রক্ত সংবহন কী । Blood Circulation । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে প্রক্রিয়ায় রক্ত বাহিকার মধ্য দিয়ে হৃৎপিন্ড হতে O2 যুক্ত রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে যায় এবং দেহের বিভিন্ন অংশ হতে CO2 যুক্ত রক্ত পুনরায় হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে তাকে রক্ত সংবহন বলে। যকৃতে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় (১৩৫০ মিলি/মিনিট) রক্ত প্রবাহিত হয়। বৃক্কে দ্বিতীয় মাত্রায় (১১০০ মিলি/মিনিট) এবং মস্তিস্কে তৃতীয় মাত্রায় (৭০০ মিলি/মিনিট) রক্ত প্রবাহিত হয়।

রক্তবাহিকা আলোচনা । ধমনীর বৈশিষ্ট্য । শিরার বৈশিষ্ট্য । Blood vessels। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব নালিকার মধ্য দিয়ে রক্ত হৃৎপিন্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে এবং দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে পুনরায় হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে তাকে রক্ত বাহিকা বলে। রক্তবাহিকা তিন ধরনের। ধমনী, শিরা ও কৈশিক জালিকা।

১। ধমনী (Artery)

যে সব রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে O2 যুক্ত রক্ত হৃৎপিন্ড হতে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছায় তাকে ধমনী বলে। ধমনীর বৈশিষ্ট্য হলো-

(i) ধমনীর প্রাচীর পুরু, মজবুত ও স্থিতিস্থাপক।

(ii) এর প্রাচীর তিনটি স্তরে বিভক্ত। টিউনিকা এক্সটার্না, টিউনিকা মিডিয়া ও টিউনিকা ইন্টিমা।

(iii) ইহা হৃৎপিন্ড হতে উৎপন্ন হয়।

(iv) এদের লুমেন বা গহŸর ছোট।

(v) এতে কপাটিকা থাকে না।

(vi) ধমনী উচ্চ রক্তচাপে রক্ত বহন করে।

(vii) ইহা O2 যুক্ত রক্ত বহন করে।

২। শিরা (Veins)

যে সব রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ হতে হৃৎপিন্ডে পৌছে তাকে শিরা বলে। শিরার বৈশিষ্ট্য হলো-

(i) শিরার প্রাচীর পাতলা ও অস্থিতিস্থাপক।

(ii) এর প্রাচীর তিনটি স্তরে বিভক্ত। টিউনিকা এক্সটার্না, টিউনিকা মিডিয়া ও টিউনিকা ইন্টিমা।

(iii) ইহা দেহকোষ হতে উৎপন্ন হয়।

(iv) এদের লুমেন বা গহ্বর বড়।

(v) এতে কপাটিকা থাকে।

(vi) ধমনী নিম্ন রক্তচাপে রক্ত বহন করে।

(vii) ইহা CO2 যুক্ত রক্ত বহন করে।

৩। কৈশিক জালিকা (Capillaries)

সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম যে সব রক্তবাহিকা ধমনী ও শিরার সংযোগ স্থলে জালিকাকারে বিন্যস্ত থাকে তাকে রক্তজালক বা কৈশিক জালিকা বলে। কৈশিকজালিকার মাধ্যমে খাদ্যসার, শ^সন বায়ু, রেচনদ্রব্য প্রভৃতির আদান-প্রদান ঘটে।   যে সব রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ হতে হৃৎপিন্ডে পৌছে তাকে শিরা বলে।

কৈশিক জালিকা কী । Capillaries কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম যে সব রক্তবাহিকা ধমনী ও শিরার সংযোগ স্থলে জালিকাকারে বিন্যস্ত থাকে তাকে রক্তজালক বা কৈশিক জালিকা বলে। কৈশিকজালিকার মাধ্যমে খাদ্যসার, শ^সন বায়ু, রেচনদ্রব্য প্রভৃতির আদান-প্রদান ঘটে।   যে সব রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ হতে হৃৎপিন্ডে পৌছে তাকে শিরা বলে।

শিরা কী । শিরার বৈশিষ্ট্য কীকী । Veins কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ হতে হৃৎপিন্ডে পৌছে তাকে শিরা বলে। শিরার বৈশিষ্ট্য হলো-
(i) শিরার প্রাচীর পাতলা ও অস্থিতিস্থাপক।
(ii) এর প্রাচীর তিনটি স্তরে বিভক্ত। টিউনিকা এক্সটার্না, টিউনিকা মিডিয়া ও টিউনিকা ইন্টিমা।
(iii) ইহা দেহকোষ হতে উৎপন্ন হয়।
(iv) এদের লুমেন বা গহ্বর বড়।
(v) এতে কপাটিকা থাকে।
(vi) ধমনী নিম্ন রক্তচাপে রক্ত বহন করে।
(vii) ইহা CO2 যুক্ত রক্ত বহন করে।

ধমনী কী । ধমনীর বৈশিষ্ট্য কী কী । Artery । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে O2 যুক্ত রক্ত হৃৎপিন্ড হতে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছায় তাকে ধমনী বলে। ধমনীর বৈশিষ্ট্য হলো-

(i) ধমনীর প্রাচীর পুরু, মজবুত ও স্থিতিস্থাপক।

(ii) এর প্রাচীর তিনটি স্তরে বিভক্ত। টিউনিকা এক্সটার্না, টিউনিকা মিডিয়া ও টিউনিকা ইন্টিমা।

(iii) ইহা হৃৎপিন্ড হতে উৎপন্ন হয়।

(iv) এদের লুমেন বা গহŸর ছোট।

(v) এতে কপাটিকা থাকে না।

(vi) ধমনী উচ্চ রক্তচাপে রক্ত বহন করে।

(vii) ইহা O2 যুক্ত রক্ত বহন করে।

মায়োজেনিক হার্ট কী । Myogenic heart কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে হৃৎপিন্ডে হৃৎস্পন্দন পেসমেকার দ্বারা উৎপন্ন হয় তাকে মায়োজেনিক হার্ট বলে। যেমনমানুষের হৃৎপিন্ড।

মায়োজেনিক নিয়ন্ত্রণের উপায় । কার্ডিয়াক চক্র নিয়ন্ত্রণের উপায়। হার্ট বিট নিয়ন্ত্রণের উপায় । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

বাইরের কোন উদ্দীপনা ছাড়াই হৃৎপিন্ডের ক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়াকে মায়োজেনিক নিয়ন্ত্রণ বলে। স্তন্যপায়ীর হৃৎপিন্ড বিছিন্ন করে O2 সমৃদ্ধ লবণের দ্রবণে ৩৭ ডিগ্রী সে তাপমাত্রায় রেখে দিলে বাইরের কোন উদ্দীপনা ছাড়াই হার্টবিট চলতে থাকে। হৃৎপিন্ডের প্রাচীরের রুপান্তরিত পেশি মায়োজেনিক প্রকৃতির জন্য দায়ি। এরা সম্মিলিত ভাবে মায়োজেনিক চক্র নিয়ন্ত্রণ করে।

Kitch ও  Flack-এর মতে, ডান অলিন্দের প্রাচীরে অবস্থিত SAN থাকে। ইহা বাইরের কোন উদ্দীপনা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে  ইলেকট্রিকাল সিগন্যাল সৃষ্টি করে। এই ইলেকট্রিকাল সিগন্যাল ডান অলিন্দের প্রাচীরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ডান অলিন্দ থেকে বাম অলিন্দে পৌছে। ফলে অলিন্দ দুইটি একই সাথে সংকুচিত হয়। অতঃপর ইলেকট্রিকাল সিগন্যাল SAN থেকে AVN-এ আসে। AVN থেকে সিগন্যাল বান্ডল অব হিজে পৌছে। এরপর বান্ডল অব হিজ থেকে সিগন্যাল নিলয়ের পারকিনজি ফাইবারে পৌছে। পারকিনজি সূত্রকের মাধ্যমে উদ্দীপনা নিলয়ের প্রাচীরে সঞ্চারিত হয়। ফলে নিলয় সংকুচিত হয়।

কার্ডিয়াক চক্র কী । কার্ডিয়াক চক্র আলোচনা । হৃদস্পন্দনের দশা আলোচনা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

প্রতিটি হার্টবিট সম্পন্ন করতে হৃৎপিন্ডে পর পর যে সব ঘটনা সংঘটিত হয় সে গুলোর সমষ্টিকে কার্ডিয়াক চক্র বলে। যদি প্রতি মিনিটে গড়ে ৭৫ বার হৃৎস্পন্দন হয় তবে কার্ডিয়াক চক্রের সময় কাল ৬০÷৭৫ = ০.৮ সেকেন্ড।

কার্ডিয়াক চক্রের ধাপ

হৃৎপিন্ডের কার্ডিয়াক চক্র চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এ গুলো হলো-

১। অলিন্দ বা অ্যাট্রিয়ামের ডায়াস্টোলঃ এ সময় অলিন্দ দুটি প্রসারিত অবস্থায় থাকে। বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা দুটি বন্ধ থাকে। অলিন্দ দুটির মধ্যবর্তী চাপ  কমে যায়। ফলে দেহের উপরের অংশ হতে সুপিরিয়র ভেনাক্যাভা এবং নিচের অংশ হতে ইনফিরিয়র ভেনাক্যাভার মধ্য দিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত ডান অলিন্দে প্রবেশ করে। একই সময়ে ফুসফুসীয় শিরার মধ্য দিয়ে  O2 যুক্ত রক্ত বাম অলিন্দে প্রবেশ করে। এ দশার সময় কাল ০.৭ সেকেন্ড।

২। অলিন্দ বা অ্যাট্রিয়ামের সিস্টোলঃ এ সময় অলিন্দ দুটি সংকুচিত হয়। বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খুলে যায়। তবে সেমিলুনার কপাটিকা বন্ধ থাকে। অলিন্দ দুটির মধ্যবর্তী চাপ  বেড়ে যায়। ফলে ডান অলিন্দ হতে CO2 যুক্ত রক্ত ডান নিলয়ে এবং বাম অলিন্দ হতে O2 যুক্ত রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে। এ দশার সময় কাল ০.১ সেকেন্ড। এর মধ্যে প্রথম ০.০৫ সেকেন্ড সঙ্কোচন সর্বোচ্চ মাত্রায় থাকে। একে ডায়নামিক পর্যায় বলে। দ্বিতীয় ০.০৫ সেকেন্ড ক্ষীণতর হতে হতে প্রশমিত হয়। একে অ্যাডায়নামিক পর্যায় বলে।

৩। নিলয় বা ভেন্ট্রিকলের সিস্টোলঃ এ সময় নিলয় দুটি রক্তপূর্ণ অবস্থায় সংকুচিত হয়। বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খোলা থাকে। নিলয় দুটির মধ্যবর্তী চাপ বেড়ে যায়। ফলে ডান নিলয় হতে CO2 যুক্ত রক্ত পালমোনারী ধমনীতে এবং বাম নিলয় হতে O2 যুক্ত রক্ত মহাধমনী বা অ্যাওর্টায় প্রবেশ করে। এ দশার সময় কাল ০.৩ সেকেন্ড।

৪। নিলয় বা ভেন্ট্রিকলের ডায়াস্টোলঃ এ সময় নিলয় দুটি প্রসারিত বা শিথিল অবস্থায় থাকে। বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খোলা থাকে। তবে সেমিলুনার কপাটিকা বন্ধ থাকে। নিলয় দুটির মধ্যবর্তী চাপ  কমে যায়। ফলে ডান অলিন্দ হতে CO2 যুক্ত রক্ত ডান নিলয়ে  এবং বাম অলিন্দ হতে O2 যুক্ত রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে। এ দশার সময় কাল ০.৫ সেকেন্ড।

একটি সিস্টোল ও একটি ডায়াস্টোল-এর সমন্বয়ে প্রতি (০.৭+০.১=০.৮ অথবা ০.৩+০.৫= ০.৮) ০.৮ সেকেন্ডে একটি হৃৎস্পন্দন বা কার্ডিয়াক চক্র সম্পন্ন হয়। হৃৎস্পন্দনের সময় যে শব্দ শোনা যায় তাকে লাব-ডাব (Lub-dub) বলে।

কার্ডিয়াক চক্র কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

প্রতিটি হার্টবিট সম্পন্ন করতে হৃৎপিন্ডে পর পর যে সব ঘটনা সংঘটিত হয় সে গুলোর সমষ্টিকে কার্ডিয়াক চক্র বলে। যদি প্রতি মিনিটে গড়ে ৭৫ বার হৃৎস্পন্দন হয় তবে কার্ডিয়াক চক্রের সময় কাল ৬০÷৭৫ = ০.৮ সেকেন্ড।

হার্ট বিট কী । Heart beat কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ছন্দময় গতিতে হৃৎপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণকে একত্রে হার্ট বিট বলে। পূর্ণবয়স্ক মানুষের হৃৎপিন্ড প্রতি মিনিটে ৭০-৮০ বার স্পন্দিত হয় (গড়ে ৭৫ বার)। সিমপ্যাথেটিক স্নায়ু এবং অ্যাড্রেনালিন ও থাইরক্সিন হরমোন হৃদস্পন্দন হার বৃদ্ধি করে। প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ু হৃদস্পন্দন হার কমায়। হার্ট বিট দু’ধরনের। –

১। লাবঃ সিস্টোলের শুরুতে অলিন্দ-নিলয় কপাটিকা (বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড) বন্ধ হওয়ার সময় যে শব্দ হয় তাকে লাব বলে।

২। ডাবঃ সিস্টোলের শেষে সেমিলুনার কপাটিকা বন্ধ হওয়ার সময় যে শব্দ হয় তাকে ডাব বলে।