বায়োফার্মিং কী ।। Biofarming কী

ফার্মাসিউটিক্যাল দ্রব্য বড় মাত্রায় উৎপাদন করলে তাকে বায়োফার্মিং বলে। বায়োফার্মিং প্রক্রিয়ায় ছাগলের মাধ্যমে অতি অল্প খরচে জীবন রক্ষাকারী Anticoagulant antithrombin উৎপাদন করা হচ্ছে। GMO ছাগলের দুধ থেকে শক্তিশালী Spider silk উৎপন্ন করা হচ্ছে। কুসুম ফুলের বীজের মাধ্যমে ইনসুলিন উৎপাদন করা হচ্ছে।

মলিকুলার ফার্মিং কী ।। Molecular farming কী

ট্রান্সজেনিক প্রাণিকে বায়োরিয়েক্টর হিসেবে ব্যবহার করে এদের দুধ, রক্ত ও মূত্র থেকে ওষুধ তৈরী করা হয়। একে মলিকুলার ফার্মিং বলে। এসব ওষুধ বহুবিধ রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়। আমেরিকায় উদ্ভাবিত ট্রান্সজেনিক ছাগলের দুধ থেকে TPA পাওয়া যায়।

জিন থেরাপি কী ।। Gene therapy কী

জিনের ক্রটিজনিত রোগ নিরাময় সহজ ব্যাপার নয়। তবে জিন থেরাপি প্রক্রিয়ায় এই রোগ নিরাময় করা সম্ভব হয়েছে। জিন প্রকৌশল প্রক্রিয়ায় রুপান্তরিত ভাইরাসকে জিন থেরাপি প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয়।

জিন প্রকৌশল ।। ফুসফুসের এমফাইসেমা প্রতিরোধে জিন প্রকৌশল ।। Emphysema prevent

এমফাইসেমা হলো ফুসফুসের একটি মরণব্যাধী। এই রোগ প্রতিরোধে AAT প্রোটিন ব্যবহার হয়। জিন প্রকৌশল প্রক্রিয়ায় AAT প্রোটিন বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন হচ্ছে। তাই ফুসফুসের এমফাইসেমা রোগ প্রতিরোধ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। বৃদ্ধি হরমোন উৎপাদনে রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। growth homone production

মানুষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী সোমাটোট্রফিন হরমোন রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন করা হয়। এটি বামনত্ব রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। প্রতি সপ্তাহে ৬-১০ মিলি গ্রাম গ্রোথ হরমোন প্রয়োগে প্রথম বছরেই ৬ সেন্টিমিটারের বেশি লম্বা হয়।

জিন প্রকৌশল ।। ইন্টারফেরন উৎপাদনে জিন প্রকৌশল ।। Interferon production

ইন্টারফেরন হলো উচ্চ আণবিক ওজন বিশিষ্ট প্রোটিন। ইহা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিরোধ করে এবং ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে। জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে E. coli ও ঈস্ট হতে ইন্টারফেরন উৎপাদন করা হয়। ইহা হেপাটাইটিস-বি, হার্পিস, প্যাপিলোমা, জলাতঙ্ক প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। ১৯৫৭ সালে অ্যালেক ইস্যাক ও জ্যাঁ লিনডেনম্যান ইন্টারফেরন আবিষ্কার করেন।

রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। ইনসুলিন উৎপাদনে রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। Insulin production

ইনসুলিন হলো একপ্রকার হরমোন। রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক ভাবে ইনসুলিন উৎপাদন করা হয়। ইহা রক্তের গ্লুকোজ গ্রহণ মাত্রা ত্বরান্বিত করে মানুষের ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা ইনসুলিন গ্রহণ করে।

রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। বংশগত রোগ নিরাময়ে রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। Control of birth diseases

বংশগত রোগ নিরাময় করা দুষ্কর। রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রান্সজেনিক ছাগলের দুধ থেকে অ্যান্টিথ্রম্বিন-III এবং ট্রান্সজেনিক খরগোসের দুধ থেকে III C12 esterase inhibitor ওষুধ তৈরী করা হয়েছে। অ্যান্টিথ্রম্বিন-III ওষুধ মানুষের অ্যান্টিথ্রম্বিন ডিফিসিয়েন্সী রোগের চিকিৎসায় এবং III C12 esterase inhibitor ওষুধ মানুষের অ্যানজিওডেমা এর চিকিৎসায় ব্যবহার হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আরো ওষুধ আবিষ্কারের মাধ্যমে বংশগত রোগ নির্মূলের চেষ্টা চলছে। মানুষের প্রতিটি কোষে ২৫০০০ পর্যন্ত (আরও বহু জিন অজানা রয়েছে) কর্মক্ষম জিন আছে। কোন একটি জিনে ডিস্অর্ডার হলে রোগ সৃষ্টি হতে পারে। মানুষের দেহে প্রায় ৩৫০০টি জেনেটিক ডিস্অর্ডার জানা গেছে। রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে এই রোগ নিরাময় করা যাবে।

টিকা তৈরী ।। টিকা তৈরীতে জিন প্রকৌশল । । Vaccine

জিন প্রকৌশল প্রযুক্তি প্রয়োগ করে বিভিন্ন ধরনের রোগের টিকা বা ভেক্সিন তৈরী করা হয়। এসব টিকা হাম, পোলিও, বসন্ত, যক্ষ্মা, জলাতঙ্ক, কলেরা, মাম্পস, হেপাটাইটিস-বি প্রভৃতি সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে করোনাসহ বিভিন্ন রোগের কার্যকরী ভ্যাক্সিন তৈরীর চেষ্টা চলছে। নতুন নতুন ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। পীড়ন প্রতিরোধী জাত সৃষ্টিতে রিকম্বিন্যান্ট DNA এর ভূমিকা

(i) সয়াবিন থেকে Pyrroline-5 Carboxylase Syntase জিন পৃথক করে তামাক গাছে সংযুক্ত করার পর দেখা গেল উহা দশগুণ বেশি লবণাক্ত জমিতে জন্মাতে পারে।

(ii) উত্তর মেরু অঞ্চলের ছোট ছোট মাছ (Flounder) থেকে শৈত্য প্রতিরোধক AF জিন পৃথক করে ফসলী উদ্ভিদে প্রবেশ করিয়ে শৈত্য সহনশীল ফসল সৃষ্টি করা হয়েছে। যেমনটমেটো, গোল আলু ইত্যাদি।

(iii) Bacillus subtilis ব্যাকটেরিয়া থেকে csPB জিন নিয়ে ভূট্রা উদ্ভিদে প্রবেশ করিয়ে খরা প্রতিরোধী ভূট্রা সৃষ্টি করা হয়েছে।

(iv) Arabidopsis থেকে At NHXI জিন নিয়ে পীনাট উদ্ভিদে প্রবেশ করিয়ে লবণাক্ত সহিঞ্চু পীনাট সৃষ্টি করা হয়েছে।

(v) প্রাকৃতিক পরিবেশে তাপ, ঠান্ডা, ভারী ধাতু, ফাইটোহরমোন ইত্যাদি পীড়ন প্রতিরোধী জিন শনাক্ত করা হয়েছে। সব জিন  উদ্ভিদ দেহে প্রবেশের চেষ্টা চলছে।