পার্থেনোজেনেসিস ।। পার্থেনোজেনেসিসের গুরুত্ব ।। Importanceof parthenogenesis

১। পার্থেনোজেনেসিস হলো একটি স্থায়ী প্রজনন প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় যে কোন সময় জীবের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়।

২। এই প্রক্রিয়ায় জীবদেহে পলিপ্লয়েড অবস্থা সৃষ্টি হয়।

৩। কৃত্রিম পার্থেনোজেনেসিসের মাধ্যমে বন্ধ্যাত্ব এবং বিলুপ্তির হাত থেকে উদ্ভিদকে রক্ষা করা যায়।

৪। পার্থেনোজেনেসিস প্রজাতিকে বন্ধ্যাত্ব থেকে রক্ষা করে।

৫। অনেক জীবে পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় লিঙ্গ নির্ধারিত হয়। যেমন- বোলতা, মৌমাছি।

৬। পার্থেনোজেনেসিস দ্বারা বংশগতীয় ক্রোমোজোম তত্ত¡কে ব্যাখ্যা করা যায়।

৭। ইহা জীবগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রকরণবিহীন করে।

৮। এই প্রক্রিয়ায় কোন কোন পতঙ্গের দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটানো যায়। যেমন-অ্যাফিড।

৯। ইহা জীবের সুবিধাজনক মিউট্যান্ট বৈশিষ্ট্য বিকাশে উৎসাহিত করে।

১০। এতে কোন নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয় না।

১১। ইহা গবেষণায় কাজে লাগে।

১২। উদ্ভিদ প্রজননে প্রয়োগ করা হয়।

কৃত্রিম পার্থেনোজেনেসিস ।। রাসায়নিক পদ্ধতিতে কৃত্রিম পার্থেনোজেনেসিস ।। Chemical parthenogenesis

জীববিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, কিছু রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে অনিষিক্ত ডিম্বাণুর পার্থেনোজেনেসিস ঘটিয়ে ভ্রুণ সৃষ্টি করা যায়। পটাসিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, ক্লোরোফর্ম, বিউটারিক এসিড, টলুইন, বেনজিন, অ্যাসিটোন প্রভৃতি প্রয়োগ করে অনিষিক্ত ডিম্বাণুর পার্থেনোজেনেসিস ঘটানো হয়।

কৃত্রিম পার্থেনোজেনেসিস ।। ভৌত পদ্ধতিতে কৃত্রিম পার্থেনোজেনেসিস । Physical parthenogenesis)

(i) অনিষিক্ত ডিম্বাণুকে বৈদ্যুতিক শকের মাধ্যমে পার্থেনোজেনেসিস ঘটানো হয়। ডিম্বাণুটি ভ্রæণে পরিনত হয়। ভ্রুণ থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়।

(ii) অনিষিক্ত ডিম্বাণুকে ৩০ ডিগী সে. তাপমাত্রার পর ০-১০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় স্থানান্তর করা হয়। তাপমাত্রার বিস্তর পরিবর্তন ঘটলে অনিষিক্ত ডিম্বাণুর পার্থেনোজেনেসিস ঘটে। ডিম্বাণু থেকে ভ্রুণ এবং ভ্রুণ থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়।

(iii) সূচের সাহায্যে অনিষিক্ত ডিম্বাণুকে খোচালে পার্থেনোজেনেসিস ঘটে।

(iv) অতিবেগুনী রশ্মি প্রয়োগ করে অনিষিক্ত ডিম্বাণুর পার্থেনোজেনেসিস ঘটানো হয়।

কৃত্রিম পার্থেনোজেনেসিস ।। কৃত্রিম পার্থেনোজেনেসিস কী ।। Artificial parthenogenesis

পুংগ্যামেট ডিম্বাণুতে যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে অনুরুপ উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী পদার্থ প্রয়োগ করে নিষেক ছাড়াই ডিম্বাণু থেকে ভ্রুণ উৎপন্ন করাকে কৃত্রিম পার্থেনোজেনেসিস বলে। কৃত্রিম পদ্ধতিতে বীজবিহীন ফল উৎপাদনকে পার্থেনোকার্পি বলে। এক্স-রে, ইমাস্কুলেশনের পর পরাগায়ন বিলম্বিত করা, বেলভিটান জাতীয় পদার্থ দ্বারা কৃত্রিম পার্থেনোজেনেসিস ঘটানো হয়।

পার্থেনোজেনেসিস কী ।। পার্থেনোজেনেসিস বা অপুংজনি কত প্রকার ও কী কী ।। Parthenogenesis

গ্রিক শব্দ parthenos অর্থ virgin বা অনিষিক্ত এবং genesis অর্থ origin বা উৎপত্তি নিয়ে Parthenogenesis শব্দটি গঠিত। যে প্রক্রিয়ায় নিষেক ছাড়াই ডিম্বাণু ভ্রুণে এবং ডিম্বক বীজে পরিনত হয় তাকে পার্থেনোজেনেসিস বলে। হরমোন প্রয়োগে বীজবিহীন ফল উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে পার্থেনোকার্পি বলে। ১৯০৮ সালে বিজ্ঞানী উইঙ্কলার (Winkler) সর্বপ্রথম নিষেকবিহীন ভ্রুণ উৎপাদন প্রক্রিয়া লক্ষ্য করেন। লেবু, কমলালেবু প্রভৃতি উদ্ভিদে পার্থেনোজেনেসিস ঘটে।

প্রাকৃতিক পার্থেনোজেনেসিস প্রধানত দুই প্রকার। এগুলো হলো-

১। হ্যাপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস (Haploid parthenogenesis)ঃ মায়োসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট হ্যাপ্লয়েড ডিম্বাণু নিষেক ছাড়াই ভ্রুণে পরিনত হলে তাকে হ্যাপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস বলে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন জীব হ্যাপ্লয়েড এবং অনুর্বর হয়। যেমন- মৌমাছি, বোলতা, তামাক, তিতবেগুন (Solanum nigrum), বেগুনী অর্কিড (Orchis maculata) প্রভৃতি।

২। ডিপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস (Diploid parthenogenesis)ঃ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ডিপ্লয়েড ডিম্বাণু নিষেক ছাড়াই ভ্রুণে পরিনত হলে তাকে ডিপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস বলে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন জীব ডিপ্লয়েড হয়। যেমন- পার্থেনিয়াম (Parthenium argentatum), তামাক (Nicotiana tabacum), টারাক্সিকাম (Taraxacum albidum) প্রভৃতি।

পার্থেনোজেনেসিস ।। ডিপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস কী ।। Diploid parthenogenesis কী

মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ডিপ্লয়েড ডিম্বাণু নিষেক ছাড়াই ভ্রুণে পরিনত হলে তাকে ডিপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস বলে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন জীব ডিপ্লয়েড হয়। যেমন- পার্থেনিয়াম (Parthenium argentatum), তামাক (Nicotiana tabacum), টারাক্সিকাম (Taraxacum albidum) প্রভৃতি।

পার্থেনোজেনেসিস ।। হ্যাপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস কী ।। Haploid parthenogenesis

মায়োসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট হ্যাপ্লয়েড ডিম্বাণু নিষেক ছাড়াই ভ্রুণে পরিনত হলে তাকে হ্যাপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস বলে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন জীব হ্যাপ্লয়েড এবং অনুর্বর হয়। যেমন- মৌমাছি, বোলতা, তামাক, তিতবেগুন (Solanum nigrum), বেগুনী অর্কিড (Orchis maculata) প্রভৃতি।

পার্থেনোজেনেসিস ।। পার্থেনোজেনেসিস কী ।। অপুংজনি কী ।। Parthenogenesis কী ।।

গ্রিক শব্দ parthenos অর্থ virgin বা অনিষিক্ত এবং genesis অর্থ origin বা উৎপত্তি নিয়ে Parthenogenesis শব্দটি গঠিত। যে প্রক্রিয়ায় নিষেক ছাড়াই ডিম্বাণু ভ্রুণে এবং ডিম্বক বীজে পরিনত হয় তাকে পার্থেনোজেনেসিস বলে। হরমোন প্রয়োগে বীজবিহীন ফল উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে পার্থেনোকার্পি বলে। ১৯০৮ সালে বিজ্ঞানী উইঙ্কলার (Winkler) সর্বপ্রথম নিষেকবিহীন ভ্রুণ উৎপাদন প্রক্রিয়া লক্ষ্য করেন। লেবু, কমলালেবু প্রভৃতি উদ্ভিদে পার্থেনোজেনেসিস ঘটে।

অঙ্গজ প্রজননের অসুবিধা ।। Disadvantage of vegetative reproduction

১। অঙ্গজ প্রজননে সৃষ্ট উদ্ভিদ সহজেই ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়। ফলে উদ্ভিদের মৃত্যু ঘটতে পারে।

২। অঙ্গজ প্রজননে উৎপন্ন উদ্ভিদে বৈচিত্র্য বা প্রকরণ সৃষ্টি হয় না।

৩। অঙ্গজ প্রজননে উৎপন্ন উদ্ভিদের অভিযোজন ক্ষমতা কম হয়।

৪। এই প্রক্রিয়ায় অসংখ্য উদ্ভিদ গাদাগাদি করে জন্মায় এবং খাদ্য ও স্থানের অভাবে সহজেই মারা যায়।

অঙ্গজ প্রজননের সুবিধা ।। Advantage of vegetative reproduction

১। যে সব উদ্ভিদে বীজ সৃষ্টি হয় না, সেসব উদ্ভিদ অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। যেমন- আখ, গোলাপ, জবা, আলু, কলা প্রভৃতি।

২। অঙ্গজ প্রজননের ফলে উদ্ভিদের গুণগতমান একই রকম থাকে। অর্থাৎ নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয় না।

৩। যে সব উদ্ভিদের ফল ও বীজ হতে দীর্ঘ সময় লাগে সেসব উদ্ভিদের দ্রুত বংশ বৃদ্ধি ঘটানো যায়।

৪। যে কোন উদ্ভিদের দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়।

৫। মাইক্রোপ্রোপাগেশন পদ্ধতিতে জিনগত বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয়।

৬। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে অঙ্গজ প্রজনন ঘটিয়ে রোগমুক্ত উদ্ভিদ সৃষ্টি করা যায়।

৭। অঙ্গজ প্রজননে সৃষ্ট উদ্ভিদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ১০০% নিশ্চিত।

৮। এই প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদকে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা যায়।

৯। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ সৃষ্টি করা যায়। ইহা এক ধরনের অঙ্গজ প্রজনন।