দেহের কোন অঙ্গ সঞ্চালনের জন্য দুইটি পেশির সম্মিলিত প্রভাবের প্রয়োজন হয়। পেশি দুটি পরস্পর বিপরীতমুখী ভাবে কাজ করে। পেশিদ্বয়ের একটিকে অপরটির অ্যান্টাগোনিস্টিক পেশি বলে। এদেরকে অ্যান্টাগোনিস্টিক পেশি জোড় বা প্রতিপক্ষীয় পেশি জোড় বলে।
Category: Biology Second Paper Lecture Sheet
হৃৎপেশির কাজ । Cardiac muscle
এই পেশী হৃৎপিন্ডকে সংকুচিত ও প্রসারিত করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। হৃৎপেশীতে ক্রিয়াগত সিনসাইটিয়াম রয়েছে। অর্থাৎ একটি কোষ সংকুচিত হলে অন্য কোষ গুলোর সংকুচিত হয়।
হৃৎপেশির অবস্থান । Cardiac muscle
এই পেশী শুধু মাত্র হৃৎপিন্ডের প্রাচীরে দেখা যায়। হৃৎপিন্ডের পেশীকে মায়োকার্ডিয়াম বলে। মায়োকার্ডিয়ামের দুইটি স্তর রয়েছে। এপিকার্ডিয়াম এবং এন্ডোকার্ডিয়াম। বাইরের স্তরকে এপিকার্ডিয়াম এবং ভিতরের স্তরকে এন্ডোকার্ডিয়াম বলে।
হৃৎপেশীর গঠন । Cardiac muscle
হৃৎপেশীর কোষ গুলো দেখতে লম্বা, নলাকার শাখান্বিত। এর দৈর্ঘ্য ০.৮ মিমি এবং ব্যাস ১২–১৫ মাইক্রোমিটার।
১। সারকোলেমাঃ ইহা সারকোলেমা নামক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
২। সারকোপ্লাজমঃ পেশির সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। এতে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে।
৩। নিউক্লিয়াসঃ প্রতিটি কোষের কেন্দ্রভাগে একটি নিউক্লিয়াস। ইহা কোষের জৈবিক কাজ করে।
৪। মায়োফাইব্রিলঃ কোষের দৈর্ঘ্য বরাবর মায়োফাইব্রিল তন্তু থাকে। মায়োফাইব্রিলের গায়ে ডোরাকাটা দাগ থাকে।
৫। ইন্টারক্যালেটেড ডিস্কঃ পাশাপাশি অবস্থিত দুটি সারকোলেমা মিলিত হয়ে একটি ডিস্ক গঠন করে। এক ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক বলে। ইহা হৃৎপেশির অন্যতম শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য।
হৃৎপেশী বা কার্ডিয়াক পেশী কী । Cardiac muscle
যে পেশী হৃৎপিন্ডের প্রাচীর গঠন করে তাকে হৃৎপেশী বা কার্ডিয়াক পেশী বলে। ইহা এক ধরনের অনৈচ্ছিক পেশী। হৃৎপেশির মধ্যবর্তী স্থানে অ্যারিওলার যোজক কলা থাকে। ইহা কখনো অবসাদগ্রস্থ হয় না।
অনৈচ্ছিক পেশির কাজ/গুরুত্ব/ভূমিকা
১। এই পেশির সঙ্কোচন–প্রসারণ ক্ষমতা ধীর এবং দীর্ঘ স্থায়ী।
২। ইহা অঙ্গের ছন্দময় ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
৩। ইহা পেরিস্ট্যালসিস প্রক্রিয়ায় খাদ্যবস্তুর যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করে।
৪। রক্তনালি, শ্বাসনালি, রেচননালি প্রভৃতির সঙ্কোচন–প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করে।
অনৈচ্ছিক পেশির অবস্থান । Involuntary muscle
অনৈচ্ছিক পেশি পৌষ্টিকনালী, রক্তনালী, শ্বাসনালী, মূত্রনালী, জরায়ু প্রভৃতি স্থানে থাকে।
অনৈচ্ছিক পেশীর গঠন । Involuntary muscle
অনৈচ্ছিক পেশি দেখতে মাকু আকৃতির। অর্থাৎ এর মধ্যভাগ চওড়া এবং উভয় প্রান্ত সরু। এর দৈর্ঘ্য ১৫-২০০ মাইক্রোমিটার এবং ব্যাস ৮-১০ মাইক্রোমিটার।
১। সারকোলেমাঃ পেশির আবরণীকে সারকোলেমা বলে। অনৈচ্ছিক পেশিতে সারকোলেমা অস্পষ্ট।
২। সারকোপ্লাজমঃ পেশির সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। সাইকোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। এর সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। প্রতিটি কোষে একটি করে নিউক্লিয়াস এবং অসংখ্য মায়োফাইব্রিল নামক তন্তু থাকে।
৩। নিউক্লিয়াসঃ প্রতিটি পেশিকোষে একটি নিউক্লিয়াস। ইহা কোষের জৈবিক কাজ করে।
৪। মায়োফাইব্রিলঃ কোষের দৈর্ঘ্য বরাবর মায়োফাইব্রিল তন্তু থাকে। মায়োফাইব্রিল তন্তুগুলো অ্যাকটিন ও মায়োসিন ফিলামেন্ট দ্বারা গঠিত। অ্যাকটিন ও মায়োসিন ফিলামেন্ট গুলোকে একত্রে সারকোমিয়ার বলে।
অনৈচ্ছিক পেশি কী । Involuntary muscle কী
যে পেশীর কার্যাবলী প্রাণীর ইচ্ছা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয় না তাকে অনৈচ্ছিক পেশী বলে। ইহা বিভিন্ন অঙ্গের (নাড়ীভূঁড়ি) প্রাচীরে থাকে বলে এদেরকে ভিসেরাল পেশীও বলা হয়।
ঐচ্ছিক পেশীর অবস্থান
প্রাণীর চোখ, জিহ্বা, গলবিল প্রভৃতি স্থানে থাকে।
ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
01511483701