অণুচক্রিকা বা প্লেটলেট এর গঠন ও কাজ । Platets । Thrombocytes । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

অণুচক্রিকা হলো সবচেয়ে ক্ষুদ্র রক্তকণিকা। ইহা গোলাকার, ডিম্বাকার, দন্ডাকার ও নিউক্লিয়াসবিহীন। এদের ব্যাস ১-৪ µm। এদের সাইটোপ্লাজমে পিনোসাইটিক গহŸর ও সংকোচী গহ্বর থাকে। প্রতি ঘনমিলিলিটার রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা ১.৫-৩.০ লক্ষ। তবে অসুস্থ দেহে এর সংখ্যা আরও বেশি। এদের গড় আয়ু ৮-১২ দিন। এতে প্রোটিন ও সেফালিন নামক ফসফোলিপিড থাকে। ইহা শুধুমাত্র প্লীহায় সঞ্চিত থাকে। এরা অস্থিমজ্জার ম্যাগাক্যারিওসাইট কোষ থেকে উৎপন্ন হয় এবং যকৃত ও প্লীহায় ধ্বংস হয়। প্রতিদিন প্রায় ২০০ বিলিয়ন (২০ হাজার কোটি) অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। অণুচক্রিকার ঝিল্লিতে অবস্থিত গ্লাইকোপ্রোটিন রক্তবাহিকার ক্ষতস্থানে যুক্ত হয় এবং ঝিল্লি থেকে বিপুল পরিমাণ ফসফোলিপিড নির্গত হয়। এতে রক্ত জমাট বাঁধা ত্বরান্বিত হয়।

অণুচক্রিকার  কাজ

১। রক্ত জমাট বাঁধাঃ অণুচক্রিকা ক্ষতস্থানে রক্ত তঞ্চন ঘটায় এবং হিমোস্ট্যাটিক প্লাগ গঠন করে রক্ত ক্ষরণ বন্ধ করে।

২। রক্ত নালির সংকোচনঃ ইহা সেরোটেনিন উৎপন্ন করে যা রক্ত নালির সংকোচন ঘটায়।

৩। জীবাণু ধ্বংসঃ এরা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কার্বন কণা ও ভাইরাস ভক্ষণ করে।

৪। পুনর্গঠনঃ ইহা রক্ত নালিকার আবরণীকে মেরামত করে পুনর্গঠন করে।

৫। প্রোটিন ধারণঃ এদের আবরণী ভাঁজযুক্ত যা কোলাজেন ও ফাইব্রিনোজেন প্রোটিন ধারণ করে।

৬। এনজাইম সৃষ্টিঃ এরা সহজেই ভেঙ্গে যায় এবং রক্ত তঞ্চনের জন্য থ্রম্বোকাইনেজ এনজাইম সৃষ্টি করে।

৭। ক্লটিং ফ্যাক্টর ক্ষরণঃ অণুচক্রিকা ক্লটিং ফ্যাক্টর ক্ষরণ করে। ইহা রক্ত জমাট বাঁধা ত্বরান্বিত করে।

৮। গ্রোথ ফ্যাক্টর ক্ষরণঃ অণুচক্রিকা গ্রোথ ফ্যাক্টর ক্ষরণ করে। ইহা এন্ডোথেলিয়ামের অন্তঃপ্রাচীরকে সুরক্ষা করে।

৯। রক্ত জমাট বিগলনঃ প্রয়োজন শেষে রক্ত জমাট বিগলনে সাহায্য করে।

১০। হৃৎরোগ সৃষ্টিঃ স্বাভাবিকের চেয়ে অণুচক্রিকার সংখ্যা বেশি থাকলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq