হেপাটাইটিস বা জন্ডিস রোগের ভাইরাস

১। হেপাটাইটিস- A অ ভাইরাস (HVA)
হেপাটাইটিস-এ ভাইরাস হলো RNA ভাইরাস। এর আয়তন ২৭ nm। হেপাটাইটিস- A ভাইরাস রোগীর মলমূত্র, দূষিত খাবার, দুষিত পানি প্রভৃতির মাধ্যমে ছড়ায়। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির মাথা ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, বমি ভাব, দূর্বলতা, চোখ ও ত্বকের রং পরিবর্তন প্রভৃতি দেখা যায়। এই ভাইরাসের সুপ্তিকাল ১৪-২৮ দিন। এ রোগ বিনা চিকিৎসায় নিরাময় হয়।
২। হেপাটাইটিস- B ভাইরাস (HVB)
হেপাটাইটিস- B ভাইরাস হলো DNA ভাইরাস। এর আয়তন ৪২ nm। হেপাটাইটিস-B ভাইরাস ভয়ঙ্কর এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই রোগে লিভার সিরোসিসসহ নানা জটিলতা দেখা দেয় এবং রোগী মারা যেতে পারে। রক্ত, বীর্য, ইঞ্জেকশনের সূঁচ ও সিরিঞ্জ, মুখের লালা, শরীরের যে কোন রস প্রভৃতির মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। রোগাক্রান্ত মা থেকে গর্ভের সন্তানে বিস্তার লাভ করে। এই ভাইরাসের সুপ্তিকাল ৪৫-১৮০ দিন।
৩। হেপাটাইটিস-C ভাইরাস (HVC)
হেপাটাইটিস-C ভাইরাস হলো RNA ভাইরাস। এর আয়তন ৩০ nm। হেপাটাইটিস-C ভাইরাস ভয়ঙ্কর এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হেপাটাইটিস-C ভাইরাসকে বলা হয় তুষের আগুন। হেপাটাইটিস-C ভাইরাস দূরারোগ্য, লিভার নষ্ট করে নানা জটিলতা সৃষ্টি করে এবং রোগীর মৃত্যু ঘটে। রক্ত, মাদক বা ড্রাগ, ইঞ্জেকশনের সূঁচ ও সিরিঞ্জ প্রভৃতির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। ভাইরাস যুক্ত দুষিত রক্ত ত্বকের সংস্পর্শে দেহে বিস্তার লাভ করে। এই ভাইরাসের সুপ্তিকাল ১৪-১৮০ দিন।
৪। হেপাটাইটিস-D ভাইরাস (HVD)
হেপাটাইটিস-D ভাইরাস হলো RNA ভাইরাস। এর আয়তন ৩৫ nm। হেপাটাইটিস-D ভাইরাস অত্যন্ত মারাত্বক। রক্ত, মাদক বা ড্রাগ, ইঞ্জেকশনের সূঁচ ও সিরিঞ্জ প্রভৃতির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। রোগীর লিভার সিরোসিস হয় এবং মৃত্যু ঘটে। এই ভাইরাসের সুপ্তিকাল ২১-৪৯ দিন।
৫। হেপাটাইটিস-E ভাইরাস (HVE)
হেপাটাইটিস-E ভাইরাস হলো RNA ভাইরাস। এর আয়তন ২৭ nm। হেপাটাইটিস-E ভাইরাস রোগীর মলমূত্র, দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির মাথাব্যথা, ক্ষুধামন্দা, দূর্বলতা, ত্বকের রং পরিবর্তন প্রভৃতি দেখা যায়। এই ভাইরাসের সুপ্তিকাল ২১-৫৬ দিন। এ রোগ বিনা চিকিৎসায় নিরাময় হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *