থিয়োফ্রাস্টাস–এর কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস (Classification of Theophrastus)
Theos অর্থ god এবং to phrase অর্থ devine expression হতে Theophrastus নামটি এসেছে। Theophrastus এর নাম ছিল Tyrtamus। তিনি চমৎকার ভাবে খুব সুন্দর বক্তব্য পেশ করতে পারতেন। তাই তাঁর নাম দেওয়া হয় Theophrastus। প্লেটো ও অ্যারিস্টোটল এর ছাত্র ছিলেন Theophrastus। তিনি ছিলেন বিখ্যাত গ্রিক উদ্ভিদবিজ্ঞানী এবং লাইসিয়াম গার্ডেনের প্রধান। তাঁকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। তাঁর দুইটি বই অধিক পরিচিত। Enquiry into Plants (Hitoria Plantarum) ও On the Causes of Plants। তাঁর বইগুলো গ্রিক ভাষায় রচিত। Enquiry into Plants গ্রন্থটি Hitoria Plantarum নামে অধিক পরিচিত।Hitoria Plantarum গ্রন্থটি ১০ খন্ড দ্বারা গঠিত।
(১) এনাটমি
(২) বৃক্ষ ও বংশবিস্তার
(৩) বন্য বৃক্ষ
(৪) বিদেশী বৃক্ষ ও গুল্ম
(৫) কাষ্ঠ বৃক্ষ
(৬) উপগুল্ম
(৭) পটহার্বস
(৮) শস্য ও লিগুম
(৯) উদ্ভিদের ভেষজ ব্যবহার এবং
(১০) যা হারিয়ে গিয়েছে
Hitoria Plantarum গ্রিক ভাষা থেকে ল্যাটিন অনুবাদ করেন Theodore Gaza এবং ইংরেজি অনুবাদ করেন Arthur Hort।
বিজ্ঞানী থিয়োফ্রাস্টাস উদ্ভিদের কান্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে চারটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন।
১। ট্রি (Tree)
২। শ্রাব বা গুল্ম (Shrub)
৩। আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম (Under Shrub)
৪। হার্ব বা বীরুৎ (Herb)
১। ট্রি (Tree)ঃ একক কান্ডবিশিষ্ট শক্ত ও কাষ্ঠল উদ্ভিদকে ট্রি বা বৃক্ষ বলে। ইহা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। আম–Mangifera indica, কাঁঠাল–Artoccarpus heterophyllus, জাম–Syzygium cumini ইত্যাদি।
২। শ্রাব বা গুল্ম (Shrub) ঃ একক কান্ডবিহীন শক্ত ও কাষ্ঠল শাখা–প্রশাখাবিশিষ্ট ঝোপ জাতীয় উদ্ভিদকে শ্রাব বা গুল্ম বলে। ইহা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। জবা–Hibiscus rosa sinensis, রঙ্গন–Ixora coccinea, গন্ধরাজ–Gardenia jasminoides ইত্যাদি।
৩। আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম (Under Shrub) ঃ শ্রাব এর চেয়ে ছোট কাষ্ঠল উদ্ভিকে বলা হয় আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম বলে। ইহা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। কাল্কাসুন্দা–Cassia sopera, আঁশ শেওড়া–Glycosmis arborea, গোলাপ–Rosa sinensis ইত্যাদি।
৪। হার্ব বা বীরুৎ (Herb) ঃ নরম কান্ডবিশিষ্ট উদ্ভিকে হার্ব বা বীরুৎ বলে। ইহা বর্ষজীবী উদ্ভিদ। অধিকাংশ বীরুৎ একবার ফল দিয়ে মারা যায়। কাষ্ঠল কান্ডবিশিষ্ট হার্বকে উডি হার্ব বলে। ধান–Oryza sativa, সরিষা–Brassica npus, পাট-Corchorus olitorius ইত্যাদি।
আয়ুষ্কালের উপর ভিত্তি করে হার্বকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা–
(i) বর্ষজীবী (Annual)ঃ এসব উদ্ভিদ এক ঋতু বা এক বছর এর কম সময় বেঁচে থাকে। সরিষা–Brassica napus, ছোলা-Cicer arietinum, গম-Triticum aestivum ইত্যাদি।
(ii) দ্বিবর্ষজীবী (Biennual) ঃ এসব উদ্ভিদ দুই ঋতু বা বছর এর কম সময় বেঁচে থাকে। প্রথম বছর দৈহিক বৃদ্ধি লাভ করে এবং দ্বিতীয় বছর ফুল ও ফল হয়। মূলা-Raphanus sativus, ফুলকফপ-Brassica oleracea ইত্যাদি।
(iii) বহুবর্ষজীবী (Perennial ) ঃ এসব উদ্ভিদ দুই ঋতু বা বছর এর বেশি সময় বেঁচে থাকে। এদের ভূ–নি¤œস্থ কান্ড থেকে প্রতিবছর বায়বীয় কান্ড বের হয়। আদা–Zingiber officinale, হলুদ– Curcuma domestica, দুর্বাঘাস-Cynodon dactylon ইত্যাদি।