মাইক্রোটিউবিউল (Microtubules)
কোষের সাইটোপ্লাজমে যে লম্বা, নলাকার, ফাঁপা ও শাখাবিহীন ক্ষুদ্রাঙ্গকে মাইক্রোটিউবিউল বলে। ১৯৫৩ সালে রবার্টিস ও ফ্রাঞ্চি প্রাণির স্নায়ুকোষ থেকে ইহা আবিষ্কার করেন। ১৯৫৩ সালে বিজ্ঞানী Ledbetter এবং Porter উদ্ভিদ কোষে এদের অবস্থান প্রথম প্রত্যক্ষ করেন।
গঠনঃ মাইক্রোটিউবিল্স হলো লম্বা, নলাকার ও ফাঁপা অঙ্গাণু। এর ব্যাস ১০-২০ মিলিমাইক্রন এবং লম্বা কয়েক মাইক্রন। এদের একপ্রান্তকে ‘+’ এবং অপর প্রান্তকে ‘-’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রতিটি মাইক্রোটিউবিউলস্ ১৩টি প্রোটোটিউবিউল থাকে। প্রতিটি প্রোটোটিউবিউল ডাইমেরিক প্রোটিন দ্বারা গঠিত। প্রতিটি ডাইমেরিক প্রোটিন অণু α এবং β tubulin নিয়ে গঠিত।
মাইক্রোটিউবিউলের কাজ/গুরুত্ব
১। ইহা কোষের আকৃতি দান ও যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান করে।
২। ইহা সাইটোকংকালের ভূমিকা পালন করে।
৩। ইহা সাইটোপ্লাজমের সুক্ষ্ম সংবহনতন্ত্র বা পরিবহনতন্ত্র গঠন করে।
৪। কোষীয় অঙ্গাণু চলনে সহায়তা করে।
৫। ইহা কোষ বিভাজনের সময় মাকু/স্পিন্ডল তন্তু হিসেবে কাজ করে।
৬। ক্রোমোজোমের বিপরীত মেরু চলনে সাহায্য করে।
৭। কোষ প্রাচীর গঠনে সাহায্য করে।
৮। সিলিয়া ও ফ্লাজেলা গঠনে এবং এদের আন্দোলনে সাহায্য করে।
৯। প্রাণিকোষে সেন্ট্রিওল গঠন করে।