অ্যাডাকটর ও অ্যাবডাকটর পেশী কী

১। অ্যাডাকটর পেশীঃ যে পেশী দেহের কোন অঙ্গকে কাছে টেনে আনে তাকে অ্যাডাকটর পেশী বলে। অ্যাডাকটর পেশীর কোন অঙ্গের কাছে টেনে আনার প্রক্রিয়াকে অ্যাডাকসন বলে। যেমন- ল্যাটিসিমাস পেশী কোন অঙ্গকে কাছে টেনে আনে।
২। অ্যাবডাকটর পেশীঃ যে পেশী দেহের কোন অঙ্গকে দূরে সরিয়ে দেয় তাকে অ্যাবডাকটর পেশী বলে। অ্যাবডাকটর পেশীর কোন অঙ্গের দূরে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে অ্যাবডাকসন বলে। যেমন- ডেল্টয়েড পেশী কোন অঙ্গকে দূরে সরিয়ে দেয়।

ডিপ্রেসর ও লিভেটর পেশী কী

১। ডিপ্রেসর পেশীঃ যে পেশী দেহের কোন অঙ্গকে নিচে নামায় তাকে ডিপ্রেসর পেশী বলে। ডিপ্রেসর পেশীর কোন অঙ্গের নিচে নামানো প্রক্রিয়াকে ডিপ্রেসন বলে। যেমন- ম্যানডিবুলা পেশী চোয়ালকে নিচে নামায়।
২। লিভেটর পেশীঃ যে পেশী দেহের কোন অঙ্গকে উপরে উঠায় তাকে লিভেটর পেশী বলে। লিভেটর পেশীর কোন অঙ্গের উপরে উঠানোর প্রক্রিয়াকে লিভেসন বলে। যেমন- ম্যাসিয়েটর পেশী চোয়ালকে উপরে উঠায়। হাঁটুর গ্যাসট্রকনেমিয়াস পেশী, পায়ের সোলিয়াস পেশী প্রভৃতি।

প্রসারণ বা এক্সটেনসর পেশি কী

গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস পেশি হলো পায়ের ডিম বা গোড়ালির প্রধান পেশি। ইহা ফিমারের কনডাইল থেকে সৃষ্টি হয় এবং অ্যাসকিলিস কন্ডরা দ্বারা ক্যালকেনিয়াস বা গোড়ালি অস্থির সাথে যুক্ত থাকে। এদের সঙ্কোচনে ফিমার ও টিবিয়া কাছাকাছি আসে এবং হাঁটুসন্ধি পিছনের দিকে ভাঁজ হয়।

বক্রীকরণ বা ফ্লেক্সর পেশি কী

হাঁটু সন্ধি পিছনের দিকে বাঁকাতে হ্যামস্ট্রিং পেশি এবং গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস পেশি প্রয়োজন হয়। হ্যামস্ট্রিং পেশি তিনটি পেশি নিয়ে গঠিত। বাইসেপস ফিমোরিস, সেমিমেম্ব্রোনোসাস এবং সেমিটেন্ডিনোসাস। এই পেশি গুলো শ্রোণিচক্রের ইশ্চিয়াম থেকে উৎপন্ন হয়ে টিবিয়ার সাথে যুক্ত থাকে। এদের সঙ্কোচনে ফিমার টিবিয়া কাছাকাছি আসে এবং হাঁটুসন্ধিতে ভাঁজ সৃষ্টি হয়।

বক্রীকরণ বা ফ্লেক্সর পেশি কী

হাঁটু সন্ধি পিছনের দিকে বাঁকাতে হ্যামস্ট্রিং পেশি এবং গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস পেশি প্রয়োজন হয়। হ্যামস্ট্রিং পেশি তিনটি পেশি নিয়ে গঠিত। বাইসেপস ফিমোরিস, সেমিমেম্ব্রোনোসাস এবং সেমিটেন্ডিনোসাস। এই পেশি গুলো শ্রোণিচক্রের ইশ্চিয়াম থেকে উৎপন্ন হয়ে টিবিয়ার সাথে যুক্ত থাকে। এদের সঙ্কোচনে ফিমার টিবিয়া কাছাকাছি আসে এবং হাঁটুসন্ধিতে ভাঁজ সৃষ্টি হয়।

হাঁটু সঞ্চালনে অস্থি ও পেশির সমন্বয়

পেশি এবং অস্থি পরস্পরের সাথে টেন্ডন দ্বারা যুক্ত থাকে। তাই পেশিকঙ্কালতন্ত্রের ছন্দোবদ্ধ ক্রিয়াকলাপের উপর যেকোন অঙ্গের সঞ্চালন নির্ভর করে। হাঁটু সঞ্চালনে অস্থি পেশির সমন্বয় নিচে বর্ণনা করা হলো।

১। বক্রীকরণ বা ফ্লেক্সর পেশিঃ হাঁটু সন্ধি পিছনের দিকে বাঁকাতে হ্যামস্ট্রিং পেশি এবং গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস পেশি প্রয়োজন হয়। হ্যামস্ট্রিং পেশি তিনটি পেশি নিয়ে গঠিত। বাইসেপস ফিমোরিস, সেমিমেম্ব্রোনোসাস এবং সেমিটেন্ডিনোসাস। এই পেশি গুলো শ্রোণিচক্রের ইশ্চিয়াম থেকে উৎপন্ন হয়ে টিবিয়ার সাথে যুক্ত থাকে। এদের সঙ্কোচনে ফিমার টিবিয়া কাছাকাছি আসে এবং হাঁটুসন্ধিতে ভাঁজ সৃষ্টি হয়।

২। প্রসারণ বা এক্সটেনসর পেশিঃ গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস পেশি হলো পায়ের ডিম বা গোড়ালির প্রধান পেশি। ইহা ফিমারের কনডাইল থেকে সৃষ্টি হয় এবং অ্যাসকিলিস কন্ডরা দ্বারা ক্যালকেনিয়াস বা গোড়ালি অস্থির সাথে যুক্ত থাকে। এদের সঙ্কোচনে ফিমার টিবিয়া কাছাকাছি আসে এবং হাঁটুসন্ধি পিছনের দিকে ভাঁজ হয়।

পেশীতে টান পড়ে কিন্তু ধাক্কা দেয় না । Muscles can pull but cannot push

স্বাভাবিক বা বিশ্রামবস্থায় পেশির বিরতিহীন সঙ্কোচনকে পেশিটান বা Tonicity বলে। পেশি কন্ডরা দ্বারা অস্থির সাথে যুক্ত থাকে। প্রতিটি অঙ্গ সঞ্চালনের জন্য দুই ধরনের পেশির প্রয়োজন হয়। এই পেশি দুটিকে একত্রে অ্যান্টাগোনিস্টিক পেশি বলে। অঙ্গ সঞ্চালনের সময় একটি পেশী সংকুচিত হয় এবং অপর পেশিটি প্রসারিত হয়। অর্থাৎ একটি পেশি খাটো হলে বিপরীত পেশিটি লম্বা হয়। হাতের হিউমেরাসের সাথে দুই ধরনের পেশী যুক্ত থাকে। বাইসেপস পেশি ট্রাইসেপস পেশি। হাত উপরে উঠানোর সময় বাইসেপস পেশি সংকুচিত হয় এবং ট্রাইসেপস পেশি প্রসারিত হয়। সময় পেশিতে কোন ধাঁক্কা অনুভূত হয় না। আবার, হাত নিচে নামানোর সময় বাইসেপস পেশি প্রসারিত হয় এবং ট্রাইসেপস পেশি সংকুচিত হয়। সময়ও পেশিতে কোন ধাঁক্কা লাগে না। শুধু মাত্র পেশি গুলোতে টান লাগে।

পেশিতে অ্যাকটিন মায়োসিন প্রোটিন থাকে। এসব প্রোটিন পেশির একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে এবং পেশিকে টানতে পারে। থেকে বুঝা যায় যে, পেশীতে শুধু মাত্র টান পড়ে, কিন্তু ধাক্কা লাগে না।

পেশী টান কী । Tonicity কী

পেশীর টান টান ভাব বা সঙ্কোচন যুক্ত বৈশিষ্ট্যকে পেশি টান বা Tonicity বলে।   পেশী টান দুই ধরনের।

১। উচ্চ পেশী টানঃ স্বাভাবিক বিশ্রামবস্থায় পেশিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত টান থাকলে তাকে উচ্চ পেশি টান বলে।

২। নিম্ন পেশি টানঃ স্বাভাবিক বিশ্রামবস্থায় পেশিতে প্রয়োজনের তুলনায় কম টান থাকলে তাকে নিম্ন পেশি টান বলে।

চলনে অস্থি ও পেশীর ভূমিকা

মানুষের চলনে শুধু মাংসপেশীই নয় কঙ্কালতন্ত্রের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেশী কঙ্কাল সম্মিলিত ভাবে চলনে সহায়তা করে। নিচে চলনে  পেশীর ভূমিকা উল্লেখ করা হলো।

১। ফ্লেক্সর পেশীঃ যে পেশী কোন অঙ্গকে সংকুচিত বা ভাঁজ করে তাকে ফ্লেক্সর পেশী বলে। ফ্লেক্সর পেশীর কোন অঙ্গের ভাঁজ বা সংকুচিত করার প্রক্রিয়াকে ফ্লেক্সন বলে। যেমনবাইসেপস পেশী কনুই বা আঙ্গুলকে ভাঁজ করে

২। এক্সটেনসর পেশীঃ যে পেশী কোন অঙ্গকে প্রসারিত করে বা ছড়িয়ে দেয় তাকে এক্সটেনসর পেশী বলে। এক্সটেনসর পেশীর কোন অঙ্গের প্রসারিত করা বা ছড়িয়ে দেয়ার প্রক্রিয়াকে এক্সটেনসন বলে। যেমনট্রাইসেপস পেশী সামনের বাহুকে প্রসারিত করে।

৩। অ্যাডাকটর পেশীঃ যে পেশী দেহের কোন অঙ্গকে কাছে টেনে আনে তাকে অ্যাডাকটর পেশী বলে। অ্যাডাকটর পেশীর কোন অঙ্গের কাছে টেনে আনার প্রক্রিয়াকে অ্যাডাকসন বলে। যেমনল্যাটিসিমাস পেশী কোন অঙ্গকে কাছে টেনে আনে।

৪। অ্যাবডাকটর পেশীঃ যে পেশী দেহের কোন অঙ্গকে দূরে সরিয়ে দেয় তাকে অ্যাবডাকটর পেশী বলে। অ্যাবডাকটর পেশীর কোন অঙ্গের দূরে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে অ্যাবডাকসন বলে। যেমনডেল্টয়েড পেশী কোন অঙ্গকে দূরে সরিয়ে দেয়।

৫। ডিপ্রেসর পেশীঃ যে পেশী দেহের কোন অঙ্গকে নিচে নামায় তাকে ডিপ্রেসর পেশী বলে। ডিপ্রেসর পেশীর কোন অঙ্গের নিচে নামানো প্রক্রিয়াকে ডিপ্রেসন বলে। যেমনম্যানডিবুলা পেশী চোয়ালকে নিচে নামায়।

৬। লিভেটর পেশীঃ যে পেশী দেহের কোন অঙ্গকে উপরে উঠায় তাকে লিভেটর পেশী বলে। লিভেটর পেশীর কোন অঙ্গের উপরে উঠানোর প্রক্রিয়াকে লিভেসন বলে। যেমনম্যাসিয়েটর পেশী চোয়ালকে উপরে উঠায়। হাঁটুর গ্যাসট্রকনেমিয়াস পেশী, পায়ের সোলিয়াস পেশী প্রভৃতি।

৭। রোটেটর পেশীঃ যে পেশী দেহের কোন অঙ্গকে চারিদিকে বা ডানেবামে ঘোরায় তাকে রোটেটর পেশী বলে। রোটেটর পেশীর কোন অঙ্গকে চারিদিকে বা ডানেবামে ঘোরানোর প্রক্রিয়াকে রোটেসন বলে। যেমনপ্রোনেটর পেশী অঙ্কদেশীয় ঘুর্ণন এবং সুপিনেটর পেশী পৃষ্ঠদেশীয় ঘুর্ণন ঘটায়। পাইরিফরমিস পেশি ফিমারকে ঘূর্ণনে সাহায্য করে।

৮। প্রোট্র্যাকটর পেশীঃ যে পেশী দেহের কোন অঙ্গকে সামনের দিকে প্রসারিত করে তাকে প্রোট্র্যাকটর পেশী বলে।

৯। রিট্র্যাকটর পেশীঃ যে পেশী দেহের কোন অঙ্গকে পিছনের দিকে প্রসারিত করে তাকে রিট্র্যাকটর পেশী বলে।

 

পেশি সঙ্কোচনের শক্তি

 কোষে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ভেঙ্গে গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়। গ্লুকোজ সবাত শ্বসনে ব্যবহার হয় এবং ATP উৎপন্ন করে। ATP পেশি সঙ্কোচনে শক্তি সরবরাহ করে।