প্রক্রিয়ায় ডিম্বাণু উৎপন্ন হয় তাকে উওজেনেসিস বলে। হাইড্রার দেহের নিচের দিকে ডিম্বাশয় গঠিত হয়। ডিম্বাশয়ের ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বার বার বিভাজিত হয়ে উওগোনিয়া সৃষ্টি করে। প্রতিটি উওগোনিয়া খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয় এবং উওসাইটে পরিনত হয়। প্রতিটি উওসাইট মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে ৩ টি করে ক্ষুদ্র পোলার বডি এবং একটি উওটিড উৎপন্ন করে। উওটিডটি রুপান্তরিত হয়ে ডিম্বাণুতে পরিনত হয়। ডিম্বাণু জিলেটিনের পিচ্ছিল আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে।
২। নিষেক (Fertilization)ঃ শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক বলে। শুক্রাণু পরিনত হয়ে শুক্রাশয়ের নিপ্ল বিদীর্ণ করে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং পানিতে ঝাঁকে ঝাঁকে সাঁতার কাঁটতে থাকে। ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে।