একাইনোডার্মাটা পর্বের পঞ্চঅরীয় প্রাণীদের প্রতিটি বাহুর অঙ্কীয় মধ্যরেখা বরাবর যে অগভীর খাঁজ থাকে তাকে অ্যাম্বুল্যাক্রাল খাঁজ বলে। এদের মুখছিদ্রের পাঁচটি কোণার প্রতিটি বাহু থেকে এই খাঁজ সৃষ্টি হয়। যেমন- সমুদ্র তারা (Asterias vulgaris)।
Author: Dr. Abu Bakkar Siddiq
পানি সংবহনতন্ত্র কাকে বলে।। Water vascular system ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
পানি সংবহনতন্ত্র হলো পানিপূর্ণ গহŸর। একাইনোডার্মাটা পর্বের প্রাণীদের দেহাভ্যন্তরে পানিপূর্ণ যে বিভিন্ন আকৃতির নালিকা থাকে তাকে পানি সংবহনতন্ত্র বলে। সিলোমের অংশ বিশেষ পরিবর্তিত হয়ে পানি সংবহনতন্ত্র সৃষ্টি হয়। এর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধরনের বস্তুর পরিবহন করে।
একাইনোডার্মাটা পর্বের কয়েকটি প্রাণী, উদাহরণ ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
সমুদ্র শসা- Holothuria impatiens
গোলাপী পালক তারা- Antedon bifida
ভঙ্গুর তারা/ব্রিটল স্টার- Ophiothrix fragilis
সমুদ্র তারা- Asterias vulgaris , Astropecten euryacanthus
সর্প তারা- Ophiura ciliaris
সাগর আর্চিন- Echinus esculentus
কুকুমারিয়া- Cucumaria planci
সাগর ডেইজি- Xylopax medusiformes
গর্গোনোসেফালাস- Gorgonocephalus arcticus
ব্রিসল তারা- Ophiocoma scolopendrina
সমুদ্র পেন্টাগন- Oreaster reticulatus
আকা সমুদ্র তারা- Anthenea pentagonula
একাইনোডার্মাটা পর্বের শ্রেণীবিভাগ ।। Echinidermata Classification ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
Echinidermata পর্বকে পাঁচটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে।
১। অ্যাস্টেরোইডিঃ এদের দেহ তারকাকৃতির পাঁচ বাহুবিশিষ্ট। টিউব ফিট বিদ্যমান। দেহে স্পাইন এবং পেডিসিলারী বিদ্যমান। যেমন- সমুদ্র তারা (Asterias vulgaris).
২। অফিউরোইডিঃ এদের দেহ হলো পেন্টামেরাস ডিস্ক। দেহে টিউব ফিট এবং স্পাইন বিদ্যমান। এদের বাহুগুলো লম্বা। যেমন- কুকুমারিয়া (Cucumaria planci).
৩। একাইনোইডিঃ এদের দেহ hemispherical। টিউব ফিট বিদ্যমান। দেহে কোন বাহু থাকে না। স্পাইন উপস্থিত। যেমন- সাগর আর্চিন (Echinus esculentus).
৪। হোলোথুরোইডিঃ এদের দেহ লম্বা সিলিন্ডার আকৃতির। দেহে কোন বাহু, স্পাইন এবং পেডিসিলারী থাকে না। তবে টিউব ফিট বিদ্যমান। যেমন- সমুদ্র শসা (Holothuria impatiens).
৫। ক্রিনোইডিঃ এদের দেহ তারকাকৃতির। দেহে টিউব ফিট, স্পাইন, পেডিসিলারী প্রভৃতি থাকে না।
একাইনোডার্মাটা পর্বের বৈশিষ্ট্য ।। Echinodermata।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ল্যাটিন শব্দ Echinus অর্থ কাঁটাময়, derma অর্থ ত্বক এবং ata অর্থ বহন করা নিয়ে Echinodermata শব্দটি গঠিত। যে সকল প্রাণীর দেহ অরীয় প্রতিসম, পাঁচটি অংশে বিভক্ত, সিলোমবিশিষ্ট, মস্তকবিহীন, সংবহনতন্ত্র যুক্ত এবং কন্টকময় ত্বকবিশিষ্ট তাদেরকে একাইনোডার্মাটা বলে। এদেরকে কন্টকত্বক প্রাণি বলা হয়। সমুদ্র তারা (sea star), সমুদ্র শশা (sea cucumber), সমুদ্র লিলি (sea lilies), সমুদ্র আর্চিন (sea urchin), স্যান্ড ডলার (sand dollar) প্রভৃতি প্রাণী এই পর্বের অন্তর্ভুক্ত। প্রজাতি সংখ্যা প্রায় ৭,৫৫০টি। Jacob Klein (১৭৩৪) Echinodermata নামকরণ করেন।
একাইনোডার্মাটা পর্বের বৈশিষ্ট্য
১। এদের দেহ অখন্ডায়িত, নলাকার বা গোলাকার অথবা তারকাসদৃশ বা পুষ্পসদৃশ।
২। এদের দেহ দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম বা পঞ্চপার্শ্বীয় প্রতিসম বা অরীয় প্রতিসম অথবা পাঁচটি সমভাগে বিভক্ত।
৩। দেহ ত্বক কন্টকময়। বহিঃকংকাল স্পাইন ও পেডিসিলারী যুক্ত এবং অন্তঃকঙ্কাল ক্যালসিয়াম কার্বনেট নির্মিত অসংখ্য অসিকল দ্বারা গঠিত। ইহা সিলিয়া যুক্ত আবরণী কলা দ্বারা আবৃত।
৪। দেহ সুস্পষ্ট মৌখিক তল ও বিমৌখিক তলে বিন্যস্ত। ওরাল তলে পাঁচটি অ্যাম্বুলাক্রাল খাঁজ বিদ্যমান।
৫। এদের পানি সংবহনতন্ত্র আছে, যা শ্বসন ও চলন ক্রিয়া সম্পন্ন করে।
৬। পানি সংবহনের জন্য রিং ভেসেল, রেডিয়াল ক্যানাল, মেড্রিপোরাইট, স্টোন ক্যানাল ও ল্যাটারাল ক্যানাল আছে।
৭। এদের চলন অঙ্গ হলো নালিকা পদ বা পোডিয়া। ইহা শ্বসন ও খাদ্য আহরণের কাজ করে।
৮। হিমাল ও পেরিহিমালতন্ত্র সংবহনের কাজ করে।
৯। দেহে মস্তক, শ্বসনতন্ত্র, রেচনতন্ত্র ও রক্ত সংবহনতন্ত্র নাই।
১০। সকল প্রাণী সামুদ্রিক।
১১। জীবনচক্রে বাইপিনারিয়া, অরিক্যুলারিয়া, অফিওপ্লুটেয়াস, একাইনোপ্লুটেয়াস লার্ভা থাকে।
এক্টোপ্রোক্টা বা ব্রায়োজোয়া পর্বের বৈশিষ্ট্য, উদাহরণ ।। Ectoprocta/Bryozoa ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ব্রায়োজোয়া পর্বের বৈশিষ্ট্য
১। এরা কলোনী বাসী এবং দেখতে মস উদ্ভিদের মতো।
২। এরা নিমজ্জিত শক্ত বস্তুর সাথে আটকে থাকে।
৩। কলোনীর প্রতিটি সদস্যকে জুওয়েড বলে। যুওয়েডেরা যুইসিয়াম নামক কুঠুরী বা গর্তে বাস করে।
৪। এদের দেহ পলিপাইড (লোফোফোর) ও সিস্টিড নিয়ে গঠিত। পলিপাইড খাদ্য গ্রহণ করে এবং সিস্টিড দেহের বহিঃকংকাল গঠন করে।
৫। মুখের চতুর্দিকে ঘিরে কর্ষিকাবাহী যে অঙ্গ থাকে তাকে লোফোফোর বলে।
৬। লোফোফোরের বাইরের দিকে পায়ু ছিদ্র থাকে।
ব্রায়োজোয়া পর্বের কয়েকটি প্রাণী
ইলেকট্রা- Electra bengalensis
অ্যানট্রোপোরা- Antropora minor
ক্রিসিয়া- Crisia eburnea
পেকটিনাটেলা- Pectinatella magnifica
ট্যাগমাটা ।। Tagmata ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের দেহের প্রতিটি অঞ্চলকে ট্যাগমাটা বলে। যে প্রক্রিয়ায় প্রাণীর দেহকে ট্যাগমাটায় বিভক্ত করা হয় তাকে ট্যাগমাটাইজেশন বলে। যে বিবর্তনিক প্রক্রিয়ায় ট্যাগমাটাইজেশন সম্পন্ন হয় তাকে তাকে ট্যাগমোসিস বলে। Arthropoda পর্বের Insecta শ্রেণীর প্রাণীদের দেহ তিনটি ট্যাগমায় বিভক্ত। যথা- মস্তক, বক্ষ ও উদর। যেমন- ঘাসফড়িং (Poekilocerux pictus).
বুক গিল ।। Book gill ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
বুক গিল হলো শ^সন অঙ্গ। আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের অঙ্কীয় তলের ত্বক ভাঁজ হয়ে বইয়ের পাতার মতো ফুলকা সদৃশ যে শ্বাস অঙ্গ গঠন করে তাকে বুক গিল বলে। যেমন- Macrobrachium resenbergii.
বুক লাং ।। Book lung ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
বুক লাং হলো শ^সন অঙ্গ। আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের অঙ্কীয় তলের বহিঃত্বক ভাঁজ হয়ে বইয়ের পাতার মতো পর পর সজ্জিত হয়ে যে শ্বাস অঙ্গ গঠন করে তাকে বুক লাং বলে। মাকড়সা (Lycosa lenta)।
হিমোসিল ।। Haemocoel ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
হিমোলিম্ফ দ্বারা পরিপুর্ণ দেহগহ্বরকে হিমোসিল বলে। ইহা পৃষ্ঠীয় পর্দা ও অংকীয় পর্দা দ্বারা তিনটি প্রকোষ্ঠ বা সাইনাসে বিভক্ত। পৃষ্ঠীয় পর্দার উপরে পেরিকার্ডিয়াল সাইনাস, পৃষ্ঠীয় পর্দার নিচে পেরিভিসেরাল সাইনাস এবং অংকীয় পর্দার নিচে পেরিনিউরাল সাইনাস।