ভাজক টিস্যু । প্রোটোডার্ম কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের ত্বক সৃষ্টি করে তাকে প্রোটোডার্ম বলে। এই টিস্যুর কোষগুলো অরীয় বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের ত্বক গঠন করে (ব্যতিক্রম বট, রাবার)। ইহা মূলের এপিব্লেমা গঠন করে।

ভাজক টিস্যু ।। অবস্থান অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

বিজ্ঞানী হ্যাবারল্যান্ড (১৯১৪) অবস্থান অনুসারে ভাজক টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন।

(i) শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যুঃ যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের মূল কান্ডের শীর্ষদেশে অবস্থান করে তাকে শীর্ষস্থ বা অ্যাপিক্যাল ভাজক টিস্যু বলে। এরা হলো প্রাইমারী ভাজক টিস্যু। ইহা বিভাজিত হয়ে উদ্ভিদকে দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি ঘটায়। তাই শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যুকে  growing point বা বর্ধিঞ্চু তীক্ষাগ্ন বলে।

(ii) পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যুঃ যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের মূল কান্ডের পার্শ্ব বরাবর লম্বালম্বি ভাবে অবস্থান করে তাকে পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু বলে। ইহা সেকেন্ডরী বৃদ্ধি ঘটায়। এতে উদ্ভিদের বেড় বা প্রস্থ বৃদ্ধি পায়। যেমনকর্ক ক্যাম্বিয়াম, ইন্টারফেসিকুলার ক্যাম্বিয়াম ইত্যাদি।

(iii) নিবেশিত ভাজক টিস্যুঃ যে ভাজক টিস্যু দুইটি স্থায়ী টিস্যুর মাঝখানে অবস্থান করে তাকে ইন্টারক্যালারী ভাজক টিস্যু বলে। এরা প্রাইমারী ভাজক টিস্যু। ইহা উদ্ভিদের পত্রমূলপর্বমধ্য, পর্বসন্ধি ফুলের বোটায় থাকে। ধান, গম, বাঁশ, ঘাস উদ্ভিদ, হর্সটেইল (ইকুইজিটাম), পাইন প্রভৃতি উদ্ভিদে থাকে।

ভাজক টিস্যু ।। নিবেশিত ভাজক টিস্যু ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে ভাজক টিস্যু দুইটি স্থায়ী টিস্যুর মাঝখানে অবস্থান করে তাকে ইন্টারক্যালারী ভাজক টিস্যু বলে। এরা প্রাইমারী ভাজক টিস্যু। ইহা উদ্ভিদের পত্রমূল,  পর্বমধ্য, পর্বসন্ধি ও ফুলের বোটায় থাকে। ধান, গম, বাঁশ, ঘাস উদ্ভিদ, হর্সটেইল (ইকুইজিটাম), পাইন প্রভৃতি উদ্ভিদে থাকে।

ভাজক টিস্যু । পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের মূল ও কান্ডের পার্শ্ব বরাবর লম্বালম্বি ভাবে অবস্থান করে তাকে পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু বলে। ইহা সেকেন্ডরী বৃদ্ধি ঘটায়। এতে উদ্ভিদের বেড় বা প্রস্থ বৃদ্ধি পায়। যেমন- কর্ক ক্যাম্বিয়াম, ইন্টারফেসিকুলার ক্যাম্বিয়াম ইত্যাদি।

ভাজক টিস্যু ।। শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু কী ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের মূল ও কান্ডের শীর্ষদেশে অবস্থান করে তাকে শীর্ষস্থ বা অ্যাপিক্যাল ভাজক টিস্যু বলে। এরা হলো প্রাইমারী ভাজক টিস্যু। ইহা বিভাজিত হয়ে উদ্ভিদকে দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি ঘটায়। তাই শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যুকে growing point বা বর্ধিঞ্চু তীক্ষাগ্ন বলে।

ভাজক টিস্যু ।। কোষ বিভাজন অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

কোষ বিভাজন অনুসারে ভাজক টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
(i) রিব ভাজক টিস্যুঃ যে ভাজক টিস্যু একটি তলে বিভাজিত হয় তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলে। ইহা বুকের পাঁজরের মতো দেখায় বলে রিব ভাজক টিস্যু বলা হয়। যেমন- মজ্জারশ্মি।
(ii) প্লেট ভাজক টিস্যুঃ যে ভাজক টিস্যু দুইটি তলে বিভাজিত হয় তাকে প্লেট ভাজক টিস্যু বলে। কোষগুলো একস্তরবিশিষ্ট এবং প্লেটের মতো মনে হয় বলে প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। প্লেট ভাজক টিস্যুর বিভাজনের ফলে চ্যাপ্টা, প্রসারিত, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বৃদ্ধি প্রাপ্ত উদ্ভিদ অঙ্গের সৃষ্টি হয়। ইহা উদ্ভিদ অঙ্গের আয়তন ও ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি ঘটায়। যেমন- বর্ধিঞ্চু বহিঃত্বক, পাতা প্রভৃতি।
(iii) মাস ভাজক টিস্যুঃ যে ভাজক টিস্যু সব তলে বিভাজিত হয় তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলে। ইহা অনিয়তভাবে বিন্যস্ত হয়ে ঈবষষ রংষধহফ বা কোষপুঞ্জ গঠন করে। ইহা উদ্ভিদ অঙ্গের ভলিউম বা ঘনত্ব বৃদ্ধি ঘটায়। যেমন- ভ্রুণ, রেণুথলী, এন্ডোস্পার্ম, কর্টেক্স, মজ্জা ইত্যাদি।

ভাজক টিস্যু ।। মাস ভাজক টিস্যু কী ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে ভাজক টিস্যু সব তলে বিভাজিত হয় তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলে। ইহা অনিয়তভাবে বিন্যস্ত হয়ে ঈবষষ রংষধহফ বা কোষপুঞ্জ গঠন করে। ইহা উদ্ভিদ অঙ্গের ভলিউম বা ঘনত্ব বৃদ্ধি ঘটায়। যেমন- ভ্রুণ, রেণুথলী, এন্ডোস্পার্ম, কর্টেক্স, মজ্জা ইত্যাদি।

ভাজক টিস্যু ।। প্লেট ভাজক টিস্যু কী ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে ভাজক টিস্যু দুইটি তলে বিভাজিত হয় তাকে প্লেট ভাজক টিস্যু বলে। কোষগুলো একস্তরবিশিষ্ট এবং প্লেটের মতো মনে হয় বলে প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। প্লেট ভাজক টিস্যুর বিভাজনের ফলে চ্যাপ্টা, প্রসারিত, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বৃদ্ধি প্রাপ্ত উদ্ভিদ অঙ্গের সৃষ্টি হয়। ইহা উদ্ভিদ অঙ্গের আয়তন ও ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি ঘটায়। যেমন- বর্ধিঞ্চু বহিঃত্বক, পাতা প্রভৃতি।

ভাজক টিস্যু ।। রিব ভাজক টিস্যু কী ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে ভাজক টিস্যু একটি তলে বিভাজিত হয় তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলে। ইহা বুকের পাঁজরের মতো দেখায় বলে রিব ভাজক টিস্যু বলা হয়। যেমন- মজ্জারশ্মি।

ভাজক টিস্যু । উৎপত্তি অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

উৎপত্তি অনুসারে ভাজক টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
(i) প্রারম্ভিক ভাজক টিস্যুঃ যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের মূল ও কান্ডের শীর্ষদেশের অঞ্চল থেকে উৎপত্তি লাভ করে তাকে প্রোমেরিস্টেম বা আদি ভাজক টিস্যু বলে। ইহা উদ্ভিদের মূল ও কান্ডের শীর্ষদেশে অবস্থান করে। এ টিস্যুর কোষগুলো ছোট, অপরিনত, কোষগহŸরবিহীন এবং কোষপ্রাচীর পাতলা। এ অঞ্চল থেকে উদ্ভিদের প্রথম বৃদ্ধি শুরু হয়। ইহা বিভিন্ন তলে বিভাজিত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গ গঠন করে।
(ii) প্রাইমারী ভাজক টিস্যুঃ যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের ভ্রুণাবস্থায় উৎপত্তি লাভ করে তাকে প্রাইমারী ভাজক টিস্যু বলে। ইহা প্রারম্ভিক ভাজক টিস্যু থেকে সৃষ্টি হয়। এ টিস্যু আমৃত্যু বিভাজনক্ষম। ইহা মূল, কান্ড ও শাখার অগ্রভাগে, পর্বমধ্যে এবং কান্ডের পরিধিতে অবস্থান করে। ইহা কখনো স্থায়ী টিস্যুতে পরিনত হয় না। ইহা উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটায়। যেমন- ফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম।
(iii) সেকেন্ডারী ভাজক টিস্যুঃ যে ভাজক টিস্যু স্থায়ী টিস্যু থেকে উৎপত্তি লাভ করে তাকে সেকেন্ডারী ভাজক টিস্যু বলে। এই টিস্যু ফেলোজেন বা কর্ক ক্যাম্বিয়ামে, পর্বমধ্যে, জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে, দুটি ভাস্কুলার বান্ডলের মাঝে এবং কর্টেক্সে অবস্থান করে। সেকেন্ডারী ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের স্থুলত্বে বৃদ্ধি ঘটায়। উদ্ভিদের ক্ষতস্থান পূরণ করে। যেমন- কর্ক ক্যাম্বিয়াম, ইন্টারফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম প্রভৃতি।