যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের কার্যকারীতায় জটিল খাদ্যবস্তু ভেঙ্গে সরল ও শোষণযোগ্য খাদ্যে পরিনত হয় তাকে পরিপাক বলে। হাইড্রা প্রোটিন, ¯েœহ ও সরল শর্করা জাতীয় খাদ্য পরিপাক করতে পারে। এরা স্টার্চ বা জটিল শর্করা পরিপাক করতে পারে না। খাদ্যের অপরিপাককৃত অংশ মুখছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসে। Hydra-র খাদ্য পরিপাক দুইটি পর্যায়ে সংঘটিত হয়। বহিঃকোষীয় পরিপাক এবং অন্তঃকোষীয় পরিপাক।
১। বহিঃকোষীয় পরিপাক (Extracellular digestion)ঃ যে প্রক্রিয়ায় কোষের বাইরে পাকস্থলী, পৌষ্টিকনালি ও সিলেন্টেরণের ভিতরে খাদ্যবস্তু পরিপাক হয় তাকে বহিঃকোষীয় পরিপাক বলে। খাদ্যবস্তু সিলেন্টেরনে পৌছানোর সঙ্গে সঙ্গে মুখ ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়। এনজাইমের প্রভাবে শিকার বা খাদ্য মারা যায়। দেহ প্রাচীরের সংকোচন-প্রসারণের ফলে শিকারটি ছোট ছোট কণায় পরিনত হয়। গ্রন্থি কোষ হতে নিঃসৃত এনজাইমের প্রভাবে খাদ্য পরিপাক হয়। প্রোটিন ভেঙ্গে পলিপেপটাইডে পরিনত হয়। এখানে লিপিড জাতীয় খাদ্যের পরিপাক হয় না।
২। অন্তঃকোষীয় পরিপাক (Intracellular digestion)ঃ যে প্রক্রিয়ায় কোষের সাইটোপ্লাজমের ভিতরে খাদ্য গহŸরে খাদ্যবস্তু পরিপাক হয় তাকে অন্তঃকোষীয় পরিপাক বলে।
সিলেন্টেরনে আংশিক পাচিত খাদ্য কণা গুলো দেহের সংকোচন-প্রসারণের ফলে আরও ক্ষুদ্র কণায় পরিনত হয়। ক্ষণপদের সাহায্যে কিছু খাদ্য কণা তরলে পরিনত হয়। এরপর খাদ্য কণা গুলো সাইটোপ্লাজমের খাদ্য গহ্বরের ভিতরে প্রবেশ করে। সাইটোপ্লাজম হতে নিঃসৃত এনজাইম খাদ্যকে পরিপাক করে। খাদ্য প্রথমে আম্লিক এবং পরে ক্ষারীয় পর্যায়ে পরিপাক হয়। প্রোটিন ভেঙ্গে অ্যামাইনো এসিডে এবং লিপিড ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড ও গিøসারলে পরিনত হয়।