মালভেসী গোত্র ।। মালভেসী গোত্রের অর্থনৈতিক উদ্ভিদ ।। Malvaceae ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। জবা (Hibiscus rosa-sinensis)ঃ ফুলের জন্য জবা বাগানে লাগানো হয়। জবা ফুলের রস মাথা ঠান্ডা রাখে, চুল কালো ও লম্বা করে, চুল পড়া বন্ধ করে, চুল উজ্জ্বল করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। জবা ফুলের কলি কিছুদিন ধরে সকালে খেলে শরীর সুস্থ হয়ে যায়। ইহা কুসুম তেলের উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়। ইহা রক্ত আমাশয় ও অর্শরোগের ভাল ওষুধ। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
২। ঢেড়স (Abelmoschus esculentus)ঃ ঢেড়স প্রধানত সবজি হিসেবে ব্যবহার হয়। ঢেড়স দিয়ে স্যুপ তৈরী করা যায়। কচি ঢেড়সে লৌহ থাকে বলে নিয়মিত খেলে শারীরিক দুর্বলতা দূর হয়। ইহা ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগের উপকারী উপাদান। এর গাছ থেকে ভাল আঁশ পাওয়া যায়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৩। কার্পাস (Gossypium herbaceum)ঃ কার্পাসের বীজত্বক থেকে তুলা পাওয়া যায়। তুলা জীবাণু মুক্তকরণ এবং শৈল্য চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। তুলা দিয়ে সুতা, লেপ ও তোষক তৈরী করা হয়। সুতা দিয়ে কাপড় তৈরী করা হয়। তুলা বীজ থেকে ভোজ্য তেল পাওয়া যায়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৪। স্থলপদ্ম (Hibiscus mutabilis)ঃ এই উদ্ভিদের ফুল বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৫। কেনাফ মেস্তাপাট (Hibiscus cannabinus)ঃ কেনাফ মেস্তাপাটের বাকল থেকে আঁশ পাওয়া যায়। আঁশ দিয়ে দড়ি, শিকা, ব্যাগ, বস্তা প্রভৃতি তৈরী করা হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৬। মেস্তাপাট (Hibiscus sabdariffa)ঃ মেস্তাপাটের বাকল থেকে আঁশ পাওয়া যায়। আঁশ দিয়ে দড়ি, শিকা, ব্যাগ, বস্তা প্রভৃতি তৈরী করা হয়।
৭। মরিচ ফুল (Malvaviscus arboreus)ঃ মরিচ ফুল লঙ্কা জবা নামে পরিচিত। ইহা শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে জন্মানো হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৮। ইন্ডিয়ান টিউলিপ (Thespesia populnea)ঃ ইন্ডিয়ান টিউলিপ পরশ পিপুল বা ‘পোরশিয়া ট্রি (Portia tree) নামে পরিচিত। এর কাঠ থেকে কৃষিকাজের উপকরণ, শিক্ষা উপকরণ (পেন্সিল) এবং বিভিন্ন ধরনের খেলনা তৈরী করা হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৯। বন ওকড়া (Urena lobata)ঃ এই উদ্ভিদের পাতা ও ফুল ঐতিহ্যগত ভাবে ওষুধি হিসেবে ব্যবহার হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

মালভেসী গোত্রের আরো কয়েকটি উদ্ভিদঃ ভোলা (Hibiscus tiliaceus), লন্ঠন/ঝুমকা জবা (Hibiscus schizopetatus), নাপাশাক (Malva verticilata), বড়েলা (Sida cordifolia), হলিহক (Alcea rosea) প্রভৃতি। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

মালভেসী গোত্র ।। মালভেসী গোত্রের সাধারণ বৈশিষ্ট্য ।। Malvaceae ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। স্বরুপ (Habit) উদ্ভিদ বীরুৎ, গুল্ম বা বৃক্ষ। কচি অংশ পিচ্ছিল পদার্থ যুক্ত। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

২। মূল (Root) প্রধান মূলতন্ত্র। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

৩। কান্ড (Stem) কান্ড কাষ্ঠাল, শাখান্বিত এবং বেলনাকার।

৪। পাতা (Leaves) পাতা সরল, একান্তর, জালিকা শিরাবিন্যাস যুক্ত এবং মুক্ত পার্শ্বীয় উপপত্র বিদ্যমান। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

৫। পুষ্পবিন্যাস (Inflorescence) একক (সাইমোস)

৬। পুষ্প (Flower) পুষ্প একক, বৃহৎ, পূর্ণাঙ্গ, সমাঙ্গ, উভয়লিঙ্গ এবং গর্ভপাদী। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

৭। উপবৃতিঃ উপবৃত্যংশ ১০টি, মুক্ত বা যুক্ত। (Sida, Abutilon উপবৃতি নাই)। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

৮। বৃতিঃ বৃত্যংশ ৫টি, মুক্ত বা যুক্ত এবং ভালভেট।

৯। দলমন্ডলঃ পাপড়ি ৫টি, মুক্ত, পুংকেশরী নালির সাথে যুক্ত এবং টুইস্টেড। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

১০। পুংস্তবক (Androecium) পুংকেশর অসংখ্য, একগুচ্ছক এবং দললগ্ন। পরাগধানী একপ্রকোষ্ঠী এবং বৃক্কাকার। পরাগরেণু বৃহৎ কন্টকিত।

১১। স্ত্রীস্তবক (Gynoecium) গর্ভাশয় অধিগর্ভ, প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট, গর্ভপত্র ১০টি এবং যুক্ত। গর্ভমুন্ডের সংখ্যা গর্ভদন্ডের সমান বা দ্বিগুণ। Abutilon গণে গর্ভপত্র ১৫২০টি এবং Malva গণের গর্ভপত্র অনেক। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

১২। অমরাবিন্যাস (Placentation) অক্ষীয়।

১৩। ফল (Fruit) ক্যাপসিউল। কখনো বেরী বা সাইজোকার্প।

১৪। বীজ (Seed) বীজ রোমশ, সস্যল, তৈলাক্ত এবং বৃক্কাকার।

মালভেসী গোত্র ।। মালভেসী গোত্রের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য ।। Malvaceae ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। উদ্ভিদের কচি অংশ রোমশ ও মিউসিলেজ (পিচ্ছিল পদার্থ) যুক্ত।
২। মুক্তপার্শ্বীয় উপপত্র বিদ্যমান। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৩। পুষ্প একক, বৃহৎ এবং উপপত্রযুক্ত। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৪। বৃত্যংশ ৫টি, যুক্ত এবং ভালভেট। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৫। পাপড়ি ৫টি, মুক্ত এবং টুয়েস্টেড। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৬। পুংকেশর অসংখ্য, একগুচ্ছক এবং দললগ্ন।
৭। পরাগধানী একপ্রকোষ্ঠী ও বৃক্কাকার। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৮। পরাগরেণু বৃহৎ এবং কন্টকিত। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৯। গর্ভাশয় অধিগর্ভ, ৫ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট, গর্ভপত্র ৫টি এবং যুক্ত।
১০। অমরাবিন্যাস অক্ষীয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
১১। ফল ক্যাপসিউল বা বেরী। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

মালভেসী ।। মালভেসী গোত্র ।। Malvaceae।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পৃথিবীতে দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের গোত্রের মধ্যে Winteraceae প্রথম গোত্র এবং Asteraceae হলো সর্বশেষ গোত্র। Malvaceae হলো ১০২তম গোত্র। এই গোত্রে ৮৫টি গণ এবং ১০০০-১৫০০টি প্রজাতি রয়েছে। মালভেসী গোত্রের সবচেয়ে বড় গণ হলো Hibiscus (১৫টি প্রজাতি)। বাংলাদেশে Malvaceae গোত্রের ১৪টি গণ এবং ৪২টি প্রজাতি জন্মে।

দ্বিতীয় গোত্র ।। দ্বিবীজপত্রী গোত্রের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। এদের বীজে দুইটি বীজপত্র থাকে।

২। পাতা বিষমপৃষ্ঠ প্রকৃতির এবং শিরাবিন্যাস জালিকাকার।

৩। পুষ্প টেট্রামেরাস বা পেন্টামেরাস।

৪। মূল প্রধানমূল।

৫। বীজে বীজপত্রের অবস্থান পার্শ্বীয় এবং ভ্রুণমুকুল শীর্ষ।

৬। বীজত্বক ফলত্বক পৃথক থাকে।

৭। পাতার কক্ষে কাক্ষিক মুকুল এবং পত্রমূলে উপপত্র থাকে।

৮। কান্ডের ভাস্কুলার বান্ডল বলয়াকারে অবস্থান করে।

৯। ক্যাম্বিয়াম টিস্যু উপস্থিত এবং সেকেন্ডারী বা গৌণ বৃদ্ধি ঘটে।

১০। পরাগরেণু ট্রাইকলপেট (তিনটি খাঁজযুক্ত)

দ্বিতীয় গোত্র ।। দ্বিবীজপত্রী গোত্র পরিচিতি । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব আবৃতবীজী উদ্ভিদের বীজে দুইটি বীজপত্র থাকে তাকে দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের গোত্রকে দ্বিবীজপত্রী গোত্র বলে। . আর্থার ক্রনকুইস্ট (১৯৮১) সকল আবৃতবীজী উদ্ভিদকে ৩৮০টি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এর মধ্যে দ্বিবীজপত্রী গোত্রের সংখ্যা ৩১৫টি। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের প্রথম গোত্র Winteraceae, ১০২তম গোত্র Malvaceae এবং সর্বশেষ ৩১৫তম গোত্র Asteraceae

পোয়েসী গোত্র ।। শিল্প মূল্যায়নে পোয়েসী গোত্রের ভূমিকা ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। এই গোত্রের উদ্ভিদ থেকে মুল্যবান ওষুধ তৈরী হয়।
২। এই গোত্রের উদ্ভিদ থেকে পাউরুটি, বিস্কুট, অ্যালকোহল, ভিনেগার প্রভৃতি তৈরী করা হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৩। আখের ছোবড়া থেকে কাগজ ও পারটেক্স তৈরী করা হয়।
৪। বাঁশ গৃহসজ্জা ও আসবাবপত্র তৈরীতে ব্যবহার হয়। আমাদের দৈনন্দিন কর্মকান্ডে বাঁশের গুরুত্ব অপরিসীম। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৫। লেমন ঘাস সুগন্ধি তেল ও প্রসাধনী তৈরীতে ব্যবহার হয়।

পোয়েসী গোত্র । খাদ্যের যোগানে পোয়েসী গোত্রের ভূমিকা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। ধান, গম, ভুট্রা, জোয়ার, যব, চিনা, কাউন প্রভৃতি মানুষের প্রধান খাদ্য যোগান দেয়। এদের মধ্যে ৪টি প্রজাতি ধান, গম, ভূট্রা ও আখ মানুষের ৬৩% শর্করার চাহিদা পুরণ করে। পৃথিবীর ৬০% মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। ৩৫% মানুষের প্রধান খাদ্য গম। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
২। ধানের চাল থেকে ভাত, চিড়া, মুড়ি, পিঠা, পায়েস প্রভৃতি তৈরী করা হয়।
3। গম থেকে আটা, ময়দা, সুজি প্রভৃতি পাওয়া যায়। রুটি, পাউরুটি, পরোটা, সিঙ্গারা, বিস্কুট প্রভৃতি তৈরীতে ইহা ব্যবহার হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৪। ভূট্রা থেকে পপকন, খই, কর্ণফ্লেক্স প্রভৃতি তৈরী হয়। ইহা হাঁস-মুরগীর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৫। যব বা বার্লি থেকে আটা পাওয়া যায়। যবের ছাতু সহজপ্রাচ্য ও স্বাস্থ্যপ্রদ খাদ্য। ইহা হরলিক্স ও কমপ্ল্যান খাদ্য তৈরীতে ব্যবহার হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৬। আখ থেকে গুড় ও চিনি পাওয়া যায়। এর মলাসেস থেকে ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল, ভিনেগার প্রভৃতি তৈরী করা হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

পোয়েসী গোত্র ।। গবাদিপশু পালনে পোয়েসী গোত্রের ভূমিকা ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। হাজার প্রজাতির ঘাস গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া প্রভৃতি গৃহপালিত পশুর প্রধান খাদ্য। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
২। ধানের খড় গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। ধানের কুড়া থেকে হাঁস-মুরগীর খাদ্য তৈরী করা হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৩। গমের খড় গো-খাদ্য ও অন্যান্য প্রাণীর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়।
৪। আখ থেকে পাতা ও মলাসেস পাওয়া যায়। এগুলো পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৫। দুর্বাঘাস এবং অন্যান্য ঘাস পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়।

পোয়েসী গোত্র । ভূমিক্ষয় রোধে পোয়েসী গোত্রের ভূমিকা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। দুর্বাঘাস, লেমন ঘাস এবং অন্যান্য ঘাস মাটির উপর কার্পেটের মতো জন্মে। তাই বৃষ্টির পানিতে মাটি ধুয়ে যেতে পারে না। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
২। ঝাড়–ঘাস, নলখাগড়া এবং অন্যান্য উদ্ভিদ ঘনসন্নিবিষ্টভাবে জন্মে। তাই পানির প্রবাহ ধীর গতি হয় এবং মাটি ক্ষয় কম হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৩। ধান, গম, যব, বার্লি, কাউন এবং অন্যান্য উদ্ভিদ মাটি সংলগ্ন এবং ঘনভাবে জন্মে। এরা মাটি ক্ষয় রোধ করে। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৪। আখ, ভূট্রা এবং অন্যান্য উদ্ভিদ ঘন ও শক্ত মূলবিশিষ্ট হয়। তাই মাটি আটকে রাখে। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স