ব্যাকটেরিয়াতে প্রকৃত যৌন জনন ঘটে না। এর যৌন জনন জেনেটিক রিকম্বিনেশন নামে পরিচিত। যে প্রক্রিয়ায় কোন কোষের জেনেটিক পদার্থ বা DNA অন্য কোন কোষে স্থানান্তরিত হয়ে নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন নতুন কোষ সৃষ্টি করে তাকে জেনেটিক রিকম্বিনেশন বলে। ১৯৪৬ সালে বিজ্ঞানী লিন্ডারবার্গ (Lenderberg) এবং ট্যাটাম (Tatum) ব্যাকটেরিয়ার যৌন জনন আবিষ্কার করেন। ওলম্যান রিঙ্ক (Wollman Rink) এবং জ্যাকব (Jacob) ব্যাকটেরিয়ার যৌন জনন বর্ননা করেন। ব্যাকটেরিয়ার জেনেটিক রিকম্বিনেশন তিনটি উপায়ে হয়ে থাকে।
১। কনজুগেশনঃ যে প্রক্রিয়ায় দু’টি কোষের মধ্যে কনজুগেশন নালী সৃষ্টির মাধ্যমে এককোষ থেকে নিউক্লিয়ার পদার্থ (DNA) অন্য কোষে স্থানান্তরিত হয় তাকে কনজুগেশন বলে। বিপরীত যৌনতা (+,Ñ) সম্পন্ন দুটি ব্যাকটেরিয়া কোষ পরস্পরের কাছাকাছি আসে এবং ঘনিষ্ট ভাবে পাশাপাশি অবস্থান করে। এদের একটিকে দাতা (Doner) এবং অপরটিকে গ্রহীতা (Recipient) বলে। মুখোমুখী অবস্থিত দুটি কোষের প্রাচীর স্ফীত হয়ে সংশ্লে¬ষ নালী সৃষ্টি করে। নালিকা দুটি বৃদ্ধি পেয়ে পরস্পরকে স্পর্শ করে। পরে স্পর্শ স্থানের প্রাচীর বিগলিত হয়ে একটি কনজুগেশন নালিকা গঠন করে। পাইলাসের (fertility pilus) মধ্য দিয়ে দাতা কোষ হতে নিউক্লিয়ার বস্তু (DNA) গ্রহীতা কোষে প্রবেশ করে। দাতা কোষ থেকে গ্রহীতা কোষে নিউক্লিয়ার বস্তুর সম্পুর্ণ অংশ প্রবেশ করার আগেই কোষ দুটি পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়। ফলে দাতা কোষ থেকে গ্রহীতা কোষে নিউক্লিয়ার বস্তুর অংশ বিশেষ প্রবেশ করে। দাতা কোষটি নিউক্লিয়ার বস্তু হারিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। পরে দাতা ও গ্রহীতার নিউক্লিয়ার বস্তু মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। একে মেরোজাইগোট বলে। পরবর্তীতে মেরোজাইগোট দ্বি-বিভাজন প্রক্রিয়ায় সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকে। উৎপন্ন প্রতিটি নতুন কোষে দাতা ও গ্রহীতার গুণাবলী বিদ্যমান থাকে। ১৯৪৬ সালে বিজ্ঞানী লিন্ডারবার্গ (Lenderberg) এবং ট্যাটাম (Tatum) ব্যাকটেরিয়ার কনজুগেশন প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেন।
২। ট্রান্সফরমেশনঃ যে প্রক্রিয়ায় একটি কোষের DNA অন্য কোষে প্রবেশ করে বংশগতীয় পুনর্বিন্যাস ঘটায় তাকে ট্রান্সফরমেশন বলে। ট্রান্সফরমেশন প্রক্রিয়ায় দাতা কোষ হতে শুধু মাত্র DNA গ্রহীতা কোষে প্রবেশ করে। পরে দাতা ও গ্রহীতার DNA মিলিত হয়ে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটায়।
৩। ট্রান্সডাকশনঃ যে প্রক্রিয়ায় ভাইরাসের মাধ্যমে একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে জেনেটিক পদার্থ (DNA) অন্য একটি ব্যাকটেরিয়াতে স্থানান্তরিত হয়ে নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন নতুন ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করে তাকে ট্রান্সডাকশন বলে। ১৯৫২ সালে বিজ্ঞানী জিনডার (Zinder) এবং লিন্ডারবার্গ (Lenderberg) ব্যাকটেরিয়ার ট্রান্সডাকশন আবিষ্কার করেন।