পরিপক্ক হওয়ার আগেই পুষ্প হতে পুংকেশর অপসারণ বা মেরে ফেলাকে ইমাস্কুলেশন বলে। শুধু মাত্র উভয় লিঙ্গ ফুলে ইমাস্কুলেশন করা হয়। ইমাস্কুলেশনের উদ্দেশ্য হলো স্বপরাগায়ন বন্ধ করা। যে সব উদ্ভিদের ফুল খুবই ছোট তাদের ৪৮-৫৩ ডিগ্রী সে তাপমাত্রায় পানিতে ১-১৬ মিনিট ডুবিয়ে রেখে ইমাস্কুলেশন করা হয়। ধান, গম, ভূট্রা প্রভৃতি উদ্ভিদের ফুল গরম পানি অথবা অ্যালকোহলে ডুবিয়ে ইমাস্কুলেশন করা হয়।
Category: Biology Second Paper
কৃত্রিম হাইব্রিডাইজেশন ।। কৃত্রিম হাইব্রিডাইজেশন প্রক্রিয়ার কৌশল
১। প্যারেন্ট নির্বাচন (Parent selection)ঃ হাইব্রিডাইজেশনের প্রথম পদক্ষেপ হলো প্যারেন্ট নির্বাচন। প্যারেন্ট নির্বাচনের সময় খেয়াল রাখতে হবে উদ্ভিদটি যেন সুস্থ, সবল, রোগ মুক্ত ও উন্নত জাতের হয়। যেসব স্থানীয় প্রকরণে কাংক্ষিত বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান সেসব উদ্ভিদ থেকে প্যারেন্ট নির্বাচন করা হয়। কাংক্ষিত প্যারেন্ট যদি স্থানীয় ভাবে না জন্মে তবে অন্য স্থান বা বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়।
২। প্যারেন্টের কৃত্রিম স্বপরাগায়ন (Self fertilization)ঃ প্যারেন্ট স্বপরাগী না হলে কৃত্রিম উপায়ে স্বপরাগায়ন ঘটানো হয়। এতে প্যারেন্ট উদ্ভিদ হোমোজাইগাস হয়। প্যারেন্ট হোমোজাইগাস হলে কাক্সিক্ষত বৈশিষ্ট্যের মিলন ঘটানো সম্ভব হয়।
৩। প্যারেন্টের ইমাস্কুলেশন (Emasculation)ঃ পরিপক্ক হওয়ার আগেই পুষ্প হতে পুংকেশর অপসারণ বা মেরে ফেলাকে ইমাস্কুলেশন বলে। শুধু মাত্র উভয় লিঙ্গ ফুলে ইমাস্কুলেশন করা হয়। ইমাস্কুলেশনের উদ্দেশ্য হলো স্বপরাগায়ন বন্ধ করা। যে সব উদ্ভিদের ফুল খুবই ছোট তাদের ৪৮-৫৩ ডিগ্রী সে তাপমাত্রায় পানিতে ১-১৬ মিনিট ডুবিয়ে রেখে ইমাস্কুলেশন করা হয়। ধান, গম, ভূট্রা প্রভৃতি উদ্ভিদের ফুল গরম পানি অথবা অ্যালকোহলে ডুবিয়ে ইমাস্কুলেশন করা হয়।
৪। ব্যাগিং (Bagging)ঃ ক্রসের জন্য নির্বাচিত উদ্ভিদকে পলিথিন ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। একে ব্যাগিং বলে। ব্যাগিং এর কারণে অনাকাংক্ষিত পরাগায়ন ঘটার সম্ভবনা থাকে না। মাতৃ উদ্ভিদে ফল হওয়া পর্যন্ত ব্যাগ রাখা হয়। প্রয়োজনে সুই দিয়ে অতি সুক্ষ্ম ছিদ্র করা হয় যাতে বায়ু আসা-যাওয়া করতে পারে।
৫। ক্রসিং (Crossing)ঃ ব্যাগিং করা পুং উদ্ভিদ হতে পরাগরেণু সংগ্রহ করে ব্যাগিং করা ইমাস্কুলেটেড স্ত্রী উদ্ভিদের গর্ভমুন্ডে ফেলা হয়। পরাগরেণু থেকে দুইটি শুক্রাণু সৃষ্টি হয়। শুক্রাণু দুটি ভ্রুণথলীতে প্রবেশ করে। ভ্রুণথলীতে শুক্রাণু দুটির মধ্যে একটি ডিম্বাণুর সাথে এবং অপরটি সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক এবং শুক্রাণু ও সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াসের মিলনকে ত্রিমিলন বলে। নিষেক ও ত্রিমিলনকে একত্রে দ্বি-নিষেক বলে।
৬। লেবেলিং (Labeling)ঃ ইমাস্কুলেশনের তারিখ, ক্রসিং এর তারিখ এবং পুং ও স্ত্রী উদ্ভিদের পরিচিতি একটি কাগজে লিখে স্ত্রী উদ্ভিদে লাগিয়ে দেয়া হয়। একে লেবেলিং বলে।
৭। বীজ সংগ্রহ (Seed collection)ঃ হাইব্রিডাইজেশনের ফলে যে বীজ পাওয়া তাকে হাইব্রিড বা সংকর বীজ বলে। ফল পরিপক্ক হওয়ার পর বীজ সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহ করার পর বীজ পরিষ্কার করা হয়। অপরিপক্ক বীজ থাকলে তা ফেলে দেওয়া হয়। পরিপক্ক, উন্নত, বিশুদ্ধ এবং পরিষ্কার বীজ প্যাকেটজাত করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করা হয়।
৮। বীজ বপন এবং F1 উদ্ভিদ সৃষ্টি (F1 plant)ঃ সংরক্ষিত বীজ পরবর্তী বছর বপন করা হয়। উৎপন্ন উদ্ভিদ গুলোকে F1 বংশধর বলা হয়। F1 বংশধর হলো প্যারেন্টের হাইব্রিড বা সংকর। F1 বংশধরে ফল পরিপক্ক হওয়ার পর বীজ সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহ করার পর বীজ পরিষ্কার করা হয়। পরিপক্ক, উন্নত, বিশুদ্ধ এবং পরিষ্কার বীজ প্যাকেটজাত করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করা হয়।
৯। F1 বংশধর ব্যবহার এবং নতুন প্রকরণ সৃষ্টি (New varieties)ঃ F1 বংশধরের দুইটি উদ্ভিদের মধ্যে ক্রস ঘটিয়ে F2 বংশধর সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে F3, F4, F5, F6 প্রভৃতি বংশধর সৃষ্টি করা হয়। এভাবে ৭-১০ বছরে একটি নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয়।
হাইব্রিডাইজেশন কী ।। সংকরায়ন কী ।। Hybridization কী
দুই বা ততোধিক উদ্ভিদের মধ্যে ক্রস (cross) ঘটিয়ে নতুন জাত (সংকর) উদ্ভাবন করাকে সংকরায়ন বা হাইব্রিডাইজেশন বলে। এ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট উদ্ভিদকে সংকর উদ্ভিদ বলে। উদ্ভিদের কৃত্রিম প্রজননের মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হলো সংকরায়ন। ১৬০৪ সালে বিজ্ঞানী ক্যামেরারিয়াস (Camerarius) প্রথমে কিছু উদ্ভিদের পরাগায়ন নিয়ন্ত্রণ কৌশল আবিষ্কার করেন। ১৭১৭ সালে বিজ্ঞানী থমাস ফারচিল্ড (Thomas Fairchild) কৃত্রিম উপায়ে উদ্ভিদের প্রথম সফল সংকরায়নে ভূমিকা রাখেন। ১৭৬০ সালে জার্মান বিজ্ঞানী জোসেফ কোয়েল রিউটার (Joseph Koel Reuter) এই কৌশলকে কাজে লাগিয়ে Nicotiana ও Dianthus সংকর উদ্ভিদ উদ্ভবন করে চমক সৃষ্টি করেন।
জীববৈচিত্র্যতার প্রকারভেদ
জীববৈচিত্র্যতা তিন প্রকার।
১। জিনগত বৈচিত্র্যঃ একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উদ্ভিদ বা প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত পার্থক্য বা বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে Genetic বা বংশগত জীববৈচিত্র্য বলে। একে অন্তঃপ্রজাতিক (intraspesific) বৈচিত্র্যও বলা হয়। যে প্রজাতির জিনগত বৈচিত্র্য বেশি তার অভিযোজন ক্ষমতাও বেশি। জিন রোগের প্রতি সংবেদনশীল হলে তা বংশ পরস্পরায় সঞ্চারিত হয়। মানুষ একই প্রজাতির (Homo sapien) হওয়া সত্ত্বেও জিনগত কারণে আকার, আকৃতি, গায়ের রং, চুলের বর্ণ প্রভৃতিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়।
২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্যঃ দুই বা ততোধিক প্রজাতির উদ্ভিদ বা প্রাণীর মধ্যে যে পার্থক্য বা বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে Specific বা প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। একে আন্তঃপ্রজাতিক (interspesific) বৈচিত্র্যও বলা হয়। যে অঞ্চলে পুষ্টি উপাদান ও আবহাওয়া অনুক‚ল সে অঞ্চলে প্রজাতি বৈচিত্র্য বেশি। যেমন- গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল।
৩। বাস্তুতাস্ত্রিক বৈচিত্র্যঃ বিভিন্ন ধরনের জীবের মধ্যে যে পরিবেশ বা বাস্তুসংস্থানিক পার্থক্য বা বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে Ecosystem বা পরিবেশগত বৈচিত্র্য বলে। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভৌত, জৈব ও রাসায়নিক উপাদানের পরিবর্তন ঘটলে বাস্তুতাস্ত্রিক বৈচিত্র্যের উদ্ভব ঘটে। যেমন- মরু বায়োম, বনভুমির বায়োম, তৃণভুমির বায়োম, তুন্দ্রা বায়োম প্রভৃতি।
অ্যাপোমিক্সিস কী ।। Apomixis কী
নিষেক ছাড়া অঙ্গজ বা অযৌন পদ্ধতিতে স্পোরোফাইটিক বা রেণুধর কোষ থেকে ভ্রæণসহ বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে অ্যাপোমিক্সিস বলে। আপেল, লেবু, পেঁয়াজ, তামাক, ফণিমনসা প্রভৃতি উদ্ভিদে অ্যাপোমিক্সিস ঘটে।
অ্যাগামোস্পার্মি কী ।। Agamospermy কী
পার্থেনোজেনেসিস, অ্যাপোস্পোরি, অ্যাপোগ্যামি এবং অ্যাডভেনটিটিভ এমব্রায়োনি প্রক্রিয়া গুলোকে একত্রে অ্যাগামোস্পার্মি বলে। অ্যাগামোস্পার্মি অনুপ্রেরণা সৃষ্টির জন্য পরাগায়ন আবশ্যক হলে তাকে সিউডোগ্যামি বলে।
অ্যাডভেনটিটিভ এমব্রায়োনি কী ।। Adventitive embrony
ডিম্বকত্বক অথবা নিউসেলাসের যে কোন কোষ হতে ভ্রুণ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে অ্যাডভেনটিটিভ এমব্রায়োনি বলে। যেমন– Hieracium উদ্ভিদ।
অ্যাপোগ্যামি কী ।। Apogamy কী
ডিম্বাণু ছাড়া ভ্রুণথলির যে কোন কোষ (সহকারী কোষ, প্রতিপাদ কোষ) থেকে ভ্রুণ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে অ্যাপোগ্যামি বলে। যেমন– Allium উদ্ভিদ।
অ্যাপোস্পোরি কী ।। Apospory কী
ডিম্বকের দেহকোষ থেকে সৃষ্ট ডিপ্লয়েড ভ্রুণথলির ডিপ্লয়েড ডিম্বাণু নিষেক ছাড়াই ভ্রুণে পরিনত হলে তাকে অ্যাপোস্পোরি বলে। যেমন– Hieracium উদ্ভিদ।
অ্যান্ড্রোজেনেসিস কী ।। Androgenesis
যে প্রক্রিয়ায় নিষেক ছাড়াই শুক্রাণু ভ্রæণে পরিনত হয় তাকে অ্যান্ড্রোজেনেসিস বলে। যেমন তামাক– Nicotiana tabacum।