এশিয়ার বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হলো হালদা নদী। এ নদী খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় থানার বদনাতলী পাহাড় থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। নদীটি ফটিকছড়ির রাউজান ও হাটহাজারীর কালুরঘাট অতিক্রম করে কর্ণফুলী নদীতে মিশে গিয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য ৯৫ কিলোমিটার এবং গভীরতা ২৫–৫০ ফুট।
হালদা নদী থেকে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ প্রভৃতি কার্প জাতীয় মাছের ডিম সরাসরি সংগ্রহ করা হয়। হালদা নদীতে মাছের ডিম সংগ্রহের প্রধান মৌসুম হলো বৈশাখ–জৈষ্ঠ্য মাস। আমাবশ্যা ও পূর্ণিমার তিথিতে প্রবল বর্ষণ ও মেঘের গর্জনের সময় মা মাছ ডিম ছাড়ে। গত পঞ্চাশের দশকে দেশের মোট মৎস্য চাহিদার ৭০% পূরণ করতো হালদা নদীর পোনা। ১৯৪৬ সালে হালদা নদী থেকে ৪০০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। ২০০৭ সালে ৩৫০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। একারণে হালদা নদীকে প্রাকৃতিক জিন ব্যাংক এবং মৎস্য খনি নামে অভিহিত করা হয়। এই নদীকে মা মাছের মেটারনিটি ক্লিনিক বলা হয়।
বর্তমানে হালদা নদীর ৪টি বাঁক কেটে ফেলা হয়েছে। অপরিকল্পিত ভাবে সুইচগেট নির্মাণ করা হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। মাছের প্রজননক্ষেত্র নষ্ট করা হয়েছে। মা মাছ নিধন করা হচ্ছে।
১৯৮৭ সালে চট্রগ্রামের হাটহাজারীর বাড়িঘোনা অংশকে প্রথমবারের মতো সরকারীভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সালে হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন সম্পর্কে ৭০টি সুপারিশমালা তৈরী করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি নামে একটি আধুনিক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। ২০২১ সালে হালদা নদীর ২৩,৪২২ একর এলাকাকে হালদা মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়েছে। হালদা মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণার সাথে সাথে ১০টি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
১। হালদা নদীতে কেউ মাছ ধরতে পারবে না।
২। মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রজনন মৌসুমে কেবলমাত্র ডিম সংগ্রহ করতে পারবে।
৩। কেউ হালদা নদীর জীববৈচিত্র্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
৪। হালদা নদীকে দূষিত করা যাবে না।
৫। এই নদীতে কেউ ময়লা–আবর্জনা ফেলতে পারবে না।
৬। হালদা নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।
৭। এই নদীতে কোন বাঁধ নির্মাণ করা যাবে না।
৮। হালদা নদী থেকে পানি সংগ্রহের কোন প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না।
৯। মাছের প্রজননকালে নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল করতে পারবে না।
১০। হালদা নদী কেবল গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যাবে।