উদ্ভিদের মূল ও কান্ডে যে এককোষী বা বহুকোষী উপাঙ্গ থাকে তাকে এপিডার্মাল উপাঙ্গ বা ট্রাইকোম বলে। উদ্ভিদের বিভিন্ন ধরনের ট্রাইকোম হলো-
১। রোম (Hair)ঃ মূলরোম এককোষী ও কিউটিক্ল বিবর্জিত এবং কান্ডরোম বহুকোষী ও কিউটিক্ল যুক্ত। ইহা শাখাযুক্ত বা শাখাবিহীন বা তারকাকৃতি বা স্টিলেট (Althaea-পাতা) হতে পারে। কার্পাস তুলার বীজত্বক থেকে সৃষ্ট রোম দেখতে আঁশের মতো এবং তুলা তন্তু গঠন করে। একবীজপত্রী কান্ডে কান্ডরোম থাকে না। মূলরোম মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে। পাতা ও কান্ডের রোম প্রস্বেদন হ্রাস করে।
২। গ্রন্থিরোম বা পিড়কা বা কোলেটার্স (Colleters)ঃ কোলেটার্স হলো বিশেষ ধরনের বহুকোষী ট্রাইকোম। ইহা চটচটে আঠালো পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে। পতঙ্গভ‚ক উদ্ভিদের পরিপাক গ্রন্থিতে কোলেটার্স থাকে। পুনর্ণভা, লেবু, Rosa ও Carya উদ্ভিদে কোলেটার্স থাকে।
৩। দংশকরোমঃ এককোষী, লম্বা, সুঁচালো ও বিষাক্ত রস পূর্ণ ট্রাইকোমকে দংশকরোম বলে। দংশকরোম প্রাণিদেহের সংস্পর্শে এলে সূঁচালো ডগা ভেঙ্গে যায় এবং বিষাক্ত রস মুক্ত হয়। বিষাক্ত রসের কারণে চামড়া জ্বালা-পোড়া করে। যেমন- বিছুটি (Tragia involucrata), আলকুশি (Mucuna pruriens), লাপোর্টিয়া (Laportea aestuans), অগ্নিচুতরা প্রভৃতি।
৪। শল্ক (Scale)ঃ পাতলা আবরণীযুক্ত বিশেষ রোমকে শল্ক বলে। ইহা চ্যাপ্টা, বহুকোষী এবং চাকতির মতো কোষের পাত দ্বারা গঠিত। ইহা প্রস্বেদন হার হ্রাস করে।
এপিডার্মাল উপাঙ্গ বা ট্রাইকোমের কাজ
(i) কান্ড ও পাতায় বিদ্যমান গ্রন্থিবিহীন রোম উদ্ভিদের প্রস্বেদন ও আলোকের তীব্রতা হ্রাস করে।
(ii) গ্রন্থিযুক্ত রোম উদ্ভিদকে জীবজন্তুর আক্রমণ হতে রক্ষা করে।
(iii) ফুলের গর্ভমুন্ডের রোম পরাগরেণু গ্রহণ করে উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করে।
(iv) ফল ও বীজের ত্বকে বিদ্যমান রোম বিস্তারে সাহায্য করে।
(v) পতঙ্গভোজী উদ্ভিদের গ্রন্থিযুক্ত রোম এনজাইম নিঃসরণ করে পতঙ্গের দেহকে হজমে সাহায্য করে।
(vi) মূলরোম দ্বারা উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে।
(vii) কান্ড রোম আঠা, গদ ও বিষাক্ত পদার্থ নিঃসৃত করে উদ্ভিদকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।