ক্রোমোজোমের প্রকারভেদ ও কী কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ক্রোমোজোমের প্রকারভেদ
বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে ক্রোমোজোমকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১। অটোজোমঃ যে সব ক্রোমোজোম জীবের দেহ কোষে থাকে তাদেরকে অটোজোম বলে। অটোজোমের সংখ্যা ২২ জোড়া বা ৪৪টি।
২। সেক্স ক্রোমোজোমঃ  যে সব ক্রোমোজোম জীবের লিঙ্গ নির্ধারণ করে তাদেরকে সেক্স ক্রোমোজোম বলে। সেক্স ক্রোমোজোমের সংখ্যা এক জোড়া বা ২টি।

সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে ক্রোমোজোমকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১। মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার মাঝখানে থাকে তাকে মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম গুলো দেখতে ইংরেজি  V  অক্ষরের মতো দেখায়।
২। সাব মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার মাঝখানে না থেকে সামান্য দূরে থাকে তাকে সাব মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় সাব মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম গুলো দেখতে ইংরেজি  L  অক্ষরের মতো দেখায়।
৩। অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার একেবারে প্রান্তের কাছাকাছি থাকে তাকে অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম গুলো দেখতে ইংরেজি  J  অক্ষরের মতো দেখায়।
৪। টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার একেবারে প্রান্তভাগে থাকে তাকে টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম গুলো দেখতে ইংরেজি  I  অক্ষরের মতো দেখায়।

সেন্ট্রোমিয়ারের সংখ্যা অনুযায়ী ক্রোমোজোম তিন ধরনের।
১। অ্যাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে না তাকে অ্যাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। ইহা ক্রোমোজোমের ভঙ্গুর অংশ।
২। মনোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমে একটি মাত্র সেন্ট্রোমিয়ার থাকে তাকে মনোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। অধিকাংশ প্রজাতির ক্রোমোজোম মনোসেন্ট্রিক।
৩। ডাইসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ যে ক্রোমোজোমে দুইটি সেন্ট্রোমিয়ার থাকে তাকে ডাইসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। যেমন-গম
৪। পলিসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমে দুই এর অধিক সেন্ট্রোমিয়ার থাকে তাকে পলিসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। যেমন-কলা গাছ।
৫। ডিফিউজ ক্রোমোজোমলঃ  ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ার বিচ্ছিন্ন ভাবে থাকলে তাকে ডিফিউজ ক্রোমোজোম বলে। যেমন-কলা গাছ।

রঞ্জক ধারনের উপর ভিত্তি করে ক্রোমাটিন পদার্থকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১। ইউক্রোমাটিনঃ  ক্রোমোজোমকে ক্ষারীয় রঞ্জক দ্বারা রঞ্জিত করলে যে অংশ হালকা বর্ণ ধারণ করে তাকে ইউক্রোমাটিন বলে। এ অঞ্চলে অধিক পরিমাণে DNA থাকে এবং বংশগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইহা mRNA সংশ্লেষণ করে।
২। হেটারোক্রোমাটিনঃ  ক্রোমোজোমকে ক্ষারীয় রঞ্জক দ্বারা রঞ্জিত করলে যে অংশ গাঢ় বর্ণ ধারণ করে তাকে হেটারোক্রোমাটিন বলে। এ অঞ্চলে স্বল্ব পরিমাণে DNA থাকে এবং বংশগতিতে তেমন ভূমিকা পালন করে না। ইহা mRNA সংশ্লেষণ করে না

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *