মূল ।। একবীজপত্রী মূল ।। একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের অন্তর্গঠন ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের পাতলা প্রস্থচ্ছেদ পর্যবেক্ষণ করলে দুইটি অঞ্চল দেখা যায়। বহিঃস্টিলীয় অঞ্চল অন্তঃস্টিলীয় অঞ্চল।

১। বহিঃস্টিলীয় অঞ্চল (Extra stelar region) স্টিলীর বাইরের অঞ্চলকে বহিঃস্টিলীয় অঞ্চল বলে। এর বিভিন্ন অংশ হলো

(i) মূলত্বক বা এপিবেøমা (Epiblema) মূলত্বক একস্তরবিশিষ্ট। এতে এককোষী মূলরোম থাকে। ইহা প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। ইহা পানি খনিজ লবণ শোষণ করে এবং অভ্যন্তরীণ অংশকে রক্ষা করে।

(ii) কর্টেক্স (Cortex) কর্টেক্স বহুস্তরবিশিষ্ট এবং প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো গোলাকার হওয়ায় আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকে (কখনো কখনো অ্যারেনকাইমা বা বায়ুকুঠুরী থাকতে পারে) ইহা খাদ্য সঞ্চয় করে।

(iii) অন্তঃত্বক (Endodermis) ইহা একস্তরবিশিষ্ট এবং পিপাকৃতির কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো ঘনসন্নিবিষ্ট এবং ফাঁকবিহীন। কোষগুলোর পার্শ্বপ্রাচীর এবং বাইরের প্রাচীর পুরু। পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট পারণ কোষ বা প্যাসেজ কোষ থাকে। ইহা পানি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।

২। অন্তঃস্টিলীয় অঞ্চল (Intra stelar region) মূলের কেন্দ্রে অবস্থিত পেরিসাইকল থেকে মজ্জা পর্যন্ত অঞ্চলকে স্টিলী বা অন্তঃস্টিলীয় অঞ্চল বলে। এর বিভিন্ন অংশ হলো

(i) পরিচক্র (Pericycle) অন্তঃত্বকের নিচে একস্তরবিশিষ্ট পেরিসাইকল থাকে। ইহা প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো খুব ঘনসন্নিবেশিত।

(ii) ভাস্কুলার বান্ডল (Vascular bundle) জাইলেম বা ফ্লোয়েম গুচ্ছের সংখ্যা ছয়এর অধিক। ইহা অরীয় ভাবে এবং চক্রাকারে সাজানো থাকে। প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অর্থাৎ এক্সার্ক। ইহা পানি, খনিজ লবণ খাদ্য পরিবহন করে। 

(iii) মজ্জা (Pith) মূলের কেন্দ্রে অবস্থিত ভাস্কুলার বান্ডল দ্বারা পরিবেষ্টিত অংশকে মজ্জা বলে। ইহা প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো গোলাকার, পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট এবং কোষাবকাশযুক্ত। কচু মূলে বড় মজ্জা থাকে। ইহা খাদ্য সঞ্চয় করে।

(iv) মজ্জারশ্মি (Medullary ray) ভাস্কুলার বান্ডলের মধ্য দিয়ে মজ্জা থেকে পেরিসাইকল পর্যন্ত অংশকে মজ্জা রশ্মি বলে। ইহা সরু, লম্বা পাতলা প্রাচীরযুক্ত প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। ইহা জাইলেম ফ্লোয়েমকে পৃথক করে রাখে এবং মজ্জা পেরিসাইকলের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে।

ভাস্কুলার বান্ডল ।। মূল শনাক্তকরণে ভাস্কুলার বান্ডলের ভূমিকা ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। জাইলেম ও ফ্লোয়েম পৃথক পৃথক ভাবে বান্ডল গঠন করলে তাকে অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। অরীয় ভাস্কুলার বান্ডলের সংখ্যা পাঁচ এর কম হলে দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মূল হবে।

২।  জাইলেম ও ফ্লোয়েম পৃথক পৃথক ভাবে বান্ডল গঠন করলে তাকে অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। অরীয় ভাস্কুলার বান্ডলের সংখ্যা ছয় এর বেশি হলে একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূল হবে।

ভাস্কুলার বান্ডল ।। কান্ড শনাক্তকরণে ভাস্কুলার বান্ডলের ভূমিকা  ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স  

১। জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম টিস্যু না থাকলে তাকে বদ্ধ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। বদ্ধ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে থাকে।

২। জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম টিস্যু থাকলে তাকে মুক্ত সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। মুক্ত সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল দ্বিবীজপত্রী এবং নগ্নবীজী উদ্ভিদের কান্ডে থাকে।

৩। মাঝখানে জাইলেম এবং তার উভয় পাশে ফ্লোয়েম অবস্থান করে তাকে সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল লাউ, কুমড়া, শশা প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ডে পাওয়া যায়।

৪। জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং ফ্লোয়েম তাকে বেষ্টন করে রাখলে তাকে হ্যাড্রোসেন্ট্রিক বা অ্যাম্ফিক্রিবাল বলে। হ্যাড্রোসেন্ট্রিক ভাস্কুলার বান্ডল পাওয়া যায় Lycopodium, Selaginella, Pteris প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ডে।

৫। ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকে এবং জাইলেম তাকে বেষ্টন করে রাখলে তাকে লেপ্টোসেন্ট্রিক বা অ্যাম্ফিভেসাল বলে। লেপ্টোসেন্ট্রিক ভাস্কুলার বান্ডল পাওয়া যায় ড্রাসিনা (Dracaena), Yucca প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ডে।

ভাস্কুলার বান্ডল ।। উদ্ভিদ শনাক্তকরণে ভাস্কুলার বান্ডলের ভূমিকা ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম টিস্যু না থাকলে তাকে বদ্ধ সমপার্শ্বীয়  ভাস্কুলার বান্ডল বলে। বদ্ধ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল একবীজপত্রী উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য।

২। জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম টিস্যু থাকলে তাকে মুক্ত সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। মুক্ত সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল দ্বিবীজপত্রী এবং নগ্নবীজী উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য।

৩। মাঝখানে জাইলেম এবং তার উভয় পাশে ফ্লোয়েম অবস্থান করলে তাকে সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল লাউ, কুমড়া, শশা প্রভৃতি উদ্ভিদে পাওয়া যায়।

৪। জাইলেম ও ফ্লোয়েম পৃথক পৃথক ভাবে বান্ডল গঠন করলে তাকে অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। অরীয় ভাস্কুলার বান্ডলের সংখ্যা পাঁচ এর কম হলে দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ হবে। অরীয় ভাস্কুলার বান্ডলের সংখ্যা ছয় এর বেশি হলে একবীজপত্রী উদ্ভিদ হবে।

৫। জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং ফ্লোয়েম তাকে বেষ্টন করে রাখলে তাকে হ্যাড্রোসেন্ট্রিক বা অ্যাম্ফিক্রিবাল বলে। হ্যাড্রোসেন্ট্রিক ভাস্কুলার বান্ডল পাওয়া যায় Lycopodium, Selaginella, Pteris প্রভৃতি উদ্ভিদে।

৬। ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকে এবং জাইলেম তাকে বেষ্টন করে রাখলে তাকে লেপ্টোসেন্ট্রিক বা অ্যাম্ফিভেসাল বলে। লেপ্টোসেন্ট্রিক ভাস্কুলার বান্ডল পাওয়া ড্রাসিনা (Dracaena), Yucca প্রভৃতি উদ্ভিদে।

ভাস্কুলার বান্ডল ।। ভাস্কুলার বান্ডলের জৈবিক গুরুত্ব বর্ণনা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। পানি ও খনিজ লবণ পরিবহনঃ জাইলেম টিস্যু মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ উদ্ভিদ দেহে পরিবহন করে। এই টিস্যু উদ্ভিদের সকল অঙ্গে পানি ও খনিজ লবণ পৌছে দেয়। ফলে বিভিন্ন অঙ্গে পানি ও খনিজ লবণের চাহিদা পূরণ হয়।

২। খাদ্য পরিবহনঃ ফ্লোয়েম টিস্যু পাতা থেকে খাদ্য উদ্ভিদ দেহে পরিবহন করে। এই টিস্যু উদ্ভিদের সকল অঙ্গে খাদ্য পৌছে দেয়। ফলে বিভিন্ন অঙ্গ খাদ্য সঞ্চয় করে এবং খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়।

৩। সালোকসংশ্লেষণঃ উদ্ভিদের সবুজ পাতা এবং কচি সবুজ কান্ডে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। সালোকসংশ্লেষণে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করে জাইলেম। আবার পাতায় উৎপন্ন খাদ্য পরিবহন করে ফ্লোয়েম। কাজেই সালোকসংশ্লেষণে জাইলেম ও ফ্লোয়েমের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

৪। প্রস্বেদনঃ প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে পানি বাষ্পাকারে নির্গত হয়। ফলে উদ্ভিদ দেহে পানি প্রবাহ সৃষ্টি হয়। জাইলেম পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।

৫। ইমবাইবিশনঃ ইমবাইবিশন হলো উদ্ভিদের পানি পরিশোষণ প্রক্রিয়া। ইমবাইবশন প্রক্রিয়ায় পানি পরিশোষণে জাইলেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৬। অভিস্রবণঃ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি বেশি ঘনত্ব এলাকা থেকে কম ঘনত্ব এলাকায় প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়ায় জাইলেমের অবদান রয়েছে।

৭। দৃঢ়তা দানঃ জাইলেম ও ফ্লোয়েম উদ্ভিদকে দৃঢ়তা দান করে। ফলে উদ্ভিদ যে কোন প্রতিকূলতায় টিকে থাকতে পারে।

৮। যান্ত্রিক শক্তি প্রদানঃ জাইলেম ও ফ্লোয়েম উদ্ভিদকে যান্ত্রিক শক্তি প্রদান করে। যান্ত্রিক শক্তি উদ্ভিদকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে।

৯। কাঠ গঠনঃ জাইলেম শব্দের অর্থ হলো কাঠ। জাইলেম উদ্ভিদদেহে কাঠ গঠন করে।

১০। আঁশ গঠনঃ ফ্লোয়েম শব্দের অর্থ হলো বাকল। ফ্লোয়েম উদ্ভিদদেহে আঁশ গঠন করে।

ভাস্কুলার বান্ডল । ভাস্কুলার বান্ডল আলোচনা ।। Vascular tissue system । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ভাস্কুলার বান্ডল আলোচনা (Vascular tissue system)
জাইলেম ও ফ্লোয়েম একত্রে যে টিস্যুতন্ত্র গঠন করে তাকে ভাস্কুলার বান্ডল বলে। যে টিস্যু উদ্ভিদ দেহে পানি, খনিজ লবণ এবং খাদ্য পরিবহন করে তাকে ভাস্কুলার বান্ডল বা পরিবহন টিস্যুতন্ত্র বলে। মূল ও কান্ডের যে অঞ্চলে ভাস্কুলার বান্ডল থাকে সে অঞ্চলকে স্টিলি (Stele) বলে। ভাস্কুলার টিস্যুতন্ত্র তিন প্রকার। ১। সংযুক্ত, ২। অরীয় এবং ৩। কেন্দ্রিক
১। সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডল ঃ যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে যুক্ত ভাবে অবস্থান করে তাকে সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডল বলে। সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সমপার্শ্বীয় এবং সমদ্বিপার্শ্বীয়।
(i) সমপার্শ্বীয় (Collateral)ঃ যে ভাস্কুলার বান্ডলে এক খন্ড জাইলেম এবং এক খন্ড ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধের উপর পাশাপাশি অবস্থান করে তাকে সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। উদ্ভিদের কান্ডে ফ্লোয়েম উপরের দিকে এবং জাইলেম নিচের দিকে থাকে। কিন্তু পাতায় জাইলেম উপরের দিকে এবং ফ্লোয়েম নিচের দিকে থাকে। ক্যাম্বিয়ামের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ভিত্তিতে সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মুক্ত সমপার্শ্বীয় ও বদ্ধ সমপার্শ্বীয়।
মুক্ত সমপার্শ্বীয় (Open Collateral)ঃ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডলের জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম নামক ভাজক টিস্যু থাকলে তাকে মুক্ত সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ (কুমড়া ব্যতীত) এবং নগ্নবীজী উদ্ভিদের কান্ডে ইহা উপস্থিত। ইহা সাইকাস, নিটাম, সূর্যমুখী, শ্বেতদ্রোণ, রক্তদ্রোণ প্রভৃতি উদ্ভিদে বিদ্যমান।
বদ্ধ সমপার্শ্বীয় (Closed Collateral)ঃ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডলের জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম নামক ভাজক টিস্যু না থাকলে তাকে বদ্ধ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। যেমন- একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ড (ভূট্রা, কচু)।
(ii) সমদ্বিপার্শ্বীয় (Bicollateral)ঃ যে সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডলের মাঝখানে জাইলেম এবং তার উভয় পাশে ফ্লোয়েম থাকে তাকে সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। এই ভাস্কুলার বান্ডলের মাঝখানে জাইলেম এবং তার বাইরের দিকে বহিঃক্যাম্বিয়াম ও ভিতরের দিকে অন্তঃক্যাম্বিয়াম থাকে। অনুরুপভাবে, বহিঃক্যাম্বিয়ামের বাইরে বহিঃফ্লোয়েম এবং অন্তঃক্যাম্বিয়ামের ভিতরে অন্তঃফ্লোয়েম থাকে। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে সমদ্বিপাশর্^ীয় ভাস্কুলার বান্ডল থাকে। যেমন- লাউ, কুমড়া, শশা প্রভৃতি।
২। অরীয় (Radial)ঃ যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম একসাথে অবস্থান না করে পৃথক পৃথক ভাবে ভিন্ন ভিন্ন বান্ডল গঠন করে তাকে অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। উদ্ভিদের মূলে অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল থাকে। জাইলেম অথবা ফ্লোয়েম বান্ডলের সংখ্যা একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে পাঁচ এর বেশি থাকে এবং দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে পাঁচ এর কম থাকে।
৩। কেন্দ্রিক (Centric) ঃ যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং ফ্লোয়েম তাকে বেষ্টন করে রাখে অথবা ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকে এবং জাইলেম তাকে বেষ্টন করে রাখে তাকে কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বান্ডল বলে। ইহা দুই ধরনের।
(i) জাইলেম কেন্দ্রিক (Hadrocentric)ঃ যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং ফ্লোয়েম তাকে বেষ্টন করে রাখে তাকে হ্যাড্রোসেন্ট্রিক বা অ্যাম্ফিক্রিবাল বলে। যেমন- Lycopodium, Selaginella, Pteris, Psilotum প্রভৃতি।
(ii) ফ্লোয়েম কেন্দ্রিক (Leptocentric)ঃ যে ভাস্কুলার বান্ডলে ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকে এবং জাইলেম তাকে বেষ্টন করে রাখে তাকে লেপ্টোসেন্ট্রিক বা অ্যাম্ফিভেসাল বলে। যেমন- ড্রাসিনা (Dracaena), Yucca প্রভৃতি।
কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বান্ডলের কাজঃ জাইলেম পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে। ফ্লোয়েম খাদ্য পরিবহন করে। ইহা উদ্ভিদকে দৃঢ়তা দান করে। উদ্ভিদকে যান্ত্রিক শক্তি প্রদান করে।

কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বান্ডল কী ।। Centric কী

যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং ফ্লোয়েম তাকে বেষ্টন করে রাখে অথবা ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকে এবং জাইলেম তাকে বেষ্টন করে রাখে তাকে কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বান্ডল বলে। ইহা দুই ধরনের।
(i) জাইলেম কেন্দ্রিক (Hadrocentric)ঃ যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং ফ্লোয়েম তাকে বেষ্টন করে রাখে তাকে হ্যাড্রোসেন্ট্রিক বা অ্যাম্ফিক্রিবাল বলে। যেমন- Lycopodium, Selaginella, Pteris, Psilotum প্রভৃতি।
(ii) ফ্লোয়েম কেন্দ্রিক (Leptocentric) যে ভাস্কুলার বান্ডলে ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকে এবং জাইলেম তাকে বেষ্টন করে রাখে তাকে লেপ্টোসেন্ট্রিক বা অ্যাম্ফিভেসাল বলে। যেমন- ড্রাসিনা (Dracaena), Yucca প্রভৃতি।
কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বান্ডলের কাজঃ জাইলেম পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে। ফ্লোয়েম খাদ্য পরিবহন করে। ইহা উদ্ভিদকে দৃঢ়তা দান করে। উদ্ভিদকে যান্ত্রিক শক্তি প্রদান করে।

অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল কী ।। Radial কী

যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম একসাথে অবস্থান না করে পৃথক পৃথক ভাবে ভিন্ন ভিন্ন বান্ডল গঠন করে তাকে অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। উদ্ভিদের মূলে অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল থাকে। জাইলেম অথবা ফ্লোয়েম বান্ডলের সংখ্যা একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে পাঁচ এর বেশি থাকে এবং দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে পাঁচ এর কম থাকে।

সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল কী ।। Bicollateral কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডলের মাঝখানে জাইলেম এবং তার উভয় পাশে ফ্লোয়েম থাকে তাকে সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। এই ভাস্কুলার বান্ডলের মাঝখানে জাইলেম এবং তার বাইরের দিকে বহিঃক্যাম্বিয়াম ও ভিতরের দিকে অন্তঃক্যাম্বিয়াম থাকে। অনুরুপভাবে, বহিঃক্যাম্বিয়ামের বাইরে বহিঃফ্লোয়েম এবং অন্তঃক্যাম্বিয়ামের ভিতরে অন্তঃফ্লোয়েম থাকে। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল থাকে। যেমন- লাউ, কুমড়া, শশা প্রভৃতি।

সমপার্শ্বীয় কী ।। Collateral কী

যে ভাস্কুলার বান্ডলে এক খন্ড জাইলেম এবং এক খন্ড ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধের উপর পাশাপাশি অবস্থান করে তাকে সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। উদ্ভিদের কান্ডে ফ্লোয়েম উপরের দিকে এবং জাইলেম নিচের দিকে থাকে। কিন্তু পাতায় জাইলেম উপরের দিকে এবং ফ্লোয়েম নিচের দিকে থাকে। ক্যাম্বিয়ামের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ভিত্তিতে সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মুক্ত সমপার্শ্বীয় ও বদ্ধ সমপার্শ্বীয়।
মুক্ত সমপার্শ্বীয় (Open Collateral)ঃ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডলের জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম নামক ভাজক টিস্যু থাকলে তাকে মুক্ত সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ (কুমড়া ব্যতীত) এবং নগ্নবীজী উদ্ভিদের কান্ডে ইহা উপস্থিত। ইহা সাইকাস, নিটাম, সূর্যমুখী, শ্বেতদ্রোণ, রক্তদ্রোণ প্রভৃতি উদ্ভিদে বিদ্যমান।
বদ্ধ সমপার্শ্বীয় (Closed Collateral)ঃ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডলের জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম নামক ভাজক টিস্যু না থাকলে তাকে বদ্ধ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। যেমন- একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ড (ভূট্রা, কচু)।