১। জিনের নতুন বিন্যাসঃ ক্রসিংওভারের সময় দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে। ফলে ক্রোমোসোমে জিনের নতুন বিন্যাস ঘটে।
২। জেনেটিক ভ্যারিয়েশনঃ ক্রসিংওভারের ফলে জীবদেহে জেনেটিক ভ্যারিয়েশন সৃষ্টি হয়। ফসলী উদ্ভিদে ক্রসিংওভারের মাধ্যমে নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয়।
৩। বংশগত পরিবর্তনঃ কৃত্রিম উপায়ে ক্রসিংওভার ঘটিয়ে বংশগতিতে পরিবর্তন আনা যায়। এ কারণে প্রজনন বিদ্যায় ক্রসিংওভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪। জীব বৈচিত্র্য সৃষ্টিঃ একটি জীবের সাথে অন্য একটি জীবের বৈশিষ্ট্যগত ও চরিত্রগত পার্থক্যই হলো জীব বৈচিত্র্য। একই প্রজাতির দুটি উদ্ভিদ বা প্রাণীর মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য জীববৈচিত্র্যের অন্তর্গত। জীনের অবস্থান ও সজ্জার পরিবর্তন হওয়ার কারণে জীববৈচিত্র্যতা সৃষ্টি হয়।
৫। নতুন পরিবেশে টিকে থাকাঃ ক্রসিংওভারের কারণে জীবদেহে বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন ঘটে। এতে জীবকুল নতুন পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতা অর্জন করে এবং টিকে থাকে।
৬। জেনেটিক ম্যাপ তৈরীঃ ক্রসিংওভারের শতকরা হার নির্ণয় করে ক্রোমোসোমে জিনের অবস্থান নির্ণয় এবং ক্রোমোসোম ম্যাপ তৈরী করা হয়।
৭। জিন তাত্তি¡ক গবেষণায়ঃ জিনতাত্তি¡ক গবেষণা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ক্রসিংওভার জিন তাত্ত্বিক গবেষণায় একটি আকর্ষণীয় বিষয়।
৮। বিবর্তনে সহায়তাঃ ক্রসিংওভারে বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন ঘটে, জীববৈচিত্র্যতা সৃষ্টি হয় এবং নতুন পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে বিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।
৯। ফসলী উদ্ভিদের উন্নতিঃ ক্রসিংওভারের মাধ্যমে ফসলী উদ্ভিদে কাক্সিক্ষত বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ ঘটানো যায়। উন্নত জাতের ফসল সৃষ্টি করা যায়।
১০। প্রজনন বিদ্যায়ঃ কৃত্রিম উপায়ে ক্রসিংওভার ঘটিয়ে বংশগতিতে পরিবর্তন ঘটানো যায়। তাই প্রজনন বিদ্যায় এর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
১১। ক্রোমোসোমের সরলরৈখিক বিন্যাসঃ ক্রসিংওভারের কারণে ক্রোমোসোমে জিনের সরলরৈখিক বিন্যাস ঘটে।
১২। ক্রোমোসোম ম্যাপ তৈরীঃ প্রথমে ক্রসিংওভারের শতকরা হার নির্ণয় করা হয়। এরপর ক্রোমোসোমে জিনের অবস্থান নির্ণয় করে ক্রোমোসোমের ম্যাপ তৈরী করা হয়।
জীবজগতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া হলো ক্রসিংওভার। ক্রসিংওভারের মাধ্যমে ক্রোমোসোমে বংশগত বৈশিষ্ট্যর পুনর্বিন্যাস ঘটে। ফলে প্রকরণ সৃষ্টি হয়। প্রজাতিতে বিবর্তনের প্রাথমিক সূচনা ঘটে।