(i) ফটোসিন্থেটিক অঞ্চলঃ থ্যালাসের যে অঞ্চল সালোকসংশ্লে¬ষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করে তাকে ফটোসিন্থেটিক অঞ্চল বলে। এ অঞ্চল অনেক গুলো ফিলামেন্ট দ্বারা গঠিত। ফিলামেন্ট গুলো সরু, সুত্রাকার, লম্বা, অশাখ, বহুকোষী এবং সবুজ বর্ণের। এদেরকে আত্তীকরণ সূত্র বলে। প্রতিটি সূত্রের অগ্রভাগে একটি করে বড় এবং বর্ণহীন কোষ থাকে। পাশাপাশি অবস্থিত দুটি কোষের মাঝখানে যে ফাঁকা স্থান থাকে তাকে বায়ু কুঠুরী বলে। ইহাতে বায়ু জমা থাকে। প্রতিটি বায়ু কুঠুরীর শীর্ষে একটি বায়ু ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রের মধ্য দিয়ে বায়ু চলাচল করে। এই অঞ্চল সবুজ হওয়ায় সালোকসংশ্লে¬ষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করে।
(ii) সঞ্চয়ী অঞ্চলঃ থ্যালাসের যে অঞ্চল খাদ্য জমা বা সঞ্চয় করে রাখে তাকে সঞ্চয়ী অঞ্চল বলে। এটি বর্ণহীন, বহুকোষী, আন্তঃকোষীয় ফাঁক বিবর্জিত এবং প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। এ অঞ্চল খাদ্য তৈরী করে না, কিন্তু শর্করা (শ্বেতসার) জাতীয় খাদ্য জমা রাখে। এই অঞ্চল থেকে এককোষী রাইজয়েড ও বহুকোষী স্কেল উৎপন্ন হয়।
(iii) জননাঙ্গঃ Riccia–হলো সহবাসী উদ্ভিদ। এর পুংজননাঙ্গ ও স্ত্রীজননাঙ্গ একই থ্যালাসে অবস্থান করে। পুংজননাঙ্গকে অ্যান্থেরিডিয়াম এবং স্ত্রীজননাঙ্গকে আর্কিগোনিয়াম বলে।
* অ্যান্থেরিডিয়ামঃ থ্যালাসের পৃষ্ঠদেশে কতকগুলো পুংজননাঙ্গ অ্যান্থেরিডিয়া জন্মে। ইহা সবৃন্তক এবং নাসপাতি আকৃতির। অ্যান্থেরিডিয়ামের ভিতরে শুক্রাণু মাতৃকোষ থাকে। প্রতিটি শুক্রাণু মাতৃকোষ থেকে দুইটি করে দ্বি–ফ্ল্যাজেলা বিশিষ্ট শুক্রাণু উৎপন্ন হয়।
* আর্কিগোনিয়ামঃ থ্যালাসের ভিতরে কলসী বা ফ্ল্যাক্স আকৃতির কতকগুলো স্ত্রীজননাঙ্গ আর্কিগোনিয়া জন্মে। ইহা দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত। গ্রীবা এবং উদর। গ্রীবা সামান্য বাঁকানো এবং কয়েকটি গ্রীবা নালিকা কোষ নিয়ে গঠিত। উদরে একটি ডিম্বাণু এবং একটি উদরীয় নালিকা কোষ থাকে।
(iv) নিম্নত্বকঃ থ্যালাসের সঞ্চয়ী অঞ্চলের নিচে একসারী কোষ দিয়ে নিম্নত্বক গঠিত হয়। নিম্নত্বক থেকে এককোষী মসৃণ বা অমসৃণ রাইজয়েড এবং বহুকোষী শল্ক বা স্কেল সৃষ্টি হয়।