জলীয় ও সামুদ্রিক ক্ষেত্রে জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ হলো নীল জীবপ্রযুক্তি। জলজ পরিবেশ বিশুদ্ধ রাখা, ট্রান্সজেনিক মাছ উৎপাদন, মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি, মাছের অবস্থান নির্ণয়, জলজ উদ্ভিদ সম্পর্কে ধারণা প্রভৃতি ক্ষেত্রে নীল জীবপ্রযুক্তির অবদান রয়েছে।
Category: Biology Second Paper
বায়োটেকনোলজি ।। শ্বেত জীবপ্রযুক্তি ।। White biotechnology কী
শিল্পক্ষেত্রে জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ হলো শ্বেত জীবপ্রযুক্তি। ইনসুলিন উৎপাদন, হরমোন উৎপাদন, এনজাইম উৎপন্ন, ইন্টারফেরন উৎপাদন, মলিকুলার ফার্মিং, বায়োফার্মিং, জৈব শক্তি উৎপাদন, বায়োগ্যাস, ডিটারজেন্ট, চামড়া, দুগ্ধশিল্প প্রভৃতি ক্ষেত্রে শ্বেত জীবপ্রযুক্তির অবদান রয়েছে।
বায়োটেকনোলজি ।। লাল জীবপ্রযুক্তি কী ।। Red biotechnology কী
চিকিৎসাক্ষেত্রে জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ হলো লাল জীবপ্রযুক্তি। রোগ নির্ণয়, বংশগত রোগ নিরাময়, স্বাস্থ্যের উন্নতি, জিন থেরাপি, DNA ভ্যাক্সিন প্রয়োগ, ইনসুলিন উৎপাদন, হরমোন উৎপাদন, এনজাইম উৎপন্ন, ইন্টারফেরন উৎপাদন, ফুসফুসের এমফাইসেমা প্রতিরোধ, হিমোফিলিয়া, মলিকুলার ফার্মিং, বায়োফার্মিং প্রভৃতি ক্ষেত্রে লাল জীবপ্রযুক্তির অবদান রয়েছে।
বায়োটেকনোলজি ।। সবুজ জীবপ্রযুক্তি কী ।। Green biotechnology
কৃষিক্ষেত্রে জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ হলো সবুজ জীবপ্রযুক্তি। নিরোগ চারা উৎপাদন, মাইক্রোপ্রোপাগেশন, সোমাটিক এমব্রায়োজেনেসিস, এমব্রায়ো কালচার, সোমাটিক হাইব্রিডাইজেশন, ইন-ভিট্রো সিলেকশন, পরাগধানী কালচার, সোমাক্লোনাল ভেরিয়েশন, ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ সৃষ্টি, বীজবিহীন উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি প্রভৃতি ক্ষেত্রে সবুজ জীবপ্রযুক্তির ভূমিকা রয়েছে।
বায়োটেকনোলজি কী।। জীবপ্রযুক্তি কাকে বলে ।। Biotechnology কী
Bios অর্থ জীবন এবং technology অর্থ প্রযুক্তি নিয়ে Biotechnology শব্দটি গঠিত। Biotechnology-এর অর্থ জীবনের প্রযুক্তি বা জীবপ্রযুক্তি। বায়োটেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের আধুনিক ও প্রয়োগমুখী শাখা। বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত নীতি অনুসরণ ও প্রয়োগ করে জীবদেরকে যথাযথ ভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের জন্য কল্যাণকর ও ব্যবহারযোগ্য মালামাল তৈরীর পদ্ধতিকে জীবপ্রযুক্তি বলে। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ দুধ থেকে দই ও ছানা, শর্করা থেকে গাঁজন মদ, গুড় থেকে ভিনেগার বা অ্যালকোহল, অণুজীব থেকে অ্যান্টিবায়োটিক প্রভৃতি তৈরী করে আসছে। বর্তমানে জিন প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রান্সজেনিক জীব, কৃত্রিম জিন, পলিমারেজ চেইন প্রভৃতি তৈরী করছে। টিস্যু কালচার সম্পূর্ণরুপে কাচপাত্রের মধ্যে সম্পন্ন করা হয় বলে একে ইন-ভিট্রো কালচার বলা হয়।
খ্রিস্টপূর্ব ৬০০০ বছর আগে সুমেরিয়ান ও ব্যাবিলীয়নরা জীবপ্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে। খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ বছর আগে মিশরীয়রা জীবপ্রযুক্তির মাধ্যমে পাউরুটি তৈরী করে। ১৯১৯ সালে হাঙ্গেরীয় প্রকৌশলী কার্ল এরিক (Karl Erekh) সর্বপ্রথম Biotechnology শব্দটি প্রবর্তন করেন। ১৯২০ সালে ইংল্যান্ডের লীড্স সিটি কাউন্সিল সর্বপ্রথম Biotechnology শব্দটি ব্যবহার করে। বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (Louis Pasteur) সর্বপ্রথম অণুজীবের সাহায্যে ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়া প্রয়োগ করেন বলে তাকে বায়োটেকনোলজির জনক বলা হয়।
