Phytophthora infestans ছত্রাকের কারণে আলুর লেট ব্লাইট রোগ হয়। (তবে Alternaria solani ছত্রাকের কারণে আলুর আর্লি ব্লাইট রোগ হয়)
Category: Biology Second Paper
আইরিশ দুর্ভিক্ষ কী । Irish Potato Famineকী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
আলুর লেট ব্লাইট রোগটির প্রকোপ শীতপ্রধান দেশে সবচেয়ে বেশি। আয়ারল্যান্ডে Irish Lumper নামক একমাত্র আলুর জাত চাষ করা হতো। ১৮৪৩–৪৭ সাল পর্যন্ত জাতটি লেট ব্লাইট রোগে আক্রান্ত হয় এবং ব্যাপক ক্ষতি হয়। ১৮৪০ সালে রোগটি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এটি আইরিশ দুর্ভিক্ষ বা Irish Potato Famine নামে পরিচিত। এর ফলে প্রায় ১০ লক্ষ লোক মারা যায় এবং ২০ লক্ষ লোক দেশ ত্যাগ করে। রোগটির কারণে জার্মানীতেও ৭ লক্ষ লোক মারা যায়।
অ্যাগারিকাস-এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য । Agaricus । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। নমুনাটি দেখতে ছাতার মতো।
২। ছত্রাকটির দেহ দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত। মাইসেলিয়াম ও ফ্রুটবডি।
৩। ইহা বর্ণহীন বা ক্লোরোফিলবিহীন।
৪। ছত্রাকের মাইসেলিয়াম সূত্রাকার এবং হাইফি দ্বারা গঠিত।
৫। এর বায়বীয় অংশ হলো ফ্রুটবডি। ইহা স্টাইপ ও পাইলিয়াস নিয়ে গঠিত।
৬। স্টাইপের মাথায় একটি চক্রাকার অ্যানুলাস থাকে।
৭। পাইলিয়াসের নিম্নতলে চিরুনীর মতো গিল দেখা যায়।
মাশরুম এর পুষ্টিমান ।। অ্যাগারিকাস এর পুষ্টিমান ।। Agaricus । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১০০ গ্রাম মাশরুমে পুষ্টিমান
১। শর্করা ——————— ৪.৩ গ্রাম
২। প্রোটিন ——————— ২.৫ গ্রাম
৩। ভিটামিন
(i) নিয়াসিন —————— ৩.৮ মিগ্রা
(ii) প্যানটোথ্যানিক এসিড —– ১.৫ মিগ্রা
(iii) রিবোফ্ল্যাভিন ———- ০.৫ মিগ্রা
(iv) থায়ামিন —————– ০.১ মিগ্রা
(v) ভিটামিন সি ————— সামান্য
৪। চর্বি ——————- ০.১ গ্রাম
৫। খনিজ লবণ
(i) পটাশিয়াম ————- ৪৪৮ মিগ্রা
(ii) ফসফোরাস ———– ১২০ মিগ্রা
(iii) ক্যালসিয়াম ———- ১৮ মিগ্রা
(iv) সোডিয়াম ———— ৬ মিগ্রা
(v) জিঙ্ক —————– ১.১ মিগ্রা
বিষাক্ত মাশরুম চেনার উপায়
১। বিষাক্ত প্রজাতি গুলো উজ্জ্বল বর্ণের হয়।
২। এরা অ¤ø এবং ঝাঁঝালোগন্ধ যুক্ত হয়।
৩। বিষাক্ত প্রজাতি রোদে জন্মায় না।
৪। বিষাক্ত প্রজাতির ব্যাসিডিওস্পোর বেগুনি বর্ণের।
৫। অধিকাংশ প্রজাতি কাঠের উপর জন্মে।
অ্যাগারিকাস এর অপকারী ভূমিকা । Agaricus । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। বিষাক্ততাঃ মাশরুমের বিষাক্ত প্রজাতি খেলে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর মৃত্যু হতে পারে। Agaricus xanthodermus একটি বিষাক্ত প্রজাতি। সবচেয়ে বেশি বিষাক্ত প্রজাতি হলো Amanita virosa ও Amanita phalloides।
২। মাটির জৈব উপাদান হ্রাসঃ মাশরুম মাটি থেকে জৈব উপাদান গ্রহণ করে। ফলে আবাসস্থলের মাটিতে জৈব উপাদান কমে যায়।
৩। বিনাশী কার্যঃ মাশরুম কাঠ, খড়, বাঁশ, আসবাবপত্র প্রভৃতির ক্ষতি সাধন করে।
অ্যাগারিকাস এর উপকারী ভূমিকা । Agaricus । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। খাদ্য হিসেবেঃ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মাশরুম সুপ্রিয় খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। ইহা টাটকা এবং শুকনো অবস্থায় বাজারে বিক্রি হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রোটিন রয়েছে। মাশরুমের স্যুপ একটি জনপ্রিয় খাবার। বাংলাদেশে ওয়েস্টার মাশরুম Volvariella এবং স্ট্র মাশরুম Pleurotus গণের কয়েকটি প্রজাতি চাষ হচ্ছে। আমেরিকা ও ইউরোপে Agraricus brunnescens (A.bisporus) প্রজাতি ব্যাপক ভাবে চাষ হয়। খাদ্য তালিকায় বহুল ব্যবহৃত Agraricus campestris ও Agraricus bisporus অত্যন্ত উঁচু মানের এবং সুস্বাদু ।
২। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিঃ Agraricus উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ পচিয়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
৩। ওষুধ তৈরী ঃ ওষুধ তৈরীতে ছত্রাকের ব্যবহার হলো-
(i) Agraricus-এ শর্করা ও চর্বি কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগী আদর্শ খাবার হিসেবে ব্যবহার হয়।
(ii) ইহা শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করে।
(iii) Agraricus গর্ভবতী মা ও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
(iv) Agraricus-এ লোভাস্টানিন, এন্টাডেনিন ও ইরিটাডেনিন আছে। ইহা শরীরের কোলেস্টেরল কমায় এবং উচ্চ রক্তচাপ ও হৃৎরোগ নিয়ন্ত্রণ করে।
(v) মেজিক মাশরুমে সিলোসিন ও সিলোসাইবিন থাকে। সিলোসিন ও সিলোসাইবিন হলো হ্যালুসিনোজেন-এর মূল উপাদান। হ্যালুসিনোজেন শরীরের বিষন্নতা দূর করে।
(vi) এতে আঁশ বেশি থাকায় ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধ করে।
৪। ভিটামিন ঃ টাটকা মাশরুম থেকে থায়ামিন, রিবোফ্লোবিন, ভিটামিন C, D, K ও প্যান্টোথেনিক এসিড পাওয়া যায়।
৫। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ঃ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাশরুম অত্যন্ত দামী খাবার। ব্যাপকভাবে মাশরুম চাষ ও রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়।
৬। বেকারত্ব দূরীকরণ ঃ মাশরুম চাষ করে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বাংলাদেশের সাভার ও মানিক গঞ্জে মাশরুম শিল্প গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ৭৮০ মিলিয়ন পাউন্ড মাশরুম চাষ হয়।
৭। দূষণরোধ ঃ পরিবেশ থেকে শিল্পবর্জ্য, তেল এবং পেস্টিসাইড অপসারণে Agaricus ব্যবহার হয়।
৮। দারিদ্রতা বিমোচন ঃ মাশরুম চাষ একটি শ্রমনির্ভর কুটির শিল্প। পরিবারের নারী-পুরুষ একত্রে মাশরুম চাষ করছে। পরিবারের দারিদ্রতা দূর হয়েছে। সাভার এবং মানিকগঞ্জে অনেক মাশরুম শিল্প গড়ে উঠেছে।





ওষুধ তৈরীতে অ্যাগারিকাস এর ভূমিকা । Agraricus । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ওষুধ তৈরীতে ছত্রাকের ব্যবহার হলো-
(i) Agraricus-এ শর্করা ও চর্বি কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগী আদর্শ খাবার হিসেবে ব্যবহার হয়।
(ii) ইহা শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করে।
(iii) Agraricus গর্ভবতী মা ও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
(iv) Agraricus-এ লোভাস্টানিন, এন্টাডেনিন ও ইরিটাডেনিন আছে। ইহা শরীরের কোলেস্টেরল কমায় এবং উচ্চ রক্তচাপ ও হৃৎরোগ নিয়ন্ত্রণ করে।
(v) মেজিক মাশরুমে সিলোসিন ও সিলোসাইবিন থাকে। সিলোসিন ও সিলোসাইবিন হলো হ্যালুসিনোজেন-এর মূল উপাদান। হ্যালুসিনোজেন শরীরের বিষন্নতা দূর করে।
(vi) এতে আঁশ বেশি থাকায় ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধ করে।
খাদ্য হিসেবে অ্যাগারিকাস এর ভূমিকা । Agraricus । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ব্যাসিডিওকার্প কী । Basidiocarp কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ব্যাসিডিওমাইসিটিস শ্রেণীর ছত্রাকের ফ্রুটবডিকে ব্যাসিডিওকার্প বলে। Agaricus ব্যাসিডিওমাইসিটিস শ্রেণীর ছত্রাক। তাই Agaricus-এর ফ্রুটবডিকে ব্যাসিডিওকার্প বলা হয়। ইহা দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত। স্টাইপ ও ফ্রুটবডি। শাখা-প্রশাখাবিহীন কান্ডের ন্যায় অংশকে স্টাইপ বলে। স্টাইপের উপরে বিদ্যমান চক্রাকার অংশকে অ্যানুলাস বলে। ছাতার ন্যায় স্ফীত অংশকে পাইলিয়াস বলে। এর অংকীয়তলে গিল থাকে। গিলে ব্যাসিডিয়া থাকে। ব্যাসিডিয়ামে ব্যাসিডিওস্পোর থাকে। বিজ্ঞানী হাউকার (Hawker, 1966)-এর মতে, একটি ব্যাসিডিওকার্পে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ব্যাসিডিওস্পোর সৃষ্টি হতে পারে।