কোষতত্ত্ব-কোষের প্রকারভেদ-উদ্ভিদ কোষ-প্রাণী কোষ

কোষতত্ত্ব (Cell theory)

১৮৩৮-৩৯ সালে জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী স্লেইডেন, প্রাণিবিজ্ঞানী থিওডোর সোয়ান এবং রবার্ট ভারচু কোষ সম্পর্কে যে তত্ত্ব প্রদান করেন তাকে কোষতত্ত্ব বলে। কোষতত্ত্বের মূল বিষয় হলো-

১। সকল জীবই কোষ দ্বারা গঠিত।

২। কোষ হলো জীবনের মৌলিক একক।

৩। কোষ হলো জীবের গাঠনিক, সাংগঠনিক ও শারীরবৃত্তীয় একক।

৪। ইহা বংশগতির একক।

৫। পূর্বতন কোষ থেকে নতুন কোষের সৃষ্টি হয়।

৬। দেহের সকল কার্যাবলী কোষের ভিতরে সংঘটিত হয়।

৭। দেহের জৈবিক কার্যক্রম সকল কোষের কার্যাবলীর উপর নির্ভর করে।

৮। একই প্রজাতির সকল সদস্যের কোষের রাসায়নিক প্রকৃতি সমরুপ।

 

কোষ মতবাদের সীমাবদ্ধতা

১। ভাইরাস, ভিরিয়ন ও প্রিয়ন এর কোষীয় অবস্থান নাই।

২। ব্যাকটেরিয়া ও নিলাভ সবুজ শৈবালের সুগঠিত নিউক্লিয়াস নাই।

৩। অনেক শৈবাল ও ছত্রাকের কোষ বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত।

৪। অনেক কোষের প্রোটোপ্লাজম মৃত।

৫। লোহিত রক্তকণিকা ও সিভনল নিউক্লিয়াসবিহীন।

 

কোষের প্রকারভেদ (Type of Cell)

শারীরবৃত্ত্বীয় কাজের উপর ভিত্তি করে কোষকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১। দেহকোষঃ বহুকোষী জীবের যে সব কোষ শুধু মাত্র দেহ গঠন করে তাকে দেহকোষ বলে। ইহা ডিপ্লয়েড প্রকৃতির। যেমন- মূল, কান্ড, পাতা, পেশিকোষ, স্নায়ুকোষ, জাইলেম, ফ্লোয়েম  প্রভৃতি।

২। জননকোষঃ যে সব কোষ জীবের জনন কাজে অংশ গ্রহণ করে তাকে জনন কোষ বলে। যেমন- শুক্রাণু ও ডিম্বাণু।

 

নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর ভিত্তি করে Dougherty (১৯৭৫) কোষকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন।

১। আদি কোষ (Prokaryotic cell)ঃ গ্রিক pro  শব্দ অর্থ আদি এবং karyon অর্থ নিউক্লিয়াস নিয়ে Prokaryotic শব্দটি গঠিত। Prokaryotic শব্দের অর্থ হলো আদি নিউক্লিয়াস। যে সব কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নাই তাদেরকে আদি কোষ বলে। যেমন- ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ শৈবাল (ইএঅ), মাইকোপ্লাজমা (PPLO)

২। প্রকৃত কোষ (Eukaryotic cell)ঃ গ্রিক eu শব্দ অর্থ প্রকৃত এবং karyon অর্থ নিউক্লিয়াস নিয়ে Eukaryotic শব্দটি গঠিত। Eukaryotic শব্দের অর্থ হলো প্রকৃত নিউক্লিয়াস। যে সব কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস আছে তাদেরকে প্রকৃত কোষ বলে। যেমন- শৈবাল ও ছত্রাকের কোষ

 

কয়েকটি উদ্ভিদ কোষ (Plant Cell)

ট্রাকিড, ভেসেল, সীভনল, রক্ষীকোষ, স্টোনকোষ, গ্রন্থিকোষ, মূলরোম, ডায়াটম, প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা।

 

কয়েকটি প্রাণী কোষ (Animal Cell)

শুক্রাণু, ডিম্বাণু, লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা, গবলেট কোষ, যকৃত কোষ, ফাইব্রোব্লাস্ট, সেরাটিয়াম, মেদকোষ, অস্টিওসাইট, কোয়ানোসাইট, ক্রোম্যাটোফোর, পেশিকোষ, স্নায়ুকোষ

One thought on “কোষতত্ত্ব-কোষের প্রকারভেদ-উদ্ভিদ কোষ-প্রাণী কোষ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *