ক্যাপসুল একটি শুষ্ক বিদারী ফল। যে ফল পরিপক্ক হলে উপর থেকে নিচের দিকে কয়েকটি কপাটে ফেটে যায় এবং বীজ বিদারিত হয় তাকে ক্যাপসিউল বলে। যেমন- ঢেঁড়স, ধুতুরা, পাট, কার্পাস প্রভৃতি।
Category: Biology Second Paper
অমরাবিন্যাস কী । প্লাসেন্টেশন কী । অমরাবিন্যাস বা প্লাসেন্টেশন এর প্রকারভেদ । Placentation । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
গর্ভাশয়ের ভিতরে যে টিস্যু থেকে ডিম্বক সৃষ্টি হয় তাকে অমরা বা প্লাসেন্টা বলে। গর্ভাশয়ের ভিতরে অমরা গুলো যে ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অমরাবিন্যাস বলে। বিভিন্ন ধরনের অমরাবিন্যাস হলো-
১। প্রান্তীয় বা মার্জিনালঃ এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়ে অমরাগুলো যে কোন এক প্রান্তে যুক্ত থাকলে তাকে প্রান্তীয় বা মার্জিনাল (Marginal) অমরাবিন্যাস বলে। যেমন- মটরশুটি, শিম, অপরাজিতা প্রভৃতি।
২। অক্ষীয় বা অ্যাক্সাইলঃ একাধিক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়ে অমরাগুলো অক্ষের সাথে যুক্ত থাকলে তাকে অক্ষীয় বা অ্যাক্সাইল (Axile) অমরাবিন্যাস বলে। যেমন- জবা, বেগুন, ধুতুরা, রজনীগন্ধা, ঢেঁড়স, কলা প্রভৃতি।
৩। মুক্তমধ্য/ফ্রি সেন্ট্রালঃ এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়ে অমরা গুলো মধ্যঅক্ষের সাথে যুক্ত থাকলে তাকে মুক্তমধ্য বা ফ্রি সেন্ট্রাল (free central) অমরাবিন্যাস বলে। যেমন- বনধনিয়া, তুঁত, নুনিয়া শাক, ডায়ান্থাস প্রভৃতি।
৪। বহুপ্রান্তীয় বা প্যারাইটালঃ একাধিক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়ে অমরাগুলো প্রান্তে যুক্ত থাকলে তাকে বহুপ্রান্তীয় বা প্যারাইটাল (Paraietal) অমরাবিন্যাস বলে। যেমন- শসা, লাউ, সরিষা, কুমড়া, পেঁপে প্রভৃতি।
৫। মূলীয় বা বেসালঃ এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়ে অমরাগুলো গর্ভাশয়ের গোড়ায় যুক্ত থাকলে তাকে মূলীয় বা বেসাল (Basal) অমরাবিন্যাস বলে। যেমন- ধান, সূর্যমুখী, গাদা, ত্রিধারা প্রভৃতি।
৬। শীর্ষক বা এপিক্যালঃ একাধিক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়ে অমরাগুলো গর্ভাশয়ের শীর্ষে যুক্ত থাকলে তাকে শীর্ষক বা এপিক্যাল (Apical) অমরাবিন্যাস বলে। যেমন- ধনিয়া, লালপাতা, ক্রোটন প্রভৃতি।
৭। গাত্রীয় বা সুপারফিশিয়ালঃ একাধিক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়ে অমরাগুলো গর্ভাশয়ের গাত্রে যুক্ত থাকলে তাকে গাত্রীয় বা সুপারফিশিয়াল (Superficial) অমরাবিন্যাস বলে। যেমন- শাপলা, শালুক, পদ্ম, শিয়ালকাঁটা প্রভৃতি।
অমরাবিন্যাস কী । প্লাসেন্টেশন কী । Placentation কী
গর্ভাশয়ের ভিতরে যে টিস্যু থেকে ডিম্বক সৃষ্টি হয় তাকে অমরা বা প্লাসেন্টা বলে। গর্ভাশয়ের ভিতরে অমরা গুলো যে ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অমরাবিন্যাস বলে।
পরাগধানী । পরাগধানীর প্রকারভেদ । Anther । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। পাদলগ্ন পরাগধানীঃ যে পরাগধানীর পাদদেশে পুংদন্ড যুক্ত থাকে তাকে পাদলগ্ন পরাগধানী বলে।
২। পৃষ্ঠলগ্ন পরাগধানীঃ যে পরাগধানীর পৃষ্ঠদেশে পুংদন্ড যুক্ত থাকে তাকে পৃষ্ঠলগ্ন পরাগধানী বলে।
৩। পার্শ্বলগ্ন পরাগধানীঃ যে পরাগধানীর সমগ্র পৃষ্ঠদেশে পুংদন্ড যুক্ত থাকে তাকে পার্শ্বলগ্ন পরাগধানী বলে।
৪। সর্বমুখ পরাগধানীঃ যে পরাগধানী এদিক সেদিক দুলতে থাকে এবং সর্বদিকে মুখ করে অবস্থান করে তাকে সর্বমুখ পরাগধানী বলে। যেমন- ধান।
৫। দললগ্ন পরাগধানীঃ পুংকেশর পাপড়ীর সাথে সংযুক্ত থাকলে তাকে দললগ্ন পরাগধানী বলে। যেমন-ধুতুরা, বেগুন।
৬। বৃক্কাকার পরাগধানীঃ পরাগধানী দেখতে বৃক্কের মতো হলে তাকে বৃক্কাকার পরাগধানী বলে। জবা, কার্পাস প্রভৃতি।
৭। রেখাকার পরাগধানীঃ পরাগধানী সরু ও লম্বা হলে তাকে রেখাকার পরাগধানী বলে।
পুষ্পপত্রবিন্যাস কী । এস্টিভেশন কী । Aestivation । এস্টিভেশন আলোচনা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলো যে ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে পুষ্পপত্রবিন্যাস বা এস্টিভেশন বলে। এস্টিভেশন কয়েক প্রকার হতে পারে। এগুলো হলো–
১। ওপেন বা মুক্তঃ মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলো পরস্পর মুক্ত অবস্থায় থাকলে তাকে ওপেন এস্টিভেশন বলে। যেমন– জবার উপবৃতি, গন্ধরাজের বৃতি প্রভৃতি।
২। ভালভেট বা প্রান্তস্পর্শীঃ মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলো পরস্পর প্রান্ত দ্বারা যুক্ত থাকলে তাকে ভালভেট বা প্রান্তস্পর্শী বলে। যেমন– জবা ফুলের বৃতি, আকন্দ, বাবলা, আতা প্রভৃতি।
৩। টুইস্টেড বা পাকানোঃ মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলো পরস্পর মোড়ানো বা পাকানো অবস্থায় থাকলে তাকে টুইস্টেড বা পাকানো বলে। যেমন– জবা, করবী প্রভৃতি।
৪। ইমব্রিকেটঃ মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলোর মধ্যে একটির উভয় প্রান্ত বাইরে, একটির উভয় প্রান্ত ভিতরে এবং বাকি গুলো মোড়ানো অবস্থায় থাকলে তাকে ইমব্রিকেট বলে। যেমন–কৃঞ্চচূড়া, কালকাসুন্দা, বাদরলাঠি প্রভৃতি।
৫। কুইনকানসিয়ালঃ মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলোর মধ্যে দুইটির উভয় প্রান্ত বাইরে, দুইটির উভয় প্রান্ত ভিতরে এবং বাকিটি মোড়ানো অবস্থায় থাকলে তাকে কুইনকানসিয়াল বলে। যেমন– পেয়ারা, সরিষা, আকন্দ ইত্যাদি।
৬। ভেক্সিলারীঃ মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি পাশের দু’টিকে এবং পাশের দু’টি নিচের ছোট তরীদল দু’টিকে ঢেকে রাখে তাকে ভেক্সিলারী বলে। যেমন– মটরশুটি, শিম, অপরাজিতা, অতসী, বকফুল ইত্যাদি।
৭। কনভ্যুলুটঃ মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলো সংযুক্ত ও সর্পিলাকারে সজ্জিত থাকলে তাকে কনভ্যুলুট বলে। যেমন– ভুঁই আকড়া।
কনভ্যুলুট । কনভ্যুলুট কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলো সংযুক্ত ও সর্পিলাকারে সজ্জিত থাকলে তাকে কনভ্যুলুট বলে। যেমন- ভুঁই আকড়া।
ভেক্সিলারী । ভেক্সিলারী কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি পাশের দু’টিকে এবং পাশের দু’টি নিচের ছোট তরীদল দু’টিকে ঢেকে রাখে তাকে ভেক্সিলারী বলে। যেমন- মটরশুটি, শিম, অপরাজিতা, অতসী, বকফুল ইত্যাদি।
কুইনকানসিয়াল । কুইনকানসিয়াল কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলোর মধ্যে দুইটির উভয় প্রান্ত বাইরে, দুইটির উভয় প্রান্ত ভিতরে এবং বাকিটি মোড়ানো অবস্থায় থাকলে তাকে কুইনকানসিয়াল বলে। যেমন- পেয়ারা, সরিষা, আকন্দ ইত্যাদি।
ইমব্রিকেট । ইমব্রিকেট কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলোর মধ্যে একটির উভয় প্রান্ত বাইরে, একটির উভয় প্রান্ত ভিতরে এবং বাকি গুলো মোড়ানো অবস্থায় থাকলে তাকে ইমব্রিকেট বলে। যেমন-কৃঞ্চচূড়া, কালকাসুন্দা, বাদরলাঠি প্রভৃতি।
টুইস্টেড কী । পাকানো কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলো পরস্পর মোড়ানো বা পাকানো অবস্থায় থাকলে তাকে টুইস্টেড বা পাকানো বলে। যেমন- জবা, করবী প্রভৃতি।