প্যারেনকাইমা কী ।। প্যারেনকাইমা টিস্যুর কাজ কী ।। Parenchyma ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব টিস্যুর কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা প্রায় একই রকম তাকে প্যারেনকাইমা বলে। কোষগুলো সমব্যাসীয় এবং গোলাকার, ডিম্বাকার, বহুভ‚জাকার বা লম্বাকার। আন্তঃকোষীয় ফাঁক বিদ্যমান। কান্ড ও মূলের ত্বক, কর্টেক্স, মজ্জা, মজ্জারশ্মি, পরিচক্র, পাতার মেসোফিল, ফলের শাঁস, সস্য ও ভ্রুণ প্রভৃতি প্যারেনকাইমা টিস্যু দ্বারা গঠিত।
প্যারেনকাইমা টিস্যুর কাজ
(i) ক্লোরোফিলযুক্ত প্যারেনকাইমা (ক্লোরেনকাইমা) সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করে।
(ii) জলজ উদ্ভিদের প্যারেনকাইমা বায়ু জমা (অ্যারেনকাইমা) রাখে এবং উদ্ভিদকে ভাসতে সাহায্য করে।
(iii) ভ‚নিম্নস্থ কান্ড, মূল, ফল ও বীজে শর্করা, প্রোটিন ওস্নেহজাতীয় খাদ্য জমা থাকে।
(iv) উদ্ভিদের ক্ষত নিরাময় এবং পুনরুৎপাদনে সাহায্য করে।
(v) পাতা ও কান্ডের দৃঢ়তা প্রদান করে।
(vi) রসস্ফীতিজনিত চাপের মাধ্যমে বীরুৎ উদ্ভিদকে সোজা করে রাখে।
(vii) অস্থানিক মূল ও মুকুল বংশবিস্তার করে।
(viii) জাইলেম ও ফ্লোয়েমযুক্ত টিস্যু পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে।

স্থায়ী টিস্যু ।। স্থায়ী টিস্যুর বৈশিষ্ট্য কী কী ।। Permanent tissue ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম এবং উদ্ভিদের স্থায়ী অঞ্চলে থাকে।
২। কোষের সাইটোপ্লাজম পাতলা।
৩। কোষের নিউক্লিয়াস অপেক্ষাকৃত ছোট।
৪। কোষগুলো জীবিত বা মৃত এবং অসমব্যাসী।
৫। কোষগুলো অনিয়ত আকৃতির।
৬। এদের কোষে কোষগহ্বর থাকে।
৭। এদের আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকে।
৮। কোষ গুলোর বিপাকীয় হার কম।
৯। কোষে নানা নকশা দেখা যায়।
১০। এদের কোষপ্রাচীর পুরু এবং লিগনিন ও পেকটিন নির্মিত।

স্থায়ী টিস্যু ।। স্থায়ী টিস্যু কী ।। Permanent tissue

যে টিস্যুর কোষ গুলো বিভাজনে অক্ষম তাকে স্থায়ী টিস্যু বলে। ভাজক টিস্যুর বিভাজন ক্ষমতা স্থগিত হলে স্থায়ী টিস্যুতে পরিনত হয়। যেমন- জাইলেম, ফ্লোয়েম ইত্যাদি।

ভাজক টিস্যু ।। উদ্ভিদের বিকাশে ভাজক টিস্যুর ভূমিকা ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। জাইগোটের বিকাশঃ ভাজক টিস্যু বিভাজিত হয়ে শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু সৃষ্টি করে। শুক্রাণু ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট এক ধরনের ভাজক টিস্যু এবং ইহা জীব সৃষ্টির প্রথম কোষ।

২। ভ্রুণের বিকাশঃ জাইগোট বার বার বিভাজিত হয়ে বহুকোষী ভ্রুণ গঠন করে। ভ্রুণ হলো ভাজক টিস্যু এবং বিভাজনক্ষম কোষ দ্বারা গঠিত। ইহা জীবের দেহ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়।

৩। চারার বিকাশঃ ভ্রুণ বার বার বিভাজিত হয়ে চারা উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। চারা উদ্ভিদে মূল, কান্ড পাতা থাকে।

৪। পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদের বিকাশঃ চারা উদ্ভিদের মূল, কান্ড পাতার ভাজক টিস্যু বার বার বিভাজিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ গঠন করে। পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদের ভাজক টিস্যু বিভাজিত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গ গঠন করে।

ভাজক টিস্যু । উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে ভাজক টিস্যুর ভূমিকা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিঃ শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটায়। এতে উদ্ভিদের দৈহিক বৃদ্ধি এবং উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।

২। ব্যাস বৃদ্ধিঃ পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু বিভাজনের মাধ্যমে দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের ব্যাস বৃদ্ধি করে। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ মোটা হয় এবং যান্ত্রিক শক্তি পায়।

৩। অঙ্গের বৃদ্ধিঃ ভাজক টিস্যু বিভাজিত হয়ে অঙ্গের বৃদ্ধি ঘটায়। ফলে উদ্ভিদের শাখাপ্রশাখা, পাতা, ফুল ফলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

৪। ক্ষত পূরণঃ উদ্ভিদের কোন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হলে ভাজক টিস্যু বিভাজিত হয়ে ক্ষতস্থান পূরণ করে।

৫। স্থায়ী টিস্যু সৃষ্টিঃ ভাজক টিস্যু থেকে স্থায়ী টিস্যু সৃষ্টি হয়। ভাজক টিস্যু বিভাজন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং স্থায়ী টিস্যুতে পরিনত হয়।

৬। বিপাক ক্রিয়াঃ ভাজক টিস্যু উদ্ভিদ দেহে বিপাক ক্রিয়া ঘটায়। যে উদ্ভিদে ভাজক টিস্যুর পরিমাণ বেশি সে উদ্ভিদের বিপাক হারও বেশি। ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।

৭। ফসলের ফলন বৃদ্ধিঃ ফসলী উদ্ভিদে ভাজক টিস্যু বিভাজিত হয়ে ফুল ফল সৃষ্টি করে। এই টিস্যু বিভাজিত হয়ে ফল বীজের আকার বৃদ্ধি করে। কারণে ফসলের ফলন বৃদ্ধি পায়।

ভাজক টিস্যু ।। ভাজক টিস্যুর কাজ ।। Function of Meristem ।। ড. সিদ্দিক পাবলিশেন্স

১। প্রারম্ভিক ভাজক টিস্যুঃ প্রারম্ভিক ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের মূল ও কান্ডের শীর্ষদেশের অঞ্চল থেকে উৎপত্তি লাভ করে। ইহা মূল ও কান্ডের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে।

২। প্রাইমারী ভাজক টিস্যুঃ প্রাইমারী ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের ভ্রুণাবস্থায় উৎপত্তি লাভ করে। ইহা আমৃত্যু বিভাজনক্ষম। ইহা মূল, কান্ড ও শাখার অগ্রভাগে অবস্থান করে এবং উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটায়।

৩। সেকেন্ডারী ভাজক টিস্যুঃ সেকেন্ডরী ভাজক টিস্যু স্থায়ী টিস্যু হতে উৎপত্তি লাভ করে। ইহা উদ্ভিদের গৌণ বৃদ্ধি ঘটায়।

৪। রিব ভাজক টিস্যুঃ রিব ভাজক টিস্যু একটি তলে বিভাজিত হয়। ইহা উদ্ভিদের মজ্জারশ্মি গঠন করে।

৫। প্লেট ভাজক টিস্যুঃ প্লেট ভাজক টিস্যু দুইটি তলে বিভাজিত হয়। ইহা বর্ধিঞ্চু বহিঃত্বক ও পাতা গঠন করে।

৬। মাস ভাজক টিস্যুঃ মাস ভাজক টিস্যু সব তলে বিভাজিত হয়। ইহা অনিয়তভাবে বিন্যস্ত হয়ে ঈবষষ রংষধহফ বা কোষপুঞ্জ গঠন করে। ইহা ভ্রæণ, রেণুথলী, এন্ডোস্পার্ম, কর্টেক্স, মজ্জা ইত্যাদি সৃষ্টি করে।

৭। শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যুঃ শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের মূল ও কান্ডের শীর্ষদেশে অবস্থান করে। ইহা বিভাজিত হয়ে উদ্ভিদকে দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি ঘটায়।

৮। পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যুঃ পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের মূল ও কান্ডের পার্শ্ব বরাবর লম্বালম্বি ভাবে অবস্থান করে। ইহা সেকেন্ডরী বৃদ্ধি ঘটায়। এতে উদ্ভিদের বেড় বা প্রস্থ বৃদ্ধি পায়।

৯। নিবেশিত ভাজক টিস্যুঃ নিবেশিত ভাজক টিস্যু দুইটি স্থায়ী টিস্যুর মাঝখানে অবস্থান করে। ইহা উদ্ভিদের পত্রমূল, পর্বমধ্য, পর্বসন্ধি ও ফুলের বোটা গঠন করে।

১০। প্রোটোডার্মঃ প্রোটোডার্ম উদ্ভিদের এপিডার্মিস ও এপিবেøমা গঠন করে।

১১। প্রোক্যাম্বিয়ামঃ প্রোক্যাম্বিয়াম উদ্ভিদের জাইলেম, ফ্লোয়েম ও ক্যাম্বিয়াম গঠন করে। ইহা পরিবহন টিস্যু বা ভাস্কুলার বান্ডল সৃষ্টি করে। অনেক উদ্ভিদে ইহা পরিচক্র বা পেরিসাইকল গঠন করে।

১২। ভিত্তি ভাজক টিস্যুঃ ভিত্তি ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের কর্টেক্স, মজ্জা ও মজ্জারশ্মি সৃষ্টি করে।

ক্যাম্বিয়াম । ক্যাম্বিয়াম টিস্যুর কাজ । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। ক্যাম্বিয়াম কর্ক টিস্যু সৃষ্টি করে।

২। ইহা সেকেন্ডারী জাইলেম ও সেকেন্ডারী ফ্লোয়েম সৃষ্টি করে।

৩। ইহা সেকেন্ডারী কর্টেক্স সৃষ্টি করে।

৪। সেকেন্ডারী মজ্জারশ্মি সৃষ্টি হয় ক্যাম্বিয়াম থেকে।

৫। কমপ্লিমেন্টারী কোষ এবং লেন্টিসেল সৃষ্টিতে ক্যাম্বিয়ামের ভূমিকা রয়েছে।

৬। ক্যাম্বিয়ামের কার্যকারীতায় উদ্ভিদ দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে বৃদ্ধি পায়।

ক্যাম্বিয়াম । ক্যাম্বিয়াম কী । Cambium কী

ক্যাম্বিয়াম হলো একধরনের ভাজক টিস্যু। জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে যে ক্যাম্বিয়াম থাকে তাকে ফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম বলে। ভাস্কুলার বান্ডলের মাঝখানে যে ক্যাম্বিয়াম সৃষ্টি হয় তাকে ইন্টারফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম বলে। কর্টেক্স থেকে যে সেকেন্ডারী ক্যাম্বিয়াম সৃষ্টি হয় তাকে কর্ক ক্যাম্বিয়াম বলে।

ভাজক টিস্যু ।। কাজ অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

বিজ্ঞানী হ্যাবারল্যান্ড (১৯১৪) কাজ অনুসারে ভাজক টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন।
(i) প্রোটোডার্মঃ যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের ত্বক সৃষ্টি করে তাকে প্রোটোডার্ম বলে। এই টিস্যুর কোষগুলো অরীয় বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের ত্বক গঠন করে (ব্যতিক্রম বট, রাবার)। ইহা মূলের এপিবেøমা গঠন করে।
(ii) প্রোক্যাম্বিয়ামঃ যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের জাইলেম, ফ্লোয়েম ও ক্যাম্বিয়াম গঠন করে তাকে প্রোক্যাম্বিয়াম বলে। ইহা একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে বিক্ষিপ্তভাবে এবং দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে বলয় আকারে অবস্থান করে। ইহা পরিবহন টিস্যু বা ভাস্কুলার বান্ডল সৃষ্টি করে। অনেক উদ্ভিদে ইহা পরিচক্র বা পেরিসাইকল গঠন করে।
(iii) ভিত্তি ভাজক টিস্যুঃ যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের কর্টেক্স, পরিচক্র, মজ্জা ও মজ্জারশ্মি সৃষ্টি করে তাকে গ্রাউন্ড মেরিস্টেম বলে।

ভাজক টিস্যু ।। প্রোক্যাম্বিয়াম কী ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের জাইলেম, ফ্লোয়েম ও ক্যাম্বিয়াম গঠন করে তাকে প্রোক্যাম্বিয়াম বলে। ইহা একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে বিক্ষিপ্তভাবে এবং দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে বলয় আকারে অবস্থান করে। ইহা পরিবহন টিস্যু বা ভাস্কুলার বান্ডল সৃষ্টি করে। অনেক উদ্ভিদে ইহা পরিচক্র বা পেরিসাইকল গঠন করে।