পাতার প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে ১,০০০-৬০,০০০ পত্ররন্ধ্র থাকতে পারে। খোলা অবস্থায় পত্ররন্ধ্রের দৈর্ঘ্য ১০-৪০ µ এবং প্রস্থ ৩-১২ µ। পত্ররন্ধ্রের বিভিন্ন অংশ হলো-
১। পত্ররন্ধ্র ছিদ্রঃ পত্ররন্ধ্রের কেন্দ্রে একটি বিশেষ ধরনের ছিদ্র থাকে। একে পত্ররন্ধ্র ছিদ্র বলে। এর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধরনের গ্যাসীয় পদার্থের বিনিময় ঘটে।
২। রক্ষীকোষঃ স্টোমাটা দুইটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির কোষ দ্বারা আবৃত থাকে। একে রক্ষীকোষ বলে। প্রতিটি রক্ষীকোষে সাইটোপ্লাজম, ক্লোরোপ্লাস্ট, মাইটোকন্ড্রিয়া, শ্বেতসার এবং একটি বড় নিউক্লিয়াস থাকে। রক্ষীকোষে দুইটি প্রাচীর থাকে। বাইরের প্রাচীর এবং ভিতরের প্রাচীর। ভিতরের প্রাচীরটি পুরু ও অস্থিতিস্থাপক। কিন্তু বাইরের প্রাচীরটি পাতলা, অর্ধভেদ্য এবং স্থিতিস্থাপক। রক্ষীকোষ ২-৪টি উপত্বকীয় কোষ দ্বারা আবৃত থাকে। ইহা পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
৩। সহকারী কোষঃ স্টোমাকে ঘিরে কয়েকটি বিশেষ ধরনের প্যারেনকাইমা কোষ থাকে। এদেরকে সহকারী কোষ বলে। সহকারী কোষসহ প্রতিটি পত্ররন্ধ্রকে পত্ররন্ধ্র কমপ্লেক্স বলে। কিছু উদ্ভিদে সহকারী কোষ থাকে না। যেমন- কুমড়া, শশা, অর্কিড প্রভৃতি।
৪। বায়ুকুঠুরীঃ স্টোমাটার নিচে বায়ুপুর্ণ একটি বড় গহŸর থাকে। একে সাবস্টোমাটাল গহ্বর বলে। এই গহ্বরকে বায়ুকুঠুরী বা শ্বাসকুঠুরীও বলা হয়।
মরুজ উদ্ভিদের পাতার পত্ররন্ধ্র ত্বকের গভীরে লুক্কায়িত থাকে। একে লুকায়িত বা ডুবন্ত পত্ররন্ধ্র বলে। পত্ররন্ধ্র দিনের বেলা খোলা এবং রাতের বেলা বন্ধ থাকে। তবে পাথরকুচি গোত্রের উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র দিনে বন্ধ এবং রাতে খোলা থাকে। উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র সকাল ১০-১১ টা এবং দুপুর ১-৩টা পর্যন্ত পূর্ণমাত্রায় খোলা থাকে।