উচ্চচাপ ব্যারোরিসিপ্টার কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

অ্যাওর্টিক আর্চ ও ক্যারোটিড সাইনাসে যে সব সংবেদী স্নায়ু কোষ থাকে তাদেরকে উচ্চচাপ ব্যারোরিসিপ্টার বলে। এরা সিস্টেমিক রক্তচাপ এবং মস্তিস্কের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

(i) নি¤œ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ হৃৎপিন্ড এবং রক্তনালিকায় রক্তচাপ কমে গেলে ব্যারোরিসেপ্টারের সংকেত মাত্রা কমে যায়। এই সংবাদ গ্লোসোফ্যারিঞ্জিয়াল এবং ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে মেডুলা অবলংগাটায় পোঁছায়। মেডুলা অবলংগাটা থেকে সংকেতগুলো হৃৎপেশি, প্রেসমেকার ও রক্তনালিকায় আসে। এতে হৃৎপিন্ডের স্পন্দন বেড়ে যায় এবং রক্তনালিকা সংকুচিত হয়। ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়।

ব্যারোরিসিপ্টার কী । Baroreceptors কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মেরুদন্ডী প্রাণীর রক্ত বাহিকায় বিদ্যমান যে সব সংবেদী ¯œায়ুকোষ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে তাদেরকে ব্যারোরিসিপ্টার বলে। ইহা হৃৎস্পন্দন ও শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে অস্বাভাবিক রক্তচাপকে স্বাভাবিক রক্তচাপে পরিনত করে। তাই এই প্রক্রিয়াকে ব্যারোরিফ্লেক্স (Baroreflex) বলে। ব্যারোরিসিপ্টার দু’ধরনের। উচ্চচাপ ব্যারোরিসিপ্টার  এবং নিম্নচাপ ব্যারোরিসিপ্টার

রক্তচাপ কী । Blood Pressure । উচ্চ রক্তচাপ । নিম্ন রক্তচাপ । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রক্তবাহিকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় রক্ত যে চাপ দেয় তাকে রক্তচাপ বলে। মানুষের রক্তচাপ পরিমাপের যন্ত্র হলো স্ফিগমোম্যানোমিটার। ইহা দুই ধরনের।

১। সিস্টোলিক বা উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension) হৃৎপিন্ডের ভেন্ট্রিকল সংকুচিত থাকা অবস্থায় প্রবাহমান রক্ত ধমনীর প্রাচীরে যে সর্বোচ্চ চাপ দেয় তাকে সিস্টোলিক চাপ বলে। ইহা ১২০ মিমি পারদ চাপের সমান।

২। ডায়াস্টোলিক বা নিম্ন রক্তচাপ (Hypotension) হৃৎপিন্ডের ভেন্ট্রিকল প্রসারিত থাকা অবস্থায় প্রবাহমান রক্ত ধমনীর প্রাচীরে যে সর্ব নিম্নচাপ দেয় তাকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলে। ইহা ৮০ মিমি পারদ চাপের সমান।

হৃৎপিন্ড কখনো অবসন্ন হয় না কেন । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 হৃৎপিন্ড হৃৎপেশি দ্বারা গঠিত। হৃৎপেশি দীর্ঘতম নিঃসাড় কালের অধিকরী হয়। ইহা কখনো অবসন্ন হয় না। সাধারণত কোন কোষে বিপাকীয় বর্জ্য (ল্যাকটিক এসিড) জমা হলে তা অবসন্ন হয়। কিন্তু হৃৎপেশির নিঃসাড়কাল দীর্ঘ হওয়ায় বিপাকীয় বর্জ্য খুব সহজে মুক্ত হয়ে যায়। এছাড়া হৃৎপেশি সরাসরি ল্যকটিক এসিডকে পুষ্টি হিসেবে ব্যবহার করে। একারণে হৃৎপেশিতে বর্জ্য জমা হতে পারে না। তাই হৃৎপিন্ড কখনও অবসন্ন হয়।

দ্বি-বর্তনী সংবহন কী । দ্বি-বর্তনী সংবহন আলোচনা । Double circulation কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সংবহনে রক্ত সমগ্র দেহে একবার সংবহনের জন্য দুইবার হৃৎপিন্ড অতিক্রম করে তাকে দ্বি-বর্তনী সংবহন বলে। মানুষের হৃৎপিন্ডে দ্বি-বর্তনী সংবহন ঘটে। দ্বি-বর্তনী সংবহনের মধ্যে একটি পালমোনারী সংবহন এবং অপরটি সিস্টেমিক সংবহন।

১। পালমোনারী সংবহনঃ  পালমোনারী সংবহনে হৃৎপিন্ডের ডান নিলয় হতে CO2 যুক্ত রক্ত সেমিলুনার কপাটিকার মাধ্যমে পালমোনারী ধমনীতে প্রবেশ করে। পালমোনারী ধমনী হতে রক্ত ফুসফুসে আসে। ফুসফুসে রক্ত বিশুদ্ধ হয়। এরপর ফুসফুস হতে O2 যুক্ত রক্ত পালমোনারী শিরার মধ্য দিয়ে বাম অলিন্দে প্রবেশ করে।

২। সিস্টেমিক সংবহনঃ  সিস্টেমিক সংবহনে হৃৎপিন্ডের বাম নিলয় হতে O2 যুক্ত রক্ত অ্যাওর্টা বা মহাধমনীতে প্রবেশ করে। অ্যাওর্টা হতে রক্ত ধমনী ও কৈশিক জালিকার মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গ, কলা ও কোষে প্রবাহিত হয়। রক্তের মাধ্যমে কলা-কোষে O2, পুষ্টি উপাদান, হরমোন প্রভৃতি পৌছে।

দ্বি-বর্তনী সংবহন কী Double circulation কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সংবহনে রক্ত সমগ্র দেহে একবার সংবহনের জন্য দুইবার হৃৎপিন্ড অতিক্রম করে তাকে দ্বি-বর্তনী সংবহন বলে। মানুষের হৃৎপিন্ডে দ্বি-বর্তনী সংবহন ঘটে। দ্বি-বর্তনী সংবহনের মধ্যে একটি পালমোনারী সংবহন এবং অপরটি সিস্টেমিক সংবহন।

পোর্টাল সংবহন কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

কোন কোন অঙ্গ থেকে কৈশিক জালিকা উৎপন্ন হয়। কৈশিক জালিকা গুলো মিলিত হয়ে শিরা গঠন করে। শিরার মাধ্যমে রক্ত এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে পৌছে। মেরুদন্ডি প্রাণীতে হেপাটিক ও রেনাল এই দুই ধরনের পোর্টাল সংবহন দেখা যায়।

করোনারী সংবহন কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

সিস্টেমিক ধমনীর গোড়া হতে করোনারী ধমনী সৃষ্টি হয়। করোনারী ধমনীর মধ্য দিয়ে O2 যুক্ত রক্ত হৃৎপিন্ডের প্রাচীরে যায়। এরপর হৃৎপিন্ডের প্রাচীর হতে করোনারী শিরার মধ্য দিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত পুনরায় হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে।

পালমোনারী সংবহন কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পালমোনারী সংবহনে হৃৎপিন্ডের ডান নিলয় হতে CO2 যুক্ত রক্ত সেমিলুনার কপাটিকার মাধ্যমে পালমোনারী ধমনীতে প্রবেশ করে। পালমোনারী ধমনী হতে রক্ত ফুসফুসে আসে। ফুসফুসে রক্ত বিশুদ্ধ হয়। এরপর ফুসফুস হতে O2 যুক্ত রক্ত পালমোনারী শিরার মধ্য দিয়ে বাম অলিন্দে প্রবেশ করে।

সিস্টেমিক সংবহন কী । সিস্টেমিক সংবহন আলেঅচনা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

সিস্টেমিক সংবহনে হৃৎপিন্ডের বাম নিলয় হতে O2 যুক্ত রক্ত অ্যাওর্টা বা মহাধমনীতে প্রবেশ করে। অ্যাওর্টা হতে রক্ত ধমনী কৈশিক জালিকার মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গ, কলা কোষে প্রবাহিত হয়। রক্তের মাধ্যমে কলাকোষে O2, পুষ্টি উপাদান, হরমোন প্রভৃতি পৌছে।

এরপর বিভিন্ন অঙ্গ, কলা কোষ হতে CO2 যুক্ত রক্ত কৈশিক জালিকায় প্রবেশ করে। কৈশিক জালিকা হতে রক্ত আসে উপশিরায়। উপশিরা হতে রক্ত শিরায় পৌছে। দেহের উপরের অংশের শিরা গুলো সুপিরিয়র ভেনাক্যাভায় এবং নিচের অংশের শিরা গুলো ইনফিরিয়র ভেনাক্যাভায় রক্ত পৌছে দেয়। সবশেষে সুপিরিয়র ভেনাক্যাভা ইনফিরিয়র ভেনাক্যাভার মাধ্যমে CO2 যুক্ত রক্ত হৃৎপিন্ডের ডান অলিন্দে আসে। এভাবে হৃৎপিন্ড হতে  রক্ত প্রবাহিত হয়ে পুনরায়  হৃৎপিন্ডে ফেরত আসতে সময় লাগে ২৫৩০ সেকেন্ড।