বিভিন্ন বিজ্ঞানী এবং সংস্থা জীবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজিকে বিভিন্ন ভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
১। বিজ্ঞানী কোলম্যান (Colman, 1968)-এর মতে, জীবন্ত উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব বা এদের অংশবিশেষ ব্যবহার করে মানবতার কল্যাণে ব্যবহার উপযোগী উন্নত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন নতুন উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব বা দ্রব্য উৎপাদনে প্রয়োগকৃত প্রযুক্তি হলো জীবপ্রযুক্তি।
২। বিজ্ঞানী স্পিংকস (Spinks, 1980)-এর মতে, শিল্প কারখানায় পণ্য উৎপাদনের এবং ব্যবহারের জন্য জৈবিক পদ্ধতি বা অণুজীবের ব্যবহারই হচ্ছে জীবপ্রযুক্তি।
৩। বিজ্ঞানী বুল (Bull et. al., 1982)-এর মতে, জীবপ্রযুক্তি হচ্ছে জৈবিক এজেন্ট-এর মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহারের জন্য বিজ্ঞানীসম্মত এবং প্রযুক্তিগত মূলনীতির ব্যবহার।
৪। ব্রিটিশ জীবপ্রযুক্তিবিদদের মতে, উৎপাদন ও সহায়ক শিল্পে কোনো জীব বা জীব ব্যবহৃত পদ্ধতির প্রয়োগই হলো জীবপ্রযুক্তি।
৫। US National Science Foundation অনুযায়ী, জীবপ্রযুক্তি হলো মানুষের কল্যাণার্থে অণুজীব কিংবা অপর কোনো কোষীয় জীবসত্তার নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।
৬। European Federation of Biotechnology-এর সংজ্ঞা হলো- জীবপ্রযুক্তি হলো জীব বা জীব উপজাত পদার্থের ব্যবহারিক বা শিল্পভিত্তিক প্রয়োগ।
উচ্চ ফলনশীল গম ।। উচ্চ ফলনশীল গম উদ্ভাবন
বিভিন্ন আবাদি জাতের গমের মধ্যে সংকরায়ন ঘটিয়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের গম উদ্ভাবন করা হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল গম উদ্ভাবনের জন্য ১৯৭০ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী বোরলাউগ (Norman Earnest Borlaug) নোবেল পুরুষ্কার পান। মেক্সিকোর গবেষণা প্রতিষ্ঠান CIMMIT এর সহযোগীতায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ১৭টি উফশি জাতের গম উদ্ভাবন করেছে। উচ্চ ফলনশীল গমের জাত হলো– বলাকা, আকবর, কাঞ্চন, বরকত ও সওগাত। এছাড়া BR-২৭ ও BR–২৮ গম আরও উন্নত।
উচ্চ ফলনশীল ধান ।। উচ্চ ফলনশীল ধান উদ্ভাবন
১৯৬০ এর দশকে ফিলিপাইনের আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (International Rice Research Institute-IRRI) বিজ্ঞানীগণ ইরি ধান উদ্ভাবন করেন। ইন্দোনেশিয়ার পেটা ধান (Peta) এবং তাইওয়ানের ডিজি উজেন (Dee-gee-woo-gen) ধানের মধ্যে সংকরায়ন ঘটিয়ে ইরি–৮ ধান উদ্ভাবন করা হয়। এ ধানের ফলন একর প্রতি ৯০–১০০ মণ। ইন্দোনেশিয়ার পেটা ধান (Peta), ভারতের টিকেএম–৬ ধান (TKM-6) এবং তাইওয়ানের টাইচু–১ (Tichu-1) ধানের মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে ইরিশাইল ধান উদ্ভাবন করা হয়। এ ধানের ফলন একর প্রতি ৭০–৭৫ মণ। ইরি–৫ ধানের ফলন একর প্রতি ৭০–৭৫ মণ। উচ্চ ফলনশীল ইরি ধান হলো ইরি–২০, ইরি–২৮, ইরি–২৯ ইত্যাদি।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (Bangladesh Rice Research Institute-BRRI) উচ্চ ফলনশীল বিরি ধান উদ্ভাবন করেছেন। BR-২০ এবং BR–৩ এর মধ্যে সংকরায়ন করে উদ্ভাবন করা হয়েছে বিরিশাইল। বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক উদ্ভাবিত চারটি উফশি জাতের ধান হলো– চান্দিনা (BR–১), মালা (BR–২), শাহী বালাম (BR–১৫) এবং শ্রাবনী (BR–২৬)। আগে বাংলাদেশে চাষকৃত জাতগুলোর ফলন ছিল একরপ্রতি ৩০–৩৫ মণ। বর্তমানে চাষকৃত উচ্চ ফলনশীল জাতের ফলন এককপ্রতি ৭০–৯০ মণ। BR–২৮ এবং BR–২৯ আরও উন্নত জাত। গত ৪০ বছরে এশিয়ায় ধানের উৎপাদন কমপক্ষে ৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষকের কাছে বোরো মৌসুমে চাষের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ধান হলো ব্রি–২৮ এবং ব্রি–২৯। বর্তমানে এই জাত দু’টির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়েছে এবং সহজেই ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ব্রি–২৮ এর বিকল্প হিসেবে চাষ হচ্ছে ব্রি–৬৮, ৮১, ৮৬, ৮৮, ৯৬, ১০১, ১০৫ এবং বঙ্গবন্ধু ১০০। ব্রি–২৯ এর বিকল্প হিসেবে চাষ হচ্ছে ব্রি–৮৯, ৯২, ৯৭, ৯৯, ১০২, বঙ্গবন্ধু ১০০, বিনা–২৫ এবং লবণাক্ত এলাকায় বিনা–১০।
হাইব্রিডাইজেশন ।। খাদ্য চাহিদা পূরণে হাইব্রিডাইজেশনের ভূমিকা
১। হাইব্রিডাইজেশন প্রক্রিয়ায় ইরি-২০, ইরি-২৮, ইরি-২৯ প্রভৃতি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত সৃষ্টি করা হয়েছে। ইরি-৮ একর প্রতি ৯০-১০০ মণ, ইরি-৫ একর প্রতি ৭০-৭৫ মণ এবং ইরিশাইল একর প্রতি ৭০-৭৫ মণ। এসব উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করে দেশের খাদ্য অভাব পূরণ হয়েছে। বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানী করার প্রয়োজন হয় না।
২। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হাইব্রিডাইজেশন প্রক্রিয়ায় চান্দিনা (BR-১), মালা (BR-২), শাহী বালাম (BR-১৬), শ্রাবনী (BR-২৬) প্রভৃতি উচ্চ ফলনশীল ধান উদ্ভাবন করেছে। এসব উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়েছে।
৩। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) সংকরায়নের মাধ্যমে বলাকা, আকবর, কাঞ্চন, বরকত, সওগাত, BR-২৭, BR-২৮ প্রভৃতি উচ্চ ফলনশীল গমের জাত সৃষ্টি করেছে। উচ্চ ফলনশীল গম চাষ করে দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে এবং বিদেশী নির্ভরশীলতা কমে গেছে।
৪। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উদ্ভিদের এমন জাত সৃষ্টি করা হয়েছে যা প্রতিকূল পরিবেশে জন্মাতে পারে। এ সব জাত ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের হওয়ায় খরা, বন্যা, লবণাক্ততা প্রভৃতি সহ্য করতে পারে। এসব ফসল যেকোন পরিবেশে যেকোন মৌসুমে আবাদ করা সম্ভব। এতে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়েছে।
৫। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ফসলের বীজ ঝরে পড়া স্বভাবের পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কৃষক ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
হাইব্রিডাইজেশন ।। অর্থনীতিতে হাইব্রিডাইজেশনের ভূমিকা
১। হাইব্রিডাইজেশন প্রক্রিয়ায় ধানের উচ্চ ফলনশীল জাত সৃষ্টি করা হচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল ধানের ফলন হলো- ইরি-৮ একর প্রতি ৯০-১০০ মণ, ইরি-৫ একর প্রতি ৭০-৭৫ মণ এবং ইরিশাইল একর প্রতি ৭০-৭৫ মণ। উচ্চ ফলনশীল ধান হলো ইরি-২০, ইরি-২৮, ইরি-২৯ ইত্যাদি। এসব উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করে দেশের খাদ্য অভাব পূরণ হয়েছে। বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানী করতে হচ্ছে না। ফলে দেশ অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে।
২। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট BR-২০ এবং BR-৩ এর মধ্যে কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে বিরিশাইল ধান উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত চারটি উফশি জাতের ধান হলো- চান্দিনা (BR-১), মালা (BR-২), শাহী বালাম (BR-১৬) এবং শ্রাবনী (BR-২৬)। এসব উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধান বিদেশে বিক্রিয় করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে।
৩। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) সংকরায়নের মাধ্যমে ১৭টি উফশি জাতের গম উদ্ভাবন করেছে। উচ্চ ফলনশীল গমের জাত হলো- বলাকা, আকবর, কাঞ্চন, বরকত, সওগাত, BR-২৭ ও BR-২৮। উচ্চ ফলনশীল গম চাষ করে দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। বিদেশী নির্ভরশীলতা কমে গেছে। ফলে দেশের অর্থনীতি উন্নয়ন হচ্ছে।
৪। বুনো রোগ প্রতিরোধী ফসলের সাথে আবাদি রোগ কাতর ফসলের কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন করা হয়। মুক্তা (BR-১১), গাজী (BR-১৪), মোহিনী (BR-১৫), শাহী বালাম (BR-১৬) প্রভৃতি ধানের রোগ প্রতিরোধী জাত। রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করলে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। বিদেশ থেকে কীটনাশক আমদানী কমে গিয়েছে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উৎপাদন খরচ কমে গিয়েছে। এতে দেশ অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে।
৫। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উদ্ভিদের এমন জাত সৃষ্টি করা হয়েছে যা প্রতিকূল পরিবেশে জন্মাতে পারে। এ সব জাত ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের হওয়ায় খরা, বন্যা, লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি প্রভৃতি সহ্য করতে পারে। এসব ফসল যেকোন পরিবেশে যেকোন মৌসুমে আবাদ করা সম্ভব। এতে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
৬। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে শস্যদানার আকার, বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যের উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে।
৭। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে একই সময়ে পরিপক্ক হয় এমন ফসল উদ্ভাবন করা হয়। এতে ফসল সংগ্রহে পরিশ্রম এবং অর্থ কম ব্যয় হয়। শস্যের অপচয় হয় না। কৃষক অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হয়।
৮। অনেক ফসলের বীজ মাঠে ঝরে পড়ে। এতে ফসলের ফলন কমে যায় এবং কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ফসলের বীজ ঝরে পড়া স্বভাবের পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। এতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
হাইব্রিডাইজেশন ।। কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে হাইব্রিডাইজেশনের ভূমিকা ।। Development of farmer
১। হাইব্রিডাইজেশন প্রক্রিয়ায় পুংকেশরের শুক্রাণু স্ত্রীকেশরের ডিম্বাণুর সাথে মিলন ঘটানো হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে উচ্চ ফলনশীল নতুন জাত সৃষ্টি হয়। উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাত হলো কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নের চাবিকাঠি।
২। ফিলিপাইনে ইন্দোনেশিয়ার পেটা ধান (Peta) এবং তাইওয়ানের ডিজি উজেন (Dee-gee-woo-gen) ধানের মধ্যে নিষেক ঘটিয়ে ইরি-৮ ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে। ইরি-৮ ধানের ফলন একর প্রতি ৯০-১০০ মণ। ইরি-৫ ধানের ফলন একর প্রতি ৭০-৭৫ মণ। উচ্চ ফলনশীল ইরি ধান হলো ইরি-২০, ইরি-২৮, ইরি-২৯ ইত্যাদি। এসব উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করে কৃষকের ভাগ্য উন্নয়ন হয়েছে।
৩। ইন্দোনেশিয়ার পেটা ধান (Peta), ভারতের টিকেএম-৬ ধান (TKM-6) এবং তাইওয়ানের টাইচু-১ (Tichu-1) ধানের মধ্যে কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে ইরিশাইল ধান উদ্ভাবন করা হয়। এ ধানের ফলন একর প্রতি ৭০-৭৫ মণ। কৃষক পর্যায়ে ইরিশাইল ধান ব্যাপক ভাবে চাষ হচ্ছে।
৪। বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্র BR-২০ এবং BR-৩ এর মধ্যে নিষেক ঘটিয়ে বিরিশাইল ধান উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক উদ্ভাবিত চারটি উফশি জাতের ধান হলো- চান্দিনা (BR-১), মালা (BR-২), শাহী বালাম (BR-১৬) এবং শ্রাবনী (BR-২৬)। এসব উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করে কৃষকের ভাগ্য ফিরেছে।
৫। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) সংকরায়নের মাধ্যমে ১৭টি উফশি জাতের গম উদ্ভাবন করেছে। উচ্চ ফলনশীল গমের জাত হলো- বলাকা, আকবর, কাঞ্চন, বরকত ও সওগাত। এছাড়া BR-২৭ ও BR-২৮ গম আরও উন্নত। উচ্চ ফলনশীল গম চাষ করে কৃষকের অভাব দূর হয়েছে।
৬। বুনো রোগ প্রতিরোধী ফসলের সাথে আবাদি রোগ কাতর ফসলের কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন করা হয়। মুক্তা (BR-11), গাজী (BR-14), মোহিনী (BR-15), শাহী বালাম (BR-১৬) প্রভৃতি ধানের রোগ প্রতিরোধী জাত। রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করলে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। ফসলের উৎপাদন খরচ কম হয়। কৃষক অল্প খরচে ফসল আবাদ করতে পারে।
৭। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উদ্ভিদের এমন জাত সৃষ্টি করা হয়েছে যা প্রতিকূল পরিবেশে জন্মাতে পারে। এ সব জাত ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের হওয়ায় খরা, বন্যা, লবণাক্ততা প্রভৃতি সহ্য করতে পারে। যে কোন অঞ্চলের কৃষক সহজেই ফসল আবাদ করতে পারে।
৮। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে শস্যদানার আকার, বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যের উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে। বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এসব ফসলের বাজার মূল্য বেশি। কৃষক এসব ফসল আবাদ করে বেশি মূল্যে বিক্রয় করছে এবং লাভবান হচ্ছে।
৯। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে একই সময়ে পরিপক্ক হয় এমন ফসল উদ্ভাবন করা হয়। এতে ফসল সংগ্রহে পরিশ্রম এবং অর্থ কম ব্যয় হয়।
১০। অনেক ফসলের বীজ মাঠে ঝরে পড়ে। এতে ফসলের ফলন কমে যায় এবং কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃত্রিম প্রজননের
১১। কৃত্রিম সংকরায়নের মাধ্যমে ফসলের আবাদকাল ২০-৩০ দিন পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে। সংক্ষিপ্ত আবাদকালবিশিষ্ট ফসল বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি প্রভৃতি শুরু হওয়ার আগেই পরিপক্ক হয়ে যায়। বর্তমানে এসব ফসল চাষ করে কৃষক সর্বনাশা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাচ্ছে। কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে এবং ভাগ্য বদলে যাচ্ছে।