ঘাস ফড়িং–এর জনন প্রক্রিয়া নিচে আলোচনা করা হলো।
১। যৌন মিলনঃ গ্রীষ্মের শেষ দিকে ঘাস ফড়িং–এর যৌন মিলন ঘটে। এ সময় পুরুষ ফড়িং স্ত্রী ফড়িং–এর দেহে সেমিনাল ফ্লুইড প্রবেশ করিয়ে দেয়। সেমিনাল ফ্লুইডে শুক্রাণু থাকে। ডিম না পাড়া পর্যন্ত শুক্রাণু গুলো স্ত্রী ফড়িং–এর স্পার্মাথিকায় জমা থাকে।
২। নিষেকঃ শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক বলে। যৌন মিলনের পর শুক্রাণু স্ত্রীর শুক্রধানীতে জমা থাকে। স্ত্রী ফড়িং–এর দেহের ভিতরে পরিনত ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটে।
৩। ডিম পাড়াঃ মিলনের পর থেকে কিছু দিন পর পর স্ত্রী ফড়িং ডিম পাড়ে (সেন্ট্রোলেসিথাল)। স্ত্রী ফড়িং ওভিপোজিটরের সাহায্যে ১০ সেমি গভীর একটি গর্ত করে। এরা মোট ১০টি গুচ্ছে ডিম পাড়ে। প্রতিটি গুচ্ছে ২০টি করে ডিম থাকে। ডিম গুলো ৩–৫ মিমি লম্বা এবং ভাইটেলিন পর্দা ও কোরিয়ন দ্বারা আবৃত থাকে। ডিমগুলো একটি ডিম–পাত্রে সঞ্চিত থাকে এবং সিমেন্ট জাতীয় পদার্থ দ্বারা আটকে থাকে।
৪। পরিস্ফুটনঃ যে প্রক্রিয়ায় ভ্রুণ থেকে পুর্ণাঙ্গ প্রাণীর সৃষ্টি হয় তাকে পরিস্ফুটন বলে। ঘাস ফড়িং–এর নিষিক্ত ডিম্বাণুর তিন সপ্তাহ ধরে পরিস্ফুটন চলে। শীতকালে পরিস্ফুটন বন্ধ থাকে। এ সময়কে ডায়াপোজ বলে। ডায়াপোজের কারণে শিশু নিম্ফ শীতের হাত থেকে রক্ষা পায়। প্রথমে ক্লিভেজ প্রক্রিয়ায় বার বার বিভাজনের মাধ্যমে মাইক্রোমিয়ার ও ম্যাক্রোমিয়ার সৃষ্টি হয়। মাইক্রোমিয়ার ও ম্যাক্রোমিয়ার গুলো ব্লাস্টুলা দশা সৃষ্টি করে। ব্লাস্টুলা দশার ব্লাস্টোমিয়ার কোষ গুলো গ্যাস্ট্রুলা দশা সৃষ্টি করে। গ্যাস্ট্রুলা দশা থেকে ধাপে ধাপে শিশু নিম্ফ সৃষ্টি হয়। শিশু নিম্ফ খোলস বদলানোর মাধ্যমে ইমাগোতে পরিনত হয়। পরে ইমাগো থেকে পরিপুর্ণ ফড়িং–এর জন্ম হয়